কুরবানীর ফজিলত
এহসান বিন মুজাহির: কুরবানী গুরুত্বপুর্ণ একটি ইবাদত। সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর কোরবানি ওয়াজিব একটি বিধান। কোরবানির ফজিলত সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে অনেক আয়াত ও হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে। কোরবানির ফজিলত প্রসঙ্গে মহান রাব্বুল আলামিন কুরআন কারিমে এরশাদ করেন-‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানি নির্ধারন করেছি যাতে তাঁরা হালাল পশু জবেহ করার সময় আলাহর নাম উচ্চারন করে। (হজ:৩৪)
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন-‘নিশ্চই আমার নিকট কুরবানির পশুর গোশত ও রক্ত কিছুই কবুল হয় না, তবে আমার নিকট পৌছে একমাত্র তাকওয়া। -হজ:৩৭
কোরবানি শব্দটি আরবি। এর উৎপত্তি হয়েছে ‘কোরবানুন’ মাসদার থেকে। কোরবানি শব্দটির বেশ কয়েকটি অর্থ রয়েছে। তন্মধ্যে কয়েকটি হলো; নৈকট্য, সান্নিধ্য, আত্মত্যাগ, জবেহ, রক্তপাত ইত্যাদি। শরীয়তের পরিভাষায় কুরবানি বলা হয়, মহান রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য ও সন্তোষ লাভের আশায় নির্ধারিত তারিখের মধ্যে হালাল কোন পশু আল্লাহর নামে জবেহ করা। আবার এভাবেও বলা যেতে পারে যে, প্রত্যেক এমন নেক আমল বা ত্যাগ, যার মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন করা সম্ভবপর হয়। কুরবানি নতুন কোন প্রথা নয়, বরং এটা আদিকাল থেকে চলে আসছে। হযরত আদম (আ:) এর যুগে কুরবানির সুচনা হয়েছিল। আদম (আ:) এর সন্তান হাবিল কাবিলের মধ্যে বিবাহ-শাদী নিয়ে যখন মতানৈক্য দেখা দিল তখন আলাহ তায়ালা তাদেরকে ইখলাসের সঙ্গে হালাল পশু কুরবানি করার নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন তোমাদের মধ্যে যার কুরবানি আমার নিকট কবুল হবে তার নিকট মেয়ে বিবাহ দেয়া হবে। হাবিল এবং কাবিল কুরবানির নির্দেশ পেয়ে কুরবানি করল। হাবিলের কুরবানি আলাহর কাছে কবুল হল, কাবিলের হলোনা। কাবিলের কুরবানি কবুল না হওয়ার কারণে সে ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিলকে বলল আমি তোমাকে হত্যা করে ফেলব। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-‘হে নবী আপনি তাদের নিকট যথাযথভাবে আদম (আ:) এর পুত্রদ্বয়ের কথা আলোচনা করেন, যখন তারা মহান রবের নিকট তাদের কুরবানিকে পেশ করল, তখন একজনের কবুল হল অন্যজনের হলো না। যার কুরবানি কবুল হলো না সে ক্ষিপ্ত হয়ে অন্যজনকে বলল আমি তোমাকে খুন তথা হত্যা করে ফেলবো। পালনকর্তা একমাত্র মুত্তাকীদের কুরবানি কবুল করেন’। (সূরা মায়িদা:২৭)
রাসুলুল্লাহ (সা:) ইরশাদ করেন,‘কোরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই কোরবানিদাতার কোরবানি আলাহর দরবারে কবুল হয়ে যায় এবং তাঁর অতীতের সকল গুনাহ মোচন করে দেয়া হয়। (তিরমিযি শরিফ:১/১৮০)
মহানবী (সা:) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা মোটা তাজা পশু দেখে কুরবানি কর,কারণ এ পশুই পুলসিরাতের বাহক হবে। (মুসলিম শরিফ)
বিশিষ্ট সাহাবি হযরত আব্দুলাহ ইবনে উমর (রা:) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন ,রাসুল (সা:) পবিত্র মদিনায় দশ বৎসর জীবন-যাপন করেছেন প্রত্যেক বছরই তিনি পশু কুরবানি করেছেন। (তিরমিযি শরীফ:১/১৮৯)
হযরত আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন রাসুল (সা:) ইরশাদ করেন,‘কুরবানির দিন আলাাহর নিকট কুরবানি অপেক্ষা উত্তম কোন আমল আর নেই। -মিশকাত শরিফ
বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবু হোরায়রা রা: থেতে বর্ণিত, নবী করীম সা: ইরশাদ করেন-‘সামর্থ্য থাকা সত্তে¡ও যে ব্যাক্তি কুরবানির দিন কুরবানি করেনা সে যেন ঈদুল আজহার দিন ঈদগাহের ময়দানের কাছে না যায়। (ইবনে মাজাহ শরিফ)
একদিন হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রা:) রাসুল সা: এর নিকট জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসুলালাহ! কুরবানি কি? তখন উত্তরে রাসুল সা: ইরশাদ করলেন কুরবানি হচ্ছে ‘তোমাদের পিতা ইবরাহিম আ:এর জীবনাদর্শ’সাহাবী পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন কুরবানির ফজিলত কি? রাসুল সা: বললেন- পশুর পশমের পরিবর্তে একেকটি করে নেকি দেয়া হয়’। (মিশকাত শরিফ: ১/১২৯)
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও আলেম।
Related News
রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে
ধর্ম ডেস্ক: ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর)Read More
তাবলিগ জামাতের উভয় পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মাওলানা মছব্বিরের
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে তাবলীগ জামাতের উভয় পক্ষকে সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারRead More



Comments are Closed