Main Menu

২৮ আগস্ট নয় ঘন্টার ধর্মঘট সফলে সিলেটে সভা

দক্ষিন সুরমা প্রতিনিধি: ১২ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটারস, এজেন্টস্ এন্ড পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ঘোষিত ৯ ঘন্টার ধর্মঘট কর্মসূচি সফলের লক্ষ্যে যৌথ বৈঠক করেছে পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখা ও সিলেট জেলা ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন।
২৩ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে এসোসিয়েশন কার্যালয়ে কর্মসূচি সফলে উভয় সংগঠনের এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ২৮ আগস্ট রোববার ভোর ৬টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ৯ ঘন্টা দেশের প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের সামগ্রিক কার্যক্রম বন্ধ এবং ট্যাংকলরি শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করবেন। এ সময় জ্বালানি তেল উত্তোলন, পরিবহন, বিপনন ও বিক্রি বন্ধ থাকবে।
পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-প্রধান উপদেষ্টা ও সিলেট বিভাগীয় শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সিলেট বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরীর পরিচালনায় জরুরী সভায় অংশ নেন সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান মানিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ রোকন উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ সিরাজুল হোসেন আহমদ, প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন আহমদ, কল্যাণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ ইউসুফ আলী, নির্বাহী সদস্য আব্দুল মুনায়েম চৌধুরী, নুরুল ওয়াছে আলতাফী, ইনামুল হক রুবেল এবং ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা মোঃ চেরাগ আলী, নবীর হোসেন, সানোয়ার হোসেন, মখতজিল আলী, ইকবাল হোসেন, আব্দুল হান্নান, ইকবাল হোসেন রিপন, আব্দুল মুমিন প্রমুখ। সভায় বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট বিভাগীয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিরুজ্জামান চৌধুরী দুলু উপস্থিত হয়ে পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ঘোষিত ৯ ঘন্টা ধর্মঘট কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।
সভায় বক্তারা পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ঘোষিত ১২ দফা কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, জ্বালানি তেল ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সেক্টরে যে অব্যবস্থা ও বৈষম্য বিরাজ করছে, তা অসহনীয়। অবিলম্বে দাবি সমুহ মেনে রাষ্ট্র ও জাতীয় জীবনে স্পর্শকাতর এ ব্যবসার সাথে জড়িতদের প্রতি সুবিচার করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। তারা বলেন, জ্বালানি ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা কোন অবস্থাতেই জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়, এমন কর্মসূচি প্রদান থেকে বিরত থাকতে চান। কিন্তু বার বার উত্থাপন স্বত্তে¡ও যখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে না, তখন ব্যবসায়ি ও জ্বালানি পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হন।
পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ঘোষিত ১২ দফা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সওজ অধিদপ্তরের ইজারা মাশুল অস্বাভাবিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল, শ্রম মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০০৮ সালের ১০ জুন জারিকৃত এসআরও নং-১৪১ বাতিল করে ট্যাংকলরিকে পৃথক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করে নতুন এসআরও জারি, বাস্তবতার নিরিখে তেল বিক্রির কমিশন ও ট্যাংকলরির ভাড়া বৃদ্ধি, ট্যাংকলরি শ্রমিকদের ৫ লাখ টাকার দূর্ঘটনা বীমা প্রথা চালু, অপারেশন লস, ইভাপোরেশন লস এবং বিএসটিআই টলারেন্স মাত্রা যৌক্তিক হারে নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ কর্তৃক পরীক্ষান্তে পুনঃনির্ধারণ, ফেরি পারাপারের ক্ষেত্রে ট্যাংকলরিকে অগ্রাধিকার প্রদান, ভেজাল রোধে বেসরকারি রিফাইনারি কর্তৃক বাজারে তেল বিক্রি বন্ধ অথবা তাদের সরবরাহকৃত তেল বিক্রির অনুমতি প্রদান, সরকারি প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী বিদ্যমান ট্যাংকলরি টার্মিনাল সংস্কার ও প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন টার্মিনাল স্থাপন, পেট্রোল পাম্প স্থাপনের নীতিমালা পূনর্বিন্যাস, ট্যাংকলরি চলাচলে রাস্তায় অহেতুক পুলিশী হয়রানি বন্ধ, পেট্রোলপাম্প পরিদর্শনকালে বিপিসি ও এসোসিয়েশনের প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং বিএসটিআই টলারেন্স মাত্রার হার যাচাইপূর্বক পুনঃনির্ধারণ না করা পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed