Main Menu

সিলেটে সাবেক কাউন্সিলর শানুর স্বামী তাজুলকে কুপিয়ে হত্যা

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও নগরীর শেখঘাট খুলিয়াপাড়ার বাসিন্দা শাহানা বেগম শানুর স্বামী স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা তাজুল ইসলাম (৫৫)কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃক্তরা।
শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর খুলিয়াটুলা গরম দেওয়ান মাজারের সম্মুখে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রাস্তায় ফেলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে তার মৃত্য হয় বলে চিকিৎসকরা জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাজুল ইসলাম ওই সময় বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় মোটর সাইকেলযোগে আসা তিন যুবক তার গতিরোধ করে। তারা প্রথমে তার চোখে চুন ছিটিয়ে দেয়। এরপর তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে যায়। শরীরের কয়েকটি অঙ্গ তার দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
কোতয়ালী থানার সেকেন্ড অফিসার আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, শনিবার রাতে শানুর স্বামীকে আহত অবস্থায় ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে কোতয়ালী থানার ওসি সোহেল আহমদসহ সংশ্লিষ্টরা হাসপাতালে ছুটে যান। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পােিঠিয়ছে
এর আগে ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রকাশ্য দিবালোকে শানুর ছেলে মদনমোহন কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র সোহান আহমদ খুন হয়। এছাড়া ২০১৫ সালে সানু ও তার আরেক ছেলে রায়হানের ওপরও হামলা করে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা।
tajul islam3ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী লামাবাজার ফাড়ি পুলিশের ইনচার্জ এসআই বেনু জানান, আমি চিৎকার শুনে দৌড়ে আসি। এসময় তাজুল কে রক্তাক্ত অবস্থায় মাজারের সামনে পড়ে থাকতে দেখি। তাজুল আমার কাছে পানি চায়। পানি দেয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।
তবে কারা হত্যা করেছে এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি এস আই বেনু। তবে তার ধারনা এই ঘটনা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ঘটে থাকতে পারে।
নিহতের বড় ভাই নুরুল ইসলামের দাবী তাজুলের উপর হামলা করে সবুজ, তোফায়েল সহ আরো দুই সন্ত্রাসী। এই খুনিরাই অতিতে হত্যা করে শানুর মেঝ ছেলে সোহান কে। একইভাবে বড় ছেলে রায়হানের উপরও হামলা চালিয়েছিলো তারা।
উল্লেখ সাবেক কাউন্সিলর শানুর সাথে পাশের বাসার গুলজারের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিলো দীর্ঘদিন ধরে। এই বিরোধের কারনে খুন হন শানুর ছেলে সোহান, গুলজারের পক্ষে খুন হয় ছাত্রদল নেতা কামাল। সর্বশেষ বলি তাজুল। শনিবার রাতে তাকে হত্যা করে দূর্বত্তরা।
এই নিয়ে গত ৪দিনে সিলেটে তিনজন খুন হলেন। সর্বশেষ শনিবার রাতে পূর্ব বিরোধের জের ধরে খুন হন নগরীর খুলিয়াপাড়ার বাসিন্দা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর শাহানারা বেগম শানুর স্বামী, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তাজুল ইসলাম। এর মাত্র একদিন আগে শুক্রবার রাতে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হন আজির উদ্দিন নামের একজন ব্যবসায়ী। মাত্র তিনদিন আগে মঙ্গলবার দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ এ্যালিগেন্ট শপিং সেন্টারে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হন মুঠোফোন ব্যবসায়ী করিম বখত মামুন।

 

 

 

Share





Related News

Comments are Closed