Main Menu

সিলেটে প্রথম বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি শাবিতে

শাবি প্রতিনিধি: বাঙালী জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি স্থাপনের দাবি অবশেষে বাস্তবে রুপ নিয়েছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকে ২৫টি বসন্ত পেরিয়ে গেলেও রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠান করতে না পারায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল সবার মাঝে। এখন সে ক্ষোভ অনেকাংশেই ঘুচে গেছে শাবিতে সিলেটের মধ্যে প্রথম জাতির জনকের প্রতিকৃতি পেয়ে।
শাবি পরিবারের জন্মলগ্ন সদস্য থেকে শুরু করে আজ অবধি সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাঝে শান্তির সুবাতাস বইছে। তাদের সকলের দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবি আজ বাস্তবে রুপায়িত হয়েছে বলে জানান অনেকে। শোকের মাসে প্রিয় ক্যাম্পাসের বুকে বঙ্গবন্ধুকে পাওয়ায় সকল দুঃখ বেদনা ভুলে গেছে তারা!
আজ শনিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির মোড়ক উন্মোচন করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নান। আর বঙ্গবন্ধুর এ প্রতিকৃতি সিলেটের মধ্যে প্রথম এটি।
শাবির প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, জাতির পিতাকে স্মরণীয় করে রাখতে এই প্রতিকৃতি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আমিনুল হক ভূইয়া। গত ৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটির ১৩৮তম সভায় প্রতিকৃতি নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি পাস হয়। পরে ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় প্রতিকৃতি নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, গত ১৭ জুলাই প্রতিকৃতি নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে ১২ আগস্ট শেষ হয়। এটি নির্মাণে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি নকশা করেছেন মৌলভীবাজারের স্থাপত্য শিল্পী শেখ নাঈম উদ্দিন টিপু। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি বানানো হয়েছে সিরামিক টাইলস দিয়ে। এর উচ্চতা ৬ ফুট বাই ১০ ফুট আর মূল চত্বর ৪৭ ফুট বাই ২৫ ফুট।
প্রতিকৃতি উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মান্নান বলেন, বঙ্গবন্ধু একজন রাজনৈতিক কর্মী থেকে নেতায় পরিণত হন। পরে বাঙালী জাতির প্রতি তাঁর অসামান্য অবদানের কারণেই তিন রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছিলেন। যা খুব কম নেতার ভাগ্যেই জোটে।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ, একমাত্র বঙ্গবন্ধুই বলতে পারেন ‘আমিই রাষ্ট্র’।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সকল শিক্ষার্থীকে যেন আমরা এক্সট্রা কারিকুলাম, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে, খেলাধুলা ও ক্লাস-পরীক্ষার মধ্যেই রাখতে পারি। বিশেষ করে এদেশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বুকের রক্ত দিয়েছে, সে কারণেই জঙ্গীবাদ এদেশে বেশি দূর যেতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শাবি ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের উল্লেখ করে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আমিনুল হক ভূইয়া বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ এবং লালন করতে শাবিতে প্রতিকৃতি নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি মুহূর্তে যেন আমরা তাকে স্মরণ করতে পারি। আজ দীর্ঘ দিনের এ দাবি ও লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন হলো। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গর্বিত ও আনন্দিত।
ক্যাম্পাসে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির মর্যাদা রক্ষার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস উদ্দীন বিশ্বাস এবং প্রতিকৃতি স্থাপন কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. রাশেদ তালুকদার। এসময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মোড়ক উন্মোচন শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নান, ভিসি প্রফেসর ড. আমিনুল হক ভূইয়া ও শাবি শাখা ছাত্রলীগ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসির সদস্যরা মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নানকে ফুল দিয়ে বরণ এবং গার্ড অব অনার প্রদান করে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন।

Share





Related News

Comments are Closed