Main Menu

১১ বছরেও সম্পন্ন হয়নি ছাতকের সুরমা সেতু

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: দীর্ঘ ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি শিল্প নগরী ছাতক উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সুরমা সেতুর। জমি অধিগ্রহন, বাজেট স্বল্পতা সহ বিভিন্ন জটিলতায় বছরের পর বছর বন্ধ রয়েছে নির্মাধীন এ সেতুটির বাকি কাজ। তবে সেতুটির অসম্পূর্ন কাজ শেষ করতে প্রায় ১শ’ ১৩ কোটি টাকার নতুন একটি প্রকল্প সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হলেও পরবর্তীতে তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তা বন্ধ হয়ে যায়। ছাতকবাসীর দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে ছাতক উপজেলার সঙ্গে পার্শ¦বর্তী দোয়ারাবাজার উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য শহরের ভাজনামহলের পাশে সুরমা নদীর ওপর ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেতু নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। সরকারের একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় ২০০৬ সালের জানুয়ারী মাসে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০০৭ সালে তত্ত¡াবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর কাজটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১০ সালে সেতুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য ৫১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়। ঐ প্রকল্পটি অনুমোদন না হওয়ায় নির্মান কাজ আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
সেতুর ছাতক শহর অংশে তিনটি পাকা ভিত পিলার ও নদীর ওপারে আরও দুটি পিলারের কাজ শেষ করা হয়েছে। সেতুর দুই পাড়ের সংযোগ অংশের কিছু পাকা কাজও হয়েছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কোন কাজ হয়নি। নদীর দক্ষিণ পাড়ে সেতুর ঠিক মুখেই গড়ে উঠেছে আকিজ গ্রæপের কারখানাসহ আরো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্টান।
এলাকাবাসী জানান, সুরমা নদীতে সেতু নির্মান কাজ শেষ হলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। পার্শ্ববর্তী দোয়ারাবাজার উপজেলা হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সদরে যেতে ২ ঘন্টা সময় বাচবে। সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কিছু কাজ হওয়ার পর নির্মাণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা অবাক হয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন ছাতক শহরের একাধিক ব্যবসায়ী।
ছাতক উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ছানাউর রহমান ছানা বলেন, ছাতক-দোয়াারাবাজার উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য এ সেতু নির্মান অত্যন্ত জরুরী। সেতুটি সম্পন্ন হলে অত্র অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। যোগাযোগের সুবিধা সহ বাড়বে বিনিয়োগ, এলাকায় ঘটবে ব্যবসা-বানিজ্যের প্রসার ।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, তত্ত¡াবধাক সরকারের আমলে হঠাৎ করেই সেতুর নির্মান কাজ বন্ধ হবার পর আর কোন কাজ হয়নি। সেতু নির্মাণ শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ছাতক উপজেলার দায়িত্বে থাকা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সজিব আহমদ জানান, সেতুটি নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে নতুন করে ১শ ১২ কোটি ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকার প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেতুর বর্তমান পিলার গুলোকে ঠিক রেখেই অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা হবে। সওজ এর প্রধান কার্যালয় থেকে নতুন প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ভুমি অধিগ্রহন জটিলতা নিরসনে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সহায়তার জন্য চিঠি দেয়া হবে। নতুন প্রকল্পে সেতুর ভুমি অধিগ্রহন বাবদ খরচ ধরা হয়েছে ২২ কোটি টাকা।

Share





Related News

Comments are Closed