Main Menu

তিস্তা ও ধরলা নদীর ভাঙ্গনে ৩শ’ ঘরবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন

Manual7 Ad Code

তৌহিদুল ইসলাম, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট। ভারত থেকে নেমে আসা সীমান্তের কোল ঘেষে তিস্তা ও ধরলা নদীর অবস্থান । তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার নীচে প্রবাহিত হলেও ভাঙ্গন ব্যাপক আকার ধারন করেছে। ধরলা নদীর ভাঙ্গন কিছুটা কম হলেও তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে গত এক সপ্তাহে রাজপুর,মোগলহাট,ডাউয়াবাড়ি,পাটিকাপাড়া ও সানিয়াজান ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের ৩শ পরিবারের ঘরবাড়ী ও ১ হাজার একর আবাদী জমি গাছপালা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সরকারী হিসেবে ২শ পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীনের কথা বলা হলেও বাস্তবে ৩ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে ভাঙ্গনের শিকার পরিবারগুলো চির চেনা বাপ-দাদার ভিটেমাটি ফেলে রেখে বাড়িঘর ভেঙ্গে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে সেখানকার প্রায় তিন শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিস্তা নদীর ডানতীর রক্ষা বাঁধের ১ কিলোমিটার ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং বাঁধের অনেক জায়গায় ধব্স ও ফাটল ধরায় বাঁধটি রয়েছে হুমকির মুখে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তা ও ধরলা নদীর ভাঙ্গনে লালমনিরহাট জেলার রাজপুর, মোগলহাট ,ডাউয়াবাড়ি, সানিয়াজান ও পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের নদী সংলগ্ন ১০টি গ্রামের ৩ শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। রাজপুর, সানিয়াজান, ডাউয়াবাড়ি ও পাটিকাপাড়া ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে। গত এক সপ্তাহে সেখানে বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে তিন শতাধিক পরিবার। তীব্র ভাঙ্গনে ইতোমধ্যেই সেখানে নদী গর্ভে চলে গেছে প্রায় এক হাজার একরেরও বেশী আবাদি জমি ।
এদিকে রাজপুরের খলাইঘাট মৌজায় তিস্তা নদীর ডানতীর রক্ষা বাঁধটির এক কিলোমিটার ধ্বসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাঁধটি রক্ষায় স্থানীয় ইউপি পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় বালুর বস্তা ও বাঁশ, গাছ দিয়ে পাইলিং করে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ভাঙ্গনের ভয়াবহতা রক্ষা পেতে অনেকেই তাদের একমাত্র সম্বল বাড়ি-ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ।
এদিকে ধরলা নদীর ভাংগনে মোগলহাটের ১৫ ও পাটগ্রামের ২৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আবার কেউ কেউ সহায় সম্বল সব কিছু হারিয়ে স্থানীয় বাঁধ ও উচু জায়গায় ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন । সরকারী ভাবে ভাঙ্গন কবলিত এলাকাগুলোয় ৬০ মেট্রিক টন চাল ও ১লাখ টাকা বিতরন করা হলেও তা অপ্রতুল। তবে রাজপুরের মানুষজন ত্রান চান না, তারা চান ভাঙ্গন কবলিত বাঁধটির দ্রুত মেরামত। এসব ভাঙ্গন কবলিত অসহায় মানুষের দিন খুব কষ্টের মধ্যে কাটলেও ভাঙ্গন প্রতিরোধে নেয়া হচ্ছে না কোন কার্যকর ব্যবস্থা ।
এদিকে জেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, ভাঙ্গন কবলিত মানুষজনের মাঝে খুব শীঘ্রই ৪লাখ টাকা বিতরন করা হবে ।
নিঃস্ব এসব পরিবারের লোকজন নদীর কিনারায় কেউবা বাঁধে বসে চিন্তা করছেন আর নদী গর্ভে চলে যাওয়া বসতভিটার দিকে তাকিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কাজ-কর্মহীন হয়ে পড়া নদী ভাঙ্গনের শিকার লোকজন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
জনপ্রতিনিধিরা নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে শুধুই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কার্যত কোন কাজ হচ্ছে না বলে এখানকার লোকজনের দাবী। রাজপুরে তিস্তা নদীর ডানতীর রক্ষা বাঁধটি ভাঙ্গনরোধে দ্রত ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে দাবি জানান ওই এলাকার মানুষজন। বাঁধটি সম্পূর্ণ ভেংগে গেলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ পানিবন্ধী সহ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বাড়িঘর।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বাঁধের ভেংগে যাওয়া অংশের মেরামতের কাজ চলছে। তিস্তা নদীর ডানতীর রক্ষাবাঁধের যে অংশটি নদীগর্ভে চলে গেছে তার কাজ এ মুহুর্তে সম্ভব হবেনা। শুকনা মৌসুমে ওই অংশের কাজ করা হবে বলে জানান তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code