ছাতকে নৃ-গোষ্টির তাঁত শিল্প উন্নয়নে ব্যাংক ঋন পাচ্ছে না
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: ছাতকে ঋন প্রাপ্তির দাবিতে নৃ-গোষ্টি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দফতরে ধর্ণা দিলেও তাদের দাবি আদায়ের ব্যাপারে কোন সুরাহা হচ্ছে না। তারা ব্যাংক ঋন নিয়ে দেশের অন্যান্য এলাকার নৃ-গোষ্টির ন্যায় হস্তশিল্প ও তাঁতের কাপড়সহ রুচিশীল দ্রব্য সামগ্রীর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কারখানা তৈরীর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু দেশের প্রচলিত ব্যাংক ব্যবস্থায় তাদেরকে ঋন প্রদান না করায় অবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবরে লিখিত আবেদন করে। গত ২২ মে’ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রাসনগর, ধনীটিলা, মনিপুরী বস্তির উপজাতি ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬৫ পরিবারের পক্ষে বাবু সিংহের স্ত্রী চন্দ্রিকা দেবী ও নিরমনি সিংহের স্ত্রী অহল্যা দেবী এ আবেদন করেন।
এতে বলা হয়, নৃ-গোষ্টির ২০ ব্যক্তি ২০০৪ সালে আনসার ও ভিডিপির প্রশিক্ষণ নিয়ে সনদ প্রাপ্ত হয়ে আনসার ও ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের শেয়ার ক্রয় করেন। কিন্তু তাদের বাড়ি দূরে থাকায় আনসার ও ভিডিপির সভা ও সেমিনারে কখনও তাদেরকে আমন্ত্রণ করা হয় না। তাদের বাড়ি হচ্ছে ছাতকের উত্তরে ভারতীয় সীমানার নিকটবর্তী। তাদের ৬৫ পরিবারের জীবন-জীবিকা পরিচালনার একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে হাতের বুনা তাতের কাপড়। কিন্তু তারা অত্যন্ত গরীব লোক হওয়ায় নিজেদের পুঁজিতে ব্যবসা পরিচালনা করা খুবই দুরুহ হয়ে পড়েছে। এতে তারা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রতিষ্টান গড়ার লক্ষ্যে ছাতকের আনসার ও ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, অগ্রনী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের কাছে ক্ষুদ্র ঋন দেয়ার আবেদন করেন। কিন্তু সব ব্যাংক কর্তৃপক্ষই বাড়ি দূরে থাকার অজুহাত দেখিয়ে তাদের নামে ঋন মঞ্জুর করেনি। এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামানের কাছে ঋন দেয়ার দাবিতে আরেকটি আবেদন করেন। কিন্তু এরপর ও তাদেরকে ঋন দেয়ার কোন ব্যবস্থা হয়নি। অবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এ আবেদন করেছে।
জানা গেছে, নৃ-গোষ্টির নামে ঋন বরাদ্ধ হলে এসব ঋনের টাকা দিয়ে সম্মিলিতভাবে তাঁত শিল্প প্রতিষ্টান প্রতিষ্টা করবে। বর্তমানে সারা বিশ্বে মনিপুরী কাপড়ের বিপুল চাহিদা থাকলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে তারা উৎপাদিত কাপেড়ের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখন নৃ-গোষ্টি প্রত্যেকের বাড়িতে একটি করে তাঁত শিল্প রয়েছে। তারা সরকারের সব সূযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তাদেরকে কোন ধরনের রেশন বা ভাতা দেয়া হচ্ছেনা। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে নৃ-গোষ্টি দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারে। এজন্যে তারা সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
Related News
শান্তিগঞ্জে ৮ বছর ধরে অকেজো কোটি টাকার সোলার প্যানেল, রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে বসানো এক কোটি ৪৭ লাখRead More
দিরাইয়ে টিনের চালে ষাঁড়, কৌতূহল উঠলো কিভাবে?
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পথ হারিয়ে একটি ষাঁড় দোকানের টিনের চালে উঠে আটকা পড়ারRead More



Comments are Closed