বিশ্বনাথে অবাধে নিধন হচ্ছে মা মাছ
মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথে গত তিনদিনের মোষলধারে বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন নদ-নদী ও এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলে ও সৌখিন মাছ শিকারিরা মাছ ধরতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ভোর বেলা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে মাছ শিকার। এতে ছোট মাছ অবাধে নিধন করা হচ্ছে। এসব মাছ জেলেরা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করতে দেখা যায়। ছোট মাছ নিধন রোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এভাবে প্রতিদিন ছোট মাছ নিধন হলে হারিয়ে যাবে দেশীয় প্রজাতির মাছ। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলায় চলছে মাছের আকাল। দেশী প্রজাতির মাছ রক্ষা করতে ছোট মাছ নিধন বন্ধ করা অতি জরুরী হয়ে পড়েছে বলে উপজেলার সচেতন মহল মনে করেন। উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ছোট মাছ নিধন না করার জন্য উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে বলা হলেও এর কোনো তোয়াক্কা করছে না মাছ শিকারিরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সদরের নতুন বাজার, পুরান বাজার, হাবড়া বাজার, বৈরাগী বাজার, পীরের বাজার, আমতৈল বাজার, রামপাশা বাজার, লামাকাজি বাজার, মাহতাবপুর মাছের আড়ৎ, রাজাগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিদিন ছোট মাছ ও পোনা মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব বাজারে কই মাছ, গোয়াল, টাকি মাছ, পুটি মাছসহ বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা পাওয়া যাচ্ছে।
এলাকার সচেতন মহলের লোকজন জানান, বিগত ১০ বছর আগে উপজেলায় মাছের কোনো অভাব ছিল না। এখন হাট-বাজারে মাছের বড় আকাল চলছে। বছরের অধিকাংশ সময় দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় না। মাঝে মাঝে দেশীয় মাছ পাওয়া গেলেও সেগুলো চড়া দামে বিক্রি হয়। প্রতি বছর বর্ষার শুরুতে নির্বিচারে মা ও পোনা মাছ নিধন এবং হেমন্ত মৌসুমে খাল,বিল,নদী-নালা সেচের মাধ্যমে মাছ ধরার ফলে দিনে দিনে হারিয়ে যেতে বসেছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদী-খাল-বিল ও ফসলি জমিতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার বিভিন্ন পেশার লোকজন মাছ শিকারে ব্যস্ত রয়েছেন। মাছ শিকার করতে অনেকের হাতে রয়েছে ঠেলা জাল, উড়াল জাল, বেল জাল, চিটকা জাল, বাঁশের তৈরি ডরি। এসব মাছ ধরার যন্ত্র দিয়ে বড় মাছের চেয়ে মাছের পোনা নিধন হচ্ছে বেশি। মনের আনন্দ অনেকেই মাছ শিকার করতে দেখা যায়।
এব্যাপারে উপজেলার শ্বাসরাম গ্রামের নূরুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসমে মাছ শিকার করার আনন্দটাই আলাদা। তাই মাছ শিকার করে আসছি। এসময় মাছের পোনা বেশি পাওয়া যায়। পোনা মাছ খেতে ভাল লাগে।
রামপাশা গ্রামের রিপন মিয়া বলেন,নদ-নদী-খাল-বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন এলাকার লোকজন মাছ শিকার করে আসছেন। এতে মাছের পোনা বেশি মারা হচ্ছে।
স্কুল পড়ুয়া ছাত্র রায়হান আহমদ সায়মন বলেন, বৃষ্টির পানিতে মাছ শিকার করতে ভাল লাগে। তাই চাচার সঙ্গে মাছ ধরতে এসেছি।
উপজেলা সদরের পুরান বাজার মাছ ব্যবসায়ী আবুল মিয়া বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া খুব মুসকিল। মাঝে মাঝে দেশী মাছ পাওয়া গেলেও আড়ৎ থেকে চড়া দামে ক্রয় করে আনতে হয়। বর্ষা মৌসমে গ্রামাঞ্চল থেকে ছোট মাছ ক্রয় করে এনে বাজারে বিক্রি পরিবার পরিজন নিয়ে কোনো রকমে চলে আসছি।
উপজেলার লামাকাজি ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বলেন, গত বৃষ্টির ফলে এলাকার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার পথে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ শিকার হচ্ছে। তবে পোনা মাছ শিকার না করার জন্য এলাকার লোকজনকে অবহিত করেছি।
উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা নির্মল চন্দ্র বণিক বলেন, ইতি মধ্যে উপজেলার কয়েকটি জায়গায় পোনা মাছ নিধন না করার জন্য মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। তবে খুব শিগগিরই উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হবে।
Related News
সবুড়ী নদী হতে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন, স্টিল নৌকা ও সরঞ্জাম জব্দ
Manual8 Ad Code জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুরের সবুড়ী নদী হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারনে জৈন্তাপুরRead More
সিলেট সীমান্তে ৬৬ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬৬ লাখRead More



Comments are Closed