Main Menu

স্বল্প খরচে মিলবে লাখ টাকার হীরা!

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. নিজাম উদ্দিন স্বল্প খরচে হীরা উৎপাদনের প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেছেন। তার উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে কম টাকা ব্যয়ে গবেষণাগারেই তৈরি হবে হীরা।

মাটির অনেক গভীরে (খনিতে) দীর্ঘ সময়ের পরিক্রমায় তৈরি হয় হীরা। মাটির প্রায় ১৪০ থেকে ১৯০ কিলোমিটার গভীরে কার্বনসমৃদ্ধ পদার্থ থেকে ৩.৩ বিলিয়ন বছরে এটি তৈরি হয়। তাই খনিজ সম্পদের মধ্যে হীরা অত্যন্ত মূল্যবান। হীরা কিনতে এখনও গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা।

Manual5 Ad Code

তবে সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে হীরা তৈরি সম্ভবপর করে তুলেছেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় হীরা উৎপাদন অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
সেই ব্যয় কমিয়ে বাংলাদেশের বিজ্ঞানী শাবি শিক্ষক ড. নিজাম দেখিয়েছেন কৃত্রিম উপায়ে স্বল্প খরচে হীরা তৈরীর প্রক্রিয়া।

Manual5 Ad Code

নব-উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে স্টিলের ওপর অল্প খরচে, সহজলভ্য উৎস যেমন ইউরিয়া, ট্রাই-ইথিলিন টেট্রামিন, হেক্সামিথিলিন টেট্রামিন ইত্যাদি থেকে সহজ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাধারণ চাপেই হীরার সঙ্গে তুলনীয় দৃঢ়তার কার্বন ও নাইট্রোজেনের আস্তরণে এটি তৈরি হবে। আর হাজার টাকা ব্যয়েই এই হীরা পাওয়া যাবে।

স্বল্প খরচে হীরা তৈরীর পদ্ধতির উদ্ভাবক ড. মো. নিজাম উদ্দিন জানান, ‘ডায়মন্ডসম স্ট্রাকচার অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি পদ্ধতি। কেমিক্যাল ভ্যাপার ডিপোজিশন ও ফিজিক্যাল ভ্যাপার ডিপোজিশন ব্যবহার করে এটি তৈরি করা হয়। আমার উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে সাধারণ স্টিলকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ঘষে ও পরিষ্কার করে ডিপ-কোটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রাথমিক আস্তরণ তৈরি করতে হবে। এরপর বিভিন্ন মাত্রার তাপ এবং বিভিন্ন সময় ভেরিয়েশন ব্যবহার করে সাধারণ ও নাইট্রোজেন পরিবেশে ডায়মন্ডসম স্ট্রাকচারের (C3N4) আস্তরণ তৈরি করা সম্ভব হবে। এর আকৃতি হবে ৫০-৫০০ ন্যানোমিটার স্কেলের মধ্যে।’

এই বিজ্ঞানী আরো জানান, বিশেষজ্ঞরা তার এই উদ্ভাবনাকে হীরা নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে গত দুই যুগের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন। মানবদেহের রক্ত ও কোষবান্ধব হওয়ায় শল্য চিকিৎসায় এই উদ্ভাবন বড় ভূমিকা রাখবে বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, ‘এই আস্তরণ চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ করে ভেঙে যাওয়া হাড় জোড়া লাগাতে ব্যবহৃত রড তৈরিতে এটি কাজে লাগবে। সাধারণত পা কিংবা হাতের হাড় ভেঙে গেলে অর্থোপেডিক চিকিৎসকরা রড, প্লেট ও স্ক্রু বসিয়ে প্লাস্টার করে দেন। কিন্তু সেসব শরীরের কোষ ও রক্তবান্ধব নয় বলে কিছুদিন পর আবার অপারেশনের মাধ্যমে সেগুলো বের করে ফেলতে হয়। এটা খুবই কষ্টকর ও ব্যয়সাপেক্ষ। কিন্তু কার্বন ও নাইট্রোজেনের আস্তরণযুক্ত স্বল্প মূল্যের এই স্টিল এ ক্ষেত্রে টেমপ্লেট কিংবা ইমপ্ল্যান্ট হিসেবে ব্যবহার করলে তা দেহের ভেতর চিরস্থায়ীভাবে রাখা যাবে। এ ছাড়া এই মেটারিয়ালস উচ্চমাত্রার ক্ষয় প্রতিরোধসম্পন্ন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে শল্য চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবহৃত মেটারিয়ালের কোটিং হিসাবেও এই আবিষ্কার কাজে লাগানো যাবে।

Manual8 Ad Code

এই মেটারিয়ালস যেহেতু রসায়নের পর্যায় সারনির অত্যন্ত কম ভরের এলিমেন্ট দিয়ে তৈরি, তাই এটা উড়োজাহাজ ও গাড়ির হালকা অথচ শক্তিশালী আস্তরণ হিসেবে এবং হীরার বিকল্প কাটিং টুল হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে মনে করেন ড. নিজাম।

Manual8 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code