Main Menu

সুনামগঞ্জ হাসপাতালে চালু হচ্ছে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের কিডনি রোগীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার। ইতোমধ্যে ১০টি শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে দ্রুতই সেবা চালু করা হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জের কিডনি রোগীদের নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য সিলেটসহ জেলার বাইরে যেতে হয়। ডায়ালাইসিস একবারের চিকিৎসা নয়—রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী নিয়মিত এই সেবা নিতে হয়। ফলে জেলার বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের বাড়তি সময়, যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচ বহন করতে হয়।

বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের ভোগান্তি আরও বেশি। প্রথমে নিজ এলাকা বা উপজেলা থেকে সুনামগঞ্জ শহরে এসে এরপর সিলেট বা অন্য জেলায় যেতে হয়। অনেক সময় রোগীর সঙ্গে স্বজনকেও যেতে হয়। এতে চিকিৎসা ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় অতিরিক্ত যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ।

সদর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা চালু হলে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা রোগীরা সুনামগঞ্জ শহরেই নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে জেলার বাইরে যাতায়াতের প্রয়োজন কমার পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-৪ অধিশাখা থেকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৪৪টি জেনারেল ও জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের জন্য রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে ৩৯৬টি পদ সৃজনের কথা জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতিটি হাসপাতালে ছয়টি করে সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং তিনটি করে মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ডায়ালাইসিস) পদ রয়েছে। সেই হিসাবে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ডায়ালাইসিস সেন্টারের জন্যও নয়টি পদ সৃজন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে সেন্টারটির কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সচেতন মহলের মতে, সুনামগঞ্জে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু হলে জেলার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হবে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য জেলার বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া যেমন কষ্টকর, তেমনি ব্যয়বহুল। সরকারি হাসপাতালে এ সেবা চালু হলে তুলনামূলক কম খরচে রোগীরা চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে সেবা চালুর পর সেটি নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনায় প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার পাশাপাশি যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যাপ্ত পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। রোগীর চাপ বিবেচনায় ভবিষ্যতে সেবার পরিধি বাড়ানোর দাবিও রয়েছে।

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ বলেন, ‘ইতোমধ্যে ১০টি বেড প্রস্তুত আছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দ্রুত সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে।’

Share





Related News

Comments are Closed