Main Menu

ঈদযাত্রায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক পাড়ি দেয়া নিয়ে যাত্রীদের শঙ্কা

Manual3 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর ঈদযাত্রা, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে টানা ছুটির আমেজে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে নগরজুড়ে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা পাচ্ছেন ৭ দিনের দীর্ঘ ছুটি, আর সোমবার ছিল শেষ কর্মদিবস। বিকাল গড়াতেই নগরীর সড়ক ও বাস টার্মিনালগুলোতে দেখা যায় যাত্রীদের ব্যাপক ভিড়, শুরু হয় প্রিয়জনের কাছে ফেরার আনন্দঘন যাত্রা।

Manual6 Ad Code

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শনিবার (২১ মার্চ) দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। এই সম্ভাব্য তারিখ ধরে আগে থেকেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ঈদের দিন সাধারণ ছুটি এবং আগে ও পরে নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত করা হয়েছে।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৮ মার্চও নতুন করে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে সিলেটের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা ৭ দিনের অবকাশ পাচ্ছেন। এর আগে ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণার দাবির পর তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে জরুরি সেবা সচল রাখতে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, টেলিযোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতের কর্মীরা ছুটির বাইরে থাকছেন। পাশাপাশি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেবাও চালু থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, এই আনন্দের মধ্যেই সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ভোগান্তির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জ অংশে চলমান উন্নয়ন কাজ এবং কিছু স্থানে সরু সড়কের কারণে তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার পথ ঈদযাত্রায় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তাছাড়া মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের কাটিহাতা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ছয় লেন প্রকল্পের ধীরগতি, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা ও হাটবাজারের কারণে যানজট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের অন্তত দুটি লেন সচল রাখার চেষ্টা চলছে এবং ধীরগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Manual6 Ad Code

যাত্রী ও যানবাহন চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদযাত্রায় প্রতিবারই ভোগান্তির কারণ হয় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশ। আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত নির্মাণাধীন ১২ কিলোমিটার সড়কটি ভোগান্তির যত কারণ। ছয় লেন মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড মোড়ে প্রায় প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। একইভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেক অংশ চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের সদর উপজেলার সুলতানপুর ও আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তন্তর বাজার এলাকাজুড়ে যানজট লেগে থাকছে। ঈদে যানবাহন বাড়লে এই ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

Manual7 Ad Code

পুলিশ জানায়, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ৪৩টি যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে কোনো ধরনের যানজট সহ্য করা হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্মাণাধীন সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের ওপর দিয়ে চলাচল করেন হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েক লাখ যাত্রী ও পরিবহন। রাজধানী পার হওয়ার পর বেশিরভাগ সড়কে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করা গেলেও আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড গোলচত্বর অংশ অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। দুটি গোলচত্বরে মহাসড়কের কাজ চলমান থাকায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। গত কয়েক বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও চালকরা। এর মধ্যে ঈদের ছুটিতে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। ফলে মহাসড়কের এই অংশজুড়ে তীব্র যানজটের পাশাপাশি ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা। একইসঙ্গে বিশ্বরোড, কুট্টাপাড়া, আশুগঞ্জ গোলচত্বর, সোহাগপুর এবং সোনারামপুরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ডগুলো যানজটের অন্যতম কারণ হবে।

Manual1 Ad Code

একইভাবে চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের দুটি স্থান যানজটের জন্য অন্যতম। এর মধ্যে সদর উপজেলার সুলতানপুর ও আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তন্তর বাজারের অংশে ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হয়। সড়কটির কাউতলী, রামরাইল, রাধিকা, সুলতানপুর, তন্তর, তিনলাখ পীর, সৈয়দাবাদ, মনকসাইর, খাড়েরা এবং কুটি চৌমুহনীতে মহাসড়কের দুই পাশে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের কারণে তীব্র যানজটের শঙ্কা আছে। পাশাপাশি যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, তিন চাকার যান চলাচলও ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code