খাদিমনগরে উচ্ছেদ আতঙ্কে গারোদের ১৬ পরিবার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের খাদিমনগর এলাকার গারোপাড়ার ১৬টি পরিবার উচ্ছেদ আতঙ্কে দিনযাপন করছে। সদর উপজেলার
কল্লোগ্রামের ফিসারী ছড়ারপােড় বসবাসরত আদিবাসী গারো জনগোষ্ঠীর ১৬টি পরিবারের পূর্ব পুরুষদের বসতি স্থাপনের বয়স ৬০/৭০ বছর। এখানে তিন প্রজন্মের প্রায় ৮০ জন মানুষ ২৫.৭ ডেসিমেল জায়গায় কাঁচা-পাকা ঘর বানিয়ে বসবাস করছে। ইউনিয়ন পরিষদকে হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদানের পাশাপাশি প্রাপ্ত বয়স্কদের রয়েছে পাড়ার ঠিকানার জাতীয় পরিচয়পত্র। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় একটি হাউজিং কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদেরকে এই স্থান থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়া হয়। এতে নারী ও শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ হুমকিতে পুরো পাড়ের গারোরা নিজেদের নিরাপত্তাহীন মনে করছে।
এ অবস্থায় ‘গারোপাড়া’র এই সংকট সম্পর্কে ধারণা নিতে ও গারো পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এলাকাটি পরিদর্শন করেছে সিলেটের একটি নাগরিক প্রতিনিধি দল।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় প্রতিনিধি দলটি পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রতিনিধি দল জানতে পারে, সরকারি প্রশাসন স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে গারো জনগোষ্ঠীর পরিবারগুলোকে উক্ত এলাকা থেকে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিলেও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী অবিলম্বে তাদেরকে উচ্ছেদ করতে চাইছে। যা মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
প্রতিনিধি দল পরিদর্শনকালে লক্ষ্য করে যে, বিসিক শিল্পনগরী থেকে আসা এই ছড়াতে শিল্পবর্জ্যের ভয়াবহ দূষণ। সেই দূষিত ছড়াতে মাটি ফেলে প্রাকৃতিক প্রবাহকে পরিকল্পিতভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে গারোপাড়াতে । ছড়ার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে গারো পরিবারগুলো বিপদে পড়বে। দূষিত পানির দুর্গন্ধে তাঁদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠবে। যা গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের। এমতাবস্থায় প্রতিনিধিদল স্থানীয় প্রশাসনকে এই পরিবারগুলোর পাশে থাকার অনুরোধ করেন।
পরিদর্শন শেষে পরিদর্শন দলের প্রধান ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), সিলেট শাখার আহবায়ক ডাঃ মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার বলেন, দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ শান্তিপ্রিয়, সহজ-সরল ও নির্বিবাদী। গারো জনগোষ্ঠীর পরিবারগুলো কয়েক প্রজন্ম ধরে এখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে শিশু, নারী ও বয়োবৃদ্ধদের যেন কোনোভাবেই বস্তুচ্যুত করা না হয়।
নাগরিক প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী গবেষক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক, নাগরিক সংগঠক আব্দুল করিম কিম, আদিবাসী পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের ফাদার যোশেফ গোমেজ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম সোবহান চৌধুরী, সংবাদকর্মী শাকিল জামান ও আব্দুর রহমান হিরা, নাট্যকর্মী নাহিদ পারভেজ বাবু প্রমুখ।
নাগরিক প্রতিনিধি দল আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গারো জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করার উদ্যোগ নেবে।
Related News
ওসমানীনগরে শিশুর সর্বনাশ করার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের ওসমানীনগরে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় ৬০ বছর বয়সীRead More
বিয়ানীবাজারে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিয়ানীবাজারে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩Read More



Comments are Closed