Main Menu

শাকসুর নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপিপন্থী ৮ শিক্ষকের পদত্যাগ

Manual1 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : আগামিকাল ২০ জানুয়ারি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন। তবে সেই নির্বাচনের একদিন আগেই নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপিপন্থী ৮ শিক্ষক। প্রশাসনের নানা অনিয়মের অভিযোগে অপারগতা প্রকাশ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের নিচ তলায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন।

এসময় অন্য শিক্ষকদেরও দায়িত্ব পালন না করার আহ্বান করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছি না। আমরা আহ্বান জানাবো অন্যরাও যাতেহ দায়িত্ব পালন না করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের আচরণে বিব্রতবোধ করছি। ভাইসচ্যান্সেলরকেও জানিয়েছি এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন করবে কি না। নির্বাচন পরিচালনায় হয়তো দুইশো শিক্ষক লাগবে। এখান থেকে আমাদের মতের সাথে একাত্মতা যারা পোষণ করে তারাও সরে আসবে।’

এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘আমরা এখানে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকেরা এখানে আছি। শাবিপ্রবির নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে হয়, সে জন্য চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি ৫ আগস্টের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা হল দখল করা হলো। হলে ওঠার জন্য একটা নীতিমালা তৈরি করে আবার তারাই সেই নীতিমালা বাতিল করে দিয়েছে। ইউটিএলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলো, নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন নির্বাচন বন্ধে শিক্ষকদের একটা অংশই ষড়যন্ত্র করছে আমাদের এই ট্যাগিং দেওয়া হয়েছে। আমরা যদি নির্বাচন পরিচালনা করি, তাহলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের দোষ দেওয়া হবে।’

অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন বলেন, ‘ইলেকশন কমিশন গঠন হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন হয়েছে। ভিসি মহোদয় এককভাবে তারিখ ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন গঠন হয়েছে। ভিসি মহোদয় ১৫ জনের নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। বিএনপিপন্থি শিক্ষকেরা নির্বাচনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বক্তব্য বা বিবৃতি দেই নাই। গত ৫ তারিখ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটা চিঠি আসে। নির্বাচন স্থগিত করতে অনুরোধ করা হয়। এই চিঠির বিষয়ে আমরা শিক্ষকেরা জানি না। আমরা আশা করছিলাম ভিসি মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।’

Manual7 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম, অধ্যাপক ড.ইফতেখার আহমেদ, অধ্যাপক ড. সালমা আক্তার প্রমুখ।

এ ব্যাপারে শাকসু নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “আটজন শিক্ষক পদত্যাগ করেছে শুনেছি। এখনো কোনো অফিসিয়াল ডকুমেন্টস পায়নি। তবে আমাদের নির্বাচনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান আছে।”

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Manual7 Ad Code

অন্যদিকে শাকসু নির্বাচনের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে রোববার থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সোমবারও অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

Manual4 Ad Code

তাদের দাবি, বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাবে শাবিপ্রবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশন একটি ‘নজিরবিহীন ও বিতর্কিত’ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। সংগঠনটির মতে, এই প্রজ্ঞাপন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি অশনিসংকেত।

Manual4 Ad Code

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ইসির প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদ জানালেও ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন দাবি করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ।

ফেসবুক পোস্টে মোস্তাকিম বিল্লাহ লেখেন, ‘আপনারা জানেন আজকে ইসি ভবনের সামনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে ইসি ভবন ঘেরাও কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, আমাদের সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেল কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সব সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য নয়। আমাদের এ প্যানেল ছাত্রদলের কোনো একক প্যানেল নয়, এখানে অর্ধেকের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছে। আমি এ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী হিসেবে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, আমরা সবাই শাকসুর পক্ষে এবং শাকসু চাই। কেউ যদি শাকসুর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বা নিতে চায়, আমরা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হব। আমরা ২০ তারিখে শাকসু আদায় করে ছাড়ব।’

প্রসঙ্গত, শাকসু নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদে ৯৭ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহসভাপতি (ভিপি) পদে ৪ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৭ জন ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৩টি পদ রয়েছে। অপর দিকে হল সংসদে পদ রয়েছে ৯টি।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code