Main Menu

নিরাপদ আগামীর জন্যে আউশকান্দিতে আন্ডারপাস অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক

শাহ মনসুর আলী নোমান: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ‘আউশকান্দি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা’ সিলেট বিভাগ তথা সারা দেশের মানুষের অর্থনীতি, জীবনযাত্রা, ব্যবসা, যাতায়াত ও যোগাযোগের একটি অন্যতম স্থানে পরিণত হয়েছে। বিপুল জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই স্থানের অতি নিকটবর্তী রয়েছে দেশের গ্যাস সম্পদের সিংহভাগ যোগানদাতা বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র, বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্ট, শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, ব্যাংক-বীমা, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, উপাসনালয়, চাষযোগ্য জমি, জলাশয়, জনবসতিপূর্ণ লোকালয় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক স্থাপনা।

ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত দূরপাল্লার যানবাহন, পণ্যবাহী যানবাহন, শিল্প প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন যানবাহন এবং বাজারমুখী মানুষের মহামিলনে ‘আউশকান্দি ও কিবরিয়া চত্বর’ বর্তমানে একটি অপার সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখানেই জন্ম নিচ্ছে সম্ভাবনা, আবার এখান থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, প্রাণহানি, দুর্ঘটনার আশঙ্কা ও নিত্যদিনের ভোগান্তি।

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত ‘আউশকান্দি এলাকা ও কিবরিয়া চত্বরটি’ আজ ক্লান্ত। এলাকাতে প্রতিদিন যানজট, পথচারীর জীবনের ঝুঁকি, বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা এবং সময়ের অপচয়ের ফলে স্থানীয় নাগরিক জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন যাবত সিলেট বিভাগের বিরাট জনগোষ্ঠী, যাত্রী সাধারণ ও স্থানীয় লোকজন বারবার দুর্ঘটনার শিকার হয়ে সর্বাধিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং তাঁদের জীবনে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা। আউশকান্দি, কিবরিয়া চত্বর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ১২ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং অনেকেই আহত হয়েছেন বলে সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানা যায়।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আউশকান্দি থেকে নিলামবাজার পর্যন্ত কিবরিয়া রোডের সংযোগস্থল আউশকান্দি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ প্রবেশদ্বারে আন্ডার পাস নির্মাণের দাবিতে সম্প্রতি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে হবিগঞ্জ, নবীগঞ্জ এবং স্থানীয় কয়েকটি ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের তিনজন সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী স্থানীয় জনগণের এই দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

ভৌগোলিক অবস্থান ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র বিবেচনায় ঢাকা -সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দিতে একাধিক আন্ডারপাস নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে আন্ডারপাস নির্মাণ শুধু একটি কাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং স্থানীয় মানুষের জীবন জীবিকা, চলাফেরা, নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার, কৃষিকাজ, মৎস্য চাষ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জড়িত।

আউশকান্দিতে প্রস্তাবিত স্থানে আন্ডারপাস নির্মাণ হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায় সহজে প্রবেশাধিকার সম্ভব হবে, শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার,পণ্য পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থা সহজ হবে, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে, স্থানীয় জীবনমান উন্নত হবে, গ্রামীণ অর্থনীতি ও উন্নয়ন গতিশীল হবে, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে। এতে সড়কের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরবে, হ্রাস পাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ। এমনকি ভবিষ্যতে জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাঁপ কমাতেও ইহা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।

সুতরাং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আউশকান্দিতে আন্ডারপাস নির্মিত হলে এলাকায় সম্ভাবনা ও উন্নয়নের দ্বার সৃষ্টি হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরী ভিত্তিতে আউশকান্দিতে আন্ডারপাস নির্মাণ করার পদক্ষেপ নেবেন এটাই প্রত্যাশা।

লেখক: গবেষক, শিক্ষা প্রশাসক ও কলামিস্ট; সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার-নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

Share





Related News

Comments are Closed