Main Menu

চুনারুঘাটে বন কর্মকর্তাকে মারধর, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

Manual3 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বন কর্মকর্তাকে মারধর করে চোরাই গাছ ও কাঠ বিক্রির নিলাম বন্ধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বন কর্মকর্তা বুধবার (১০ ডিসেম্বর) চুনারুঘাট থানায় মামলা করেছেন।

Manual6 Ad Code

মামলায় আসামি করা হয়েছে, চুনারুঘাট উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান (৪৫) ও আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. সাইফুল ইসলামকে। সাইফুল হবিগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ সম্পাদক শাম্মি আক্তারের ছোট ভাই।

অভিযোগের বিষয়ে শাম্মি আক্তার বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটিয়েছেন চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক এক মেয়রের ভাই। বন কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আমার ভাইকে এ ঘটনায় জড়িয়েছেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। চুনারুঘাটে আমি বা আমার পরিবারের কেউ কোনো অন্যায় কাজে জড়িত নই।’

মামলার এজাহারে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, কালেঙ্গা ও রঘুনন্দন বন রেঞ্জের জব্দ করা ২৯টি লট গাছ ও কাঠ বিক্রির জন্য নিলাম ডাকা হয়। চুনারুঘাটের সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নিলাম শুরু হয়। এ সময় শ্রমিক দলের নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান ও বিএনপি নেতা মো. সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

তারা নিলামের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি রেঞ্জার সৈয়দ আশিক আহমেদকে নিলাম বন্ধ করে তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম চালাতে বলেন। এ নিয়ে বন কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাইফুল ও জাহাঙ্গীর বন কর্মকর্তা সৈয়দ আশিককে মারধর শুরু করেন। তারা বন কর্মকর্তাকে বলেন, ‘তুই কে এ নিলাম ডাকার? লাথি মেরে তোর সব দাঁত ভেঙে দিব।’ এ সময় আশপাশে থাকা অন্য বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে এসে সৈয়দ আশিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলম ডেপুটি রেঞ্জারের প্যান্টের পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে যাওয়ার আগে নিলাম কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং মামলা করলে খুন করে ফেলার হুমকিও দেন।

Manual6 Ad Code

অভিযোগের বিষয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা। যিনি মামলা করেছেন, তিনি আসল ঘটনা আড়াল করেছেন। মামলার আরেক আসামি মো. সাইফুল ইসলামের মুঠোফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Manual6 Ad Code

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, টাকা ছিনতাই করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Manual1 Ad Code

বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, প্রকাশ্য নিলামকে কেন্দ্র করে বাধা-হামলা হলে সরকারি রাজস্ব আয় ব্যাহত হয় এবং জব্দ করা মালামালও ঝুঁকিতে পড়ে। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা সুষ্ঠু বন ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের হুমকি। দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code