কানাডা পাঠানো সিলেটের ৩ যুবক নেপালে মানবপাচারকারীদের ফাঁদে জিম্মি
প্রবাস ডেস্ক: সিলেট থেকে নেপাল হয়ে কানাডা পাঠানোর প্রলোভনে পড়ে মানবপাচারকারীদের ফাঁদে জিম্মি হয়েছিলেন তিন তরুণ।
বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তাঁদের নেপালে নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে অস্ত্রের মুখে আটকে রাখে পাচারকারীরা। পরে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। তবে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
রোববার (২ নভেম্বর) ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে ব্র্যাক ভুক্তভোগীদের পরিচয় প্রকাশ করেনি।
শরিফুল হাসান জানান, সম্প্রতি সিলেটের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁরা খবর পান যে, তাঁর ভাইসহ তিনজনকে কানাডায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে নেপালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি ছিল-কানাডায় পৌঁছানোর পরই খরচ পরিশোধ করতে হবে। সেই অনুযায়ী ১৩ অক্টোবর সিলেট থেকে তিনজন নেপালে যান। নেপালে পৌঁছানোর পর তাঁদের কাঠমান্ডুর একটি হোটেলে রাখে পাচারকারীরা। সেখানে পাসপোর্ট ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে।
এরপর তাঁদের পাসপোর্টে কানাডার ভিসা ও টিকিট লাগানো ছবি পাঠিয়ে পরিবারকে জানানো হয়—তাঁরা কানাডায় পৌঁছে গেছেন। এমনকি কানাডার একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থানীয় দালালকে পাঁচ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। পরবর্তীতে প্রত্যেকের কাছে আরও ১২ লাখ টাকা দাবি করে পাচারকারীরা।
পরিবারের সন্দেহ হলে তাঁরা স্থানীয় দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর পাচারকারীরা আরও চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে এবং জিম্মিদের নির্যাতন বাড়িয়ে দেয়।
শরিফুল জানান, ২৬ অক্টোবর ভুক্তভোগীদের পরিবার ব্র্যাকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর ব্র্যাক সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি), সিআইডি এবং নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধার অভিযানের ব্যবস্থা করে। সিলেটের কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের হয়। ওই রাতেই পুলিশের যৌথ অভিযানে স্থানীয় একজন দালালকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের খবর পাচারকারীদের কাছে পৌঁছালে, তাঁরা ওই রাতেই কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের পাশে তিনজনকে ছেড়ে দেয়। পরে ৩০ অক্টোবর তাঁরা ঢাকায় ফেরেন। ব্র্যাকের ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম তাঁদের সহায়তা দেয় এবং পরবর্তীতে গোয়েন্দা সংস্থা তাঁদের জবাবন্দি গ্রহণ করে।
ব্র্যাক জানিয়েছে, শুধু কানাডা নয়, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশেও নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নেপালে আটকে রেখে একইভাবে নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে। যেহেতু নেপালে ভিসা ছাড়া অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যাওয়া যায়, তাই পাচারকারীরা এই দেশকেই প্রথম ধাপ হিসেবে ব্যবহার করছে।
শরিফুল হাসান বলেন, ‘নেপাল হয়ে কানাডা বা ইউরোপ পাঠানোর নামে যারা প্রলোভন দিচ্ছে, তাদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যেন এমন ফাঁদে না পড়ে। কোনো সন্দেহজনক প্রস্তাব এলে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করতে হবে।’
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জানায়, বিদেশে বিপদে পড়া যে কেউ তাদের সহায়তা চাইতে পারেন। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্র্যাক মানবপাচার রোধ ও ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনে কাজ করে যাচ্ছে।
Related News
নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে এক সন্ত্রাসী হামলায় রাজু নামেRead More
মিশরে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস যাওয়ার পথে দিকভ্রান্তRead More



Comments are Closed