Main Menu

ছাতকে চোরাকারবারীদের হামলায় দুই পুলিশ আহত, গ্রেপ্তার ৬

Manual3 Ad Code

ছাতক প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতকে চোরাচালানি মামলার আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলার টেঙ্গারগাঁও এলাকায় চোরাকারবারী শাহিনের নেতৃত্বে এ হামলায় এসআই সাহাব উদ্দিন ও কনস্টেবল মোস্তাক আহমদ গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল মোস্তাককে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Manual3 Ad Code

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সোমবার (২৫ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেপ্তার করতে এসআই রোমেন মিয়ার নেতৃত্বে একটি টিম ছাতক পৌরসভার টেঙ্গারগাঁও গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় চোরাচালানি শাহিনের ভাই জয়নাল মিয়া পুলিশকে বাধা দেয় এবং মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই ৪০–৫০ জন লোক জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ছাতক থানার ওসি সফিকুল আলম খানের নেতৃত্বাধীন আরও একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে শাহিনের নেতৃত্বে দেশি অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

Manual3 Ad Code

হামলাকারীরা দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এসআই সাহাব উদ্দিন ও কনস্টেবল মোস্তাককে গুরুতর আহত করে। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কনস্টেবল মোস্তাককে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এসআই সাহাব উদ্দিনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

Manual3 Ad Code

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহিন ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। অতীতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার সুবাদে তারা দলীয় আশ্রয়–প্রশ্রয় পেত। গণঅভ্যুত্থানের পর নিজেকে আওয়ামী বিরোধী পরিচয় দিয়ে আবারও চোরাচালান ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে শাহিন। গত ১৮ জুলাই সেনাবাহিনী প্রায় ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য আটক করলে সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। শাহিন শুধু পুলিশ নয়, সাংবাদিকদেরও হুমকি দিয়েছে। সম্প্রতি একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় দুই সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেয় সে। এমনকি নিজের মালামাল আটক করার দায় সাংবাদিকদের ওপর চাপিয়ে খুনের হুমকি দেয়। এ সংক্রান্ত কল রেকর্ডসহ থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও তৎকালীন ওসি কোনো ব্যবস্থা নেননি। ফলে শাহিন ও তার ভাইয়েরা আরও দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠে।

পুলিশের অভিযানে ঘটনাস্থল থেকেই চারজনকে আটক করা হয়। পরবর্তী অভিযানে আরও দুই নারীসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—আলতাফ আলীর পুত্র সাইমন মিয়া (২২), জয়নাল মিয়া (৩২), আক্তার মিয়া (২৭), মিলন মিয়া (২৫), তাদের মা আলেয়া বেগম (৫০) ও বাবা আলতাফ আলী। এছাড়া নুরুল হকের স্ত্রী বেদেনা বেগম (৫০)-কেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, শাহিন, জয়নাল, মিলন, সাইমন, আলতাফ মিয়া, মোস্তাকিন ও মান্না মিলে প্রায় ৪০–৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল হামলায় অংশ নেয়। তবে মূল আসামি শাহিন ও তার কয়েক সহযোগী পালিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে এসআই সুমেন আহমদ বাদী হয়ে শাহিনকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ ছাতক থানায় পুলিশ এসল্ট মামলা দায়ের করেছেন। আটক আসামিদের মঙ্গলবার বিকালে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Manual5 Ad Code

ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ সফিকুল আলম খান বলেন, “নিয়মিত মামলার আসামি ধরতে গেলে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়, পরে আরও দুই নারীসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণ করেছেন। মূল আসামি শাহিনসহ পলাতকদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা বলছেন, শাহিন ও তার পরিবারের দীর্ঘদিনের দৌরাত্ম্যের কারণে সাধারণ মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত। পুলিশি অভিযানের পরও তারা বহাল তবিয়তে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code