সিলেট-আখাউড়া চার লোকাল ট্রেনের তিনটিই বন্ধ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-আখাউড়া রেলপথে চলাচলকারী চারটি লোকাল ট্রেনসেবার মধ্যে তিনটি ট্রেন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যে একটি ট্রেন চলাচল করছে, তাতে সেবার চেয়ে ভোগান্তিই বেশি। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, লোকবল সংকটের কারণে অনেক দিন থেকেই এসব লোকাল ট্রেন বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সিলেট-ঢাকা রোডে চলাচলকারী একমাত্র ট্রেন সুরমা মেইল চালু রয়েছে। তবে ট্রেনটি অনিয়মিতভাবে চলাচল করায় আগে থেকে সময়সূচি জানতে পারছেন না যাত্রীরা। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জানা যায়, একসময় সিলেট-চট্টগ্রাম রোডে জালালাবাদ এক্সপ্রেস (১৩-১৪), সিলেট-আখাউড়া রুটের কুশিয়ারা এক্সপ্রেস এবং একটি ডেমু ট্রেন চলাচল করত। করোনাকালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জালালাবাদ এক্সপ্রেসটি বন্ধ করে দেয়। তার আগে ২০১৯ সাল থেকে রুটের একমাত্র ডেমু ট্রেনটি এবং দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে কুশিয়ারা এক্সপ্রেসের সেবাও। লোকবল সংকটসহ নানা অজুহাতে সেগুলো আর চালুর কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। একমাত্র লোকাল ট্রেন হিসেবে সুরমা মেইল বর্তমানে ডাক বিভাগের একটি বগিসহ মোট তিনটি বগি নিয়ে চালু থাকলেও ইঞ্জিন সংকটে প্রতিদিন সেবা দিতে পারছে না। বিকল্প হিসেবে সড়কপথের দিকে ঝুঁকেছেন এসব যাত্রী। তাতে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত এবং মালপত্র বহনে খরচ বেড়েছে অনেকটাই। এতে নিম্ন আয়ের মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে সিলেট অঞ্চলের মৎস্য ও সবজি ব্যবসায়ীদের।
চট্টগ্রাম থেকে ইলিশ আমদানিকারী গিয়াস উদ্দিন ও আয়াজ আলী জানান, জালালাবাদ ট্রেনটি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। সাগরের মাছ ও চাঁদপুরী ইলিশ আগে খুব সহজে চট্টগ্রাম স্টেশনে বুকিং দিয়ে জালালাবাদ ট্রেনে করে নিয়ে আসা যেত। এতে খরচ অনেক কম হতো।
সিলেট-আখাউড়া রেলপথের লোকাল ট্রেনের একসময়ের নিয়মিত যাত্রী লংলা এলাকার সিপন খান, মনু এলাকার ফখর উদ্দিন, ভাটেরা এলাকার নজরুল ইসলাম বেলালসহ অনেকেই জানান, এসব ট্রেনের সেবা বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া ও সময় নষ্ট করে সড়কপথে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। মালপত্র পরিবহনে দুর্ভোগ আরও বেশি। বন্ধ থাকা লোকাল ট্রেনগুলো দ্রুত চালু করার দাবি জানান তারা।
কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন মাস্টার রোমান আহমদের ভাষ্য, ইঞ্জিন, বগি, লোকবল সংকটের কারণে রেলওয়ের লোকাল তিনটি ট্রেনের সেবা বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া ডেমু ট্রেনটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। লোকাল ট্রেনগুলো বন্ধ থাকলেও মাছসহ মালপত্র বহনের জন্য আন্তঃনগর ট্রেনে লাগেজ বগি সংযুক্ত করা হয়েছে।
সিলেট-আখাউড়া সেকশনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শাহজাহান পাটোয়ারী বলেন, নানা সংকটের কারণে বন্ধ থাকা লোকাল ট্রেন চালু করতে দেরি হচ্ছে। এ বিষয়ে অনেক চিঠি লেখালেখি হয়েছে। মেইল ট্রেনটি ইঞ্জিন পাওয়া গেলে চালানো হয়।
Related News
সারাদেশে ৩৮৬ কিশোর গ্যাং, সিলেটে ১৫টি
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গত ২৭ জুলাই ফুটবল খোলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সিলেটRead More
সিলেটে গুলনী চা বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার গুলনীRead More



Comments are Closed