Main Menu

সুনামগঞ্জে যাদুকাটা নদী ধ্বংস করছে বালুখেকোরা

Manual1 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ইজারা ব্যবস্থার আড়ালে সুনামগঞ্জে যাদুকাটা নদীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হয় পরিবেশ বিধ্বংসী কাজ। সনাতনী পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের কথা বলা হলেও ড্রেজার এবং সেইভ মেশিনের তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে নদীর দুই পার। বর্তমানে ইজারা স্থগিত থাকলেও অবৈধ এ কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।

পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা বলছেন, ইজারার নামে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পরিমাপ এবং জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে। তা না হলে এ ধরনের লুটপাট থামানো যাবে না। মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশের রূপ-সৌন্দর্যের এই লীলাভূমির অবস্থাও সিলেটের সাদাপাথরের মতো হবে।

রূপের নদী, সম্পদের নদী– এরকম নানা নামে ডাকা হয় যাদুকাটাকে। জেলার সর্ববৃহৎ বালুমহাল এটি। আগের সরকারের আমলে রাত-দিন ড্রেজার ব্যবহারে তোলা হয়েছে বালু। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই মহালের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তবে এখন রাতে চলছে ড্রেজার ব্যবহার। এদিকে ইজারা পদ্ধতি ফের চালু করার দাবিতে শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।

Manual2 Ad Code

ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু তোলা নিষেধ। বারকি নৌকা ও বেলচা ব্যবহার করে সনাতনী পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের কথা ছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নদীতে ড্রেজার, সেইভ মেশিনের তাণ্ডব চলেছে গত সরকারের সময়। জাদুকাটা ১ ও ২ বালু মহালের বাইরেও এমন পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এখনও বিভিন্ন স্থানে এ প্রক্রিয়া চলছে রাতের আঁধারে। দানবাকৃতির মেশিনের মাধ্যমে খুবলে নেওয়া হচ্ছে নদীর পার। এতে বিলীন হয়েছে নদী তীরবর্তী রাস্তাঘাট, মানুষের ঘরবাড়ি ও খাস জমি। নদীর পাড়ে থাকা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৃহৎ মন্দির শ্রী অদ্বৈত মন্দিরের (এতে সরকার ২০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ করছে) ২০০-৩০০ গজের মধ্যেই চলেছে ড্রেজার মেশিন। শাহ্‌ আরেফিন-শ্রী অদ্বৈত সেতুর (১০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে সেতুর কাজ হচ্ছে) পিলারের কাছাকাছি এলাকায়ও ড্রেজারের তাণ্ডব চলছে। সেখানে নদীর পার ভাঙতে ভাঙতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হুমকিতে পড়েছে।

Manual6 Ad Code

সুনামগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মল্লিক মইনুদ্দিন সোহেল বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর সঠিক প্রয়োগ আমরা দেখি না। সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করে এই আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে এ ধরনের অপরাধ কমবে। সম্প্রতি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে ওই এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত এই প্রতিবেদন জমা দিলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে।

Manual7 Ad Code

পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা বলছেন, নদীর ক্ষয়ক্ষতি পরিমাপ করা প্রয়োজন। এই অপরাধে যুক্ত বালু-পাথরখেকো থেকে শুরু করে প্রশাসনের যাদের সম্পৃক্ততা ছিল, তাদের নাম প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন। প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে অন্যরা এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে।

বাদাঘাটের বাসিন্দা সমাজকর্মী আবুল হোসেন বলেন, ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং ইজারাদার নির্ধারণ করে প্রশাসন। ইজারার পরও প্রশাসন দেখভাল করে। তবে কীভাবে ড্রেজার, সেইভ মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হয়েছে, নদীর পাড় কাটা হয়েছে? এর সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।

সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ বলেন, যাদুকাটা নদীতে লুটপাট চালিয়ে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটানো হয়েছে। ম্যাপ এবং জমির রেকর্ড দেখে পরিমাপ করলে মূল নদী বের হবে। যারা পরিবেশের এত বড় ক্ষতি করছে, তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হোক।

Manual8 Ad Code

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে যেরকম দৌরাত্ম্য ছিল, তা আর নেই। এটি কনফিডেন্টলি বলতে পারি। এই কাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহযোগিতা করেছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সুনামগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট একটি আদেশ দিয়েছেন।’

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code