Main Menu

সিলেটে টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

Manual4 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে সিলেটের নিম্নাঞ্চল। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

শনিবার (৩১ মে) সকাল থেকে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। এতে নগরজীবনে মানুষের নিত্যদিনের কর্মযজ্ঞে প্রভাব পড়েছে।

এদিকে, ভারতের চেরাপুঞ্জিসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারী বর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে সিলেটের নিম্নাঞ্চল।

গোয়াইনঘাট উপজেলার সদরের সঙ্গে অন্যান্য এলাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, টানা বর্ষণে ও উজানের ঢলে উপজেলার পূর্ব ও মধ্য জাফলং, আলীরগাও, পশ্চিম আলীর গাও, পশ্চিম জাফলং, নন্দিরগাও, ডৌবাড়ি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে উপজেলার রাধানগর সড়ক। এছাড়া উপজেলা সদরের চলাচলের সড়কেও পানি উঠেছে।

Manual7 Ad Code

গোয়াইনঘাটের বাসিন্দা আব্দুল মতিন বলেন, উজানে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জাফলংয়ের পিয়াইন নদী, গোয়াইন নদী, সারি নদী, ধলাই ও কানাইঘাটের লোভাছড়া দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

Manual3 Ad Code

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আল্লাহর মেহেরবানিতে অবস্থা ভালো রয়েছে। সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে যাচ্ছে। তবে রাধানগর থেকে গোয়াইনঘাট রাস্তা আধা ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ৫৮টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত শুকনো খাবার রয়েছে।

কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার বলেন, উপজেলার দুটি বড় নদী সুরমা ও লোভাছড়ার পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে পাহাড়ি ঢলে প্রস্তুতি হিসেবে ৩৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। অবশ্য লোভাছড়ার আশপাশ এলাকার বেশিরভাগ লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে তাদের স্বজনদের বাড়িতে চলে গেছে। ইতোমধ্যে ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে, এনজিও এবং রেড ক্রিসেন্টের দুর্যোগকালীন উদ্ধার তৎপরতার জন্য ইউনিয়নভিত্তিক ৩০/৪০ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডে সিলেটের তথ্যমতে, শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সুরমা, কুশিয়ারা, ধলাই, পিয়াইন ও সারি নদীসহ সবকটি নদ-নদীর পানি সমানতালে আরও বাড়ছে।

Manual4 Ad Code

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলার কানাইঘাটে সুরমার পানি বেড়ে হয়েছে ১১ দশমিক ৫৬ সেন্টিমিটার, বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সে.মি.। সিলেট পয়েন্টে ৮ দশমিক ৯৮ সে.মি , বিপৎসীমা ১০.৮ সে.মি.।

এদিকে, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এতে নগরের বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। অনেক সড়কে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যানবাহন বন্ধ হয়ে পড়তে দেখা গেছে।

Manual8 Ad Code

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সিলেট নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নগরীর আম্বরখানা-বিমানবন্দর প্রধান সড়ক, সিলেট রেলওয়ে স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও নগরীর হাওয়াপাড়া, জালালাবাদ, পাঠানটুলা, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, টিলাগড়, মেজরটিলা, শাহপরাণসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। নগরীর কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও বা কোমর সমান। অনেক এলাকায় বাসা-বাড়িতেও পানি উঠেছে। এ অবস্থায় বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই। আবহাওয়ার যা পূর্বাভাস, আগামী কয়েকদিন এ অবস্থা চলতে থাকবে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, শনিবার (৩১ মে) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নগরীতে ১৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে সুরমা নদীর পানি সিলেট নগরীতে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিপদসীমার ১৪৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও নগরীর ড্রেন-খাল ও ছড়া উপচে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃষ্টি থেমে গেলে দ্রুত পানি নেমে যাবে।’

এদিকে সিলেটে আকস্মিক অতি বৃষ্টির ফলে সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে।

সিসিক সূত্রে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি যোগাযোগ এবং মনিটরিংয়ের জন্য একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এই কন্ট্রোল রুমটি অবস্থিত সিলেট সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ের ২য় তলায়, কক্ষ নম্বর ২০৫ (কনফারেন্স রুম)। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে রয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলী আকবর (মোবাইল: ০১৭১১৯০৬৬৪৭)।

এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান (মোবাইল: ০১৭১৩৩১১৫২৬) এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অবঃ) মোহাম্মদ একলিম আবদীন (মোবাইল: ০১৭৬৯০০৫৮৫৬)।

সিসিক আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সচিবগণ নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে পরিস্থিতি পরিদর্শন করবেন এবং তাৎক্ষণিক কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code