Main Menu

ছাতকের জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা পিবিআইতে স্থানান্তরের দাবিতে স্মারকলিপি

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের ছাতকে গুপ্তহত্যার শিকার স্বামী জিয়াউর রহমানের মামলার তদন্তভার থানা পুলিশের পরিবর্তে পিবিআইতে স্থানান্তর এবং মামলার বাদী হিসেবে তাকে গ্রহণের দাবী জানিয়ে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের গহরপুর গ্রামের রানু বেগম।

রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নগরীর দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে তিনি স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন।

Manual5 Ad Code

স্মারকলিপিতে তিনি উল্লেখ করেন, ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের গহরপুর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী জনৈক তাজ উদ্দিন ওরফে সারওয়ার আহমদ, জয়নাল আবেদিন, রাজু মিয়া, গৌছ উদ্দিন গং ব্যক্তিদের সাথে গ্রামে আধিপত্য বিস্তার এবং জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তার স্বামী জিয়াউর রহমানের গোষ্ঠীগত বিরোধ ছিল। বিগত সময়েও তারা নানাভাবে তার স্বামীর ক্ষতি করতে চেষ্টা করেছে। সর্বশেষ গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর তাজ উদ্দিন ওরফে সারওয়ার আহমদ তার স্বামী জিয়াউর রহমানকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে নানা রকমের হুমকী-ধমকী দেয়। এর পরদিন অর্থাৎ ৮ সেপ্টেম্বর সকালে তার স্বামী মুদি দোকানের মালামাল কিনতে বেশ কিছু টাকা নিয়ে সিলেট শহরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। কিন্তু ওইদিন সন্ধ্যায় বা রাতে তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় রানু বেগম ও তার ছেলে সালমান আহমদ জিয়াউর রহমানকে অনেক খোঁজাখুজি করেন। কিন্তু তাঁর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে পাশ্ববর্তী মহদী গ্রামের মন্দিরের নিকটবর্তী খাল থেকে পুলিশ তার স্বামী জিয়াউর রহমানের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে। স্বামীর এ অবস্থা দেখে তিনি পাগলপ্রায় হয়ে যান। পিতৃশোকে একই অবস্থা ছিল তার সন্তানদেরও।

Manual5 Ad Code

পরিবারের সবার হতাশাজনক এবং অনেকটা উন্মাদপ্রায় অবস্থার সুযোগে তার স্বামীর সৎভাই তাজিজুর রহমান বুদুর প্রতিপক্ষের যোগসাজশে তাড়াহুড়ো করে ভিকটিমের পরিবারের সাথে পরামর্শ ছাড়া কোন আসামীর নাম উল্লেখ না করেই নিজে বাদী হয়ে ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১২/২৪, তারিখঃ ১২/০৯/২০২৪, জিআর মামলা নং-১৯৯/২৪)। অথচ ওই তাজিজুর রহমান বুদুর বেশ কয়েক বছর আগে থেকে গ্রামে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে অন্ততঃ ১৫ কিলোমিটার দূরে অন্যগ্রামে বসবাস করছেন। কিন্তু তার স্বামী হত্যার পরের দিন থেকে প্রতিদিন দরখাস্তকারীর সৎ দেবর তাজিজুর রহমান বুদুরকে গ্রামে দেখা যায় এবং প্রতিপক্ষের সাথে সন্দেহজনক সখ্যতা পরিলক্ষিত হতে থাকে। পাশাপাশি পুলিশও মামলার বিষয়ে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি বা সন্দেহভাজন কাউকে আজ পর্যন্তও গ্রেফতার করতে পারেনি।

Manual4 Ad Code

অবস্থার প্রেক্ষাপটে নিতান্ত অসহায় হয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ তারিখে রানু বেগম নিজে বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা আমলগ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাজ উদ্দিন ওরফে সারওয়ার আহমদ, তাজিজুর রহমান বুদুর, জয়নাল আবেদিন, রাজু মিয়া, গৌছ উদ্দিন গং ব্যক্তিবর্গকে স্বামীর হত্যকারী হিসেবে দায়ী করে একটি দরখাস্ত মামলা (মামলা নং-৪৮৮/২৪) দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত তাৎক্ষণিক তার জবানবন্দী রেকর্ড করেন এবং ছাতক থানায় একই ঘটনায় মামলা থাকায় যথাযথ তদন্তপূর্বক পুলিশকে দ্রুত প্রতিবেদন পেশ করার নির্দেশ দেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, হত্যা মামলার তদন্তে থানা পুলিশের গড়িমসি ও স্বামী হত্যা মামলার কথিত বাদীর সন্দেহজনক আচরণ এবং হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী চিহ্নিত দুস্কৃতিকারী তাজ উদ্দিন ওরফে সারওয়ার আহমদ গংদের সাথে অস্বাভাবিক উঠাবসা লক্ষ্য করে স্বামী হত্যার ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে তিনি শংকিত হয়ে পড়েন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রানু বেগম সিলেট প্রেসক্লাবে গত বছরের ১৩ অক্টোবর একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মামলার বাদী পরিবর্তন এবং সন্দেহভাজন আসামীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান। কিন্তু কার্যতঃ তার প্রত্যাশা উপেক্ষিতই থেকে যায়।

Manual3 Ad Code

তাজ উদ্দিন ওরফে সারওয়ার আহমদ গংদের দায়ী করে মামলা দায়েরের কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা তুলে নিতে তাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে আসামীরা গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ সন্ধ্যায় তার ছেলে সালমান আহমদকে রাস্তায় একা পেয়ে হত্যার হুমকী দেয়। এর বিষয়ে তিনি গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ছাতক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৫৬২/২৫) করেছেন।

তিনি স্বামীর প্রকৃত খুনীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কথিত বাদী তাজিজুর রহমান বুদুরকে পরিবর্তন করে তাকে প্রকৃত বাদী হিসেবে গ্রহণ এবং থানা পুলিশের পরিবর্তে পিবিআই-এর মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত করে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন পেশ করার জন্য তিনি ডিআইজি বরাবরে আবেদন জানান।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code