Main Menu

কিশোরীকে আটকে রেখে ধর্ষণ, সিলেটে দুই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

Manual2 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে দুই দফায় কয়েক সপ্তাহ আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা ও এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আবদুস সালাম (৪০), স্বেচ্ছাসেবক লীগ সিলেট নগর শাখার সদস্য আবদুল মনাফ (৩৮) ও রেখা বেগম নামের এক নারী।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) রাতে সিলেট কোতোয়ালী থানায় তিনজনের নামোল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনের কথা উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন ভিকটিমের মা।

Manual4 Ad Code

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) সুমন কুমার চৌধুরী।

Manual2 Ad Code

মামলায় প্রধান আসামী হিসেবে আব্দুস সালামের নাম রয়েছে। তিনি নগরের লালাদিঘির পার এলাকার আব্দুর রহিমের পুত্র। এছাড়াও এই মামলার অপর আসামী আব্দুল মনাফ (৩৮) একই এলাকার ইশাদ মিয়ার পুত্র। তিনি সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য। এ ছাড়াও অজ্ঞাত কয়েকজনকে এই মামলার আসামী করা হয়েছে।

মামলায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নির্যাতিতা ওই তরুণী নগরীর শেখঘাটের একটি বোতল ফ্যাক্টরিতে কাজ করতো। পরিবারের সদস্যরা ওই তরুণীকে সিলেট নগরের বাসায় রেখে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যান। এই সুযোগে একই কলোনির বাসিন্দা রেখা বেগম লালদিঘীরপাড়ের আবদুস সালামের সাথে তরুণীকে পরিচয় করিয়ে দেয়। আবদুস সালাম ‘ভালো কাজ’ দেওয়ার প্রলোভন দেখায় তরুণীকে।

গত ৭ জানুয়ারি রেখা বেগম ভালো কাজের কথা বলে তরুণীটিকে আবদুস সালামের লালদিঘীরপাড়স্থ বাসায় নিয়ে যায়। পরে বাসার একটি রুমে ২২ দিন আটকে রেখে আবদুস সালাম তাকে ধর্ষন করে। পরিবারের সদস্যরা সিলেট নগরীস্থ বাসায় ফিরে তরুণীকে না পেয়ে সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ নেন। কিন্তু কোথাও না পেয়ে থানায় জিডি করতে চাইলে রেখা বেগম বাধা দিয়ে তাদেরকে আবদুস সালামের কাছে নিয়ে যায়। আবদুস সালাম তরুণীটিকে উদ্ধারের ব্যাপারে আশ্বাস দেয়। কয়েকদিন পর পরিবারের সদস্যরা আবারও আবদুস সালামের কাছে গেলে সে জানায় লন্ডন প্রবাসী একটি পরিবারের কাছ থেকে তরুণীটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই সময় লন্ডন প্রবাসী পরিবারের পরিচয় জানতে চাইলে আবদুস সালাম ক্ষেপে যায়। কিন্তু নির্যাতিতা তরুণী আবদুস সালাম কর্তৃক ধর্ষিত হওয়ার ঘটনা খুলে বললে সে প্রাণনাশের হুমকি ও তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবকলীগের ১১নং ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুস সালাম।

এ ঘটনার ৩দিন পর আবদুস সালাম বিয়ের কথা বলে ওই তরুণীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে মামলার আসামী আবদুল মনাফের মাধ্যমে তাকে হবিগঞ্জে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে তাকে আবদুস সালাম ও আবদুল মনাফসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন কিশোরীকে ধর্ষন করে। সেখান থেকে গত ২৬ মার্চ এক আত্মীয়ের মাধ্যমে কৌশলে কিশোরীকে উদ্ধার করে আনা হয়।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুমন চৌধুরী বলেন, ভিকটিম বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটি আমরা তদন্ত করছি। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

Manual1 Ad Code

মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈন উদ্দিন জানান, ভিকটিমের মা মামলা দায়ের করার পর পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করেছে আসামীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন সে তার পরিবারের কাছে রয়েছে।‘

Manual4 Ad Code

এ ব্যাপারে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাশ মিঠু বলেন, ‘মামলার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে রবিবার রাতে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।‘

তিনি বলেন, ’আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।‘

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code