সিলেটে পুকুর ভরাট করায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর পাঠানটুলা এলাকার মো. আব্দুল হাদী ও সানী উল বারী নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি পুকুর গোপনে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ব্যতিরেকে জলাধার ভরাট করার কারণে এই দুই ব্যক্তিকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ভরাটকৃত পুকুর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আদেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
গত বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন এই আদেশ দেন।
এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মামুনুর রশিদ ও সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র টেকনিশিয়ান আল মামুন স্থানটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকারী কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী বর্ণিত স্থানে ৫০ শতক জমির মধ্যে দুই বিবাদী মোট ৩৮ শতক জমির মালিক। বিবাদীগণ পরস্পর যোগসাজসে তাদের মালিকানাধীন জলাধার শ্রেণির দৃশ্যমান পুকুর ভরাট করেছেন।
সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৯০ (সংশোধিত ২০১০) এর ধারা ৬(৫) পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট জেলা কার্যালয় কর্তৃক সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক পুকুর ভরাটের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলা করা হয় এবং বিবাদী দু’জনকে ১৫ ফেব্রুয়ারি শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য নোটিশ করা হয়।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিবাদী মো. আব্দুল হাদী গুনানীতে হাজির হন। এসময় তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি গ্রহণ ব্যতিরেকে জলাধার ভরাটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রসিকিউশনের বক্তব্য ও অফিস রেকর্ড অনুযায়ী বর্ণিত দাগে পুকুর শ্রেণির মোট জমির পরিমাণ (৩৮.৭০/ ৪৩৬) ১৬৮৭৩ বর্গফুট। ভরাটকৃত পুকুরের পরিমাণ (১৬৮৭৩/৬০%) ১০,১২৪ বর্গফুট।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র/অনুমতি গ্রহণ ব্যতিরেকে বেআইনীভাবে পুকুর ভরাটের জন্য জন্য গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জলাধার ভরাটের মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতিপূরণের হার প্রতি বর্গফুটে দুই টাকা প্রতিদিন। বর্ণিত স্থানে জলাধার ভরাটের ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার যে ক্ষতিসাধন করেছেন, তার Environmental Damage Assessment হয় ১ লাখ ৮২ হাজার ২৩২ টাকা। বিবাদীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর ধারা ৭ মোতাবেক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধনের জন্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আগামী এক মাসের মধ্যে ভরাটকৃত পুকুর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে পুকুর ভরাটকারী মো. আব্দুল হাদী প্রথমে সবকিছু অস্বীকার করে বলেন, কোনা পুকুর ভরাট হয়নি। পরবর্তীতে মামলার শুনানি ও আদেশের কথা বললে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, এ ব্যাপারে আমি পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি।
পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র/অনুমতি গ্রহণ ব্যতিরেকে বেআইনীভাবে পুকুর ভরাটের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তাই প্রতিবেশ ও পরিবেশের ক্ষতিসাধনের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ আরোপিত ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবর জমা প্রদান ও আগামী এক মাসের মধ্যে ভরাটকৃত পুকুর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আদেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোষিত ২০১০) অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আদালত স্পেশাল ম্যাজিস্ট্যাট আদালতে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Related News
সিলেট জেলা ও মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের প্রস্তুতি সভা
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে পুশইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যেরRead More
অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সিকৃবি ভিসির মত বিনিময়
Manual8 Ad Code সিকৃবি সংবাদদাতা: অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ ও ভিসা সংক্রান্ত পদ্ধতি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনেরRead More



Comments are Closed