Main Menu

বঙ্গবীর ওসমানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সিইনসি, সাবেক মন্ত্রী বঙ্গবীর জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার।

৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ সিলেটের এক প্রস্তুতি সভা সোমবার বিকালে ৫নং বার হলে অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ সিলেটের সভাপতি সৈয়ীদ আহমদ বহলুল এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মালিক, আমিরুল হোসেন চৌধুরী আমনু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক চৌধুরী দেলোয়ার হোসেন জিলন, এডভোকেট খন্দকার দেলোয়ার হোসেন রানা, কয়েছ আহমদ সাগর, আব্দুস সামাদ, আমীন তাহমিদ প্রমুখ।

সভায় বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত খতমে কোরআন, বাদ আছর হযরত শাহজালাল (রহ:) দরগাহ জামে মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া এবং বঙ্গবীর ওসমানীর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরহুমের কবর জিয়ারত।

২৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীরস্থ বঙ্গবীর এম এ জি ওসমানী দাতব্য চিকিৎসালয়, স্মৃতি জাদুঘর ও গণগ্রন্থাগারে অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও চক্ষু শিবির এবং সুবিধা বঞ্চিত মহিলাদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ ও একজন রোগীকে চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ প্রদন শেষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

উপরোক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নে আন্তরিক সাহায্য সহযোগিতা ও সদয় উপস্থিতি কামনা করেছেন বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ সিলেটের সভাপতি সৈয়ীদ আহমদ বহলুল।

Manual7 Ad Code

১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এমএজি ওসমানী। তার বাবার নাম খান বাহাদুর মফিজুর রহমান, মাতা জোবেদা খাতুন। তার পিতৃপুরুষের বাড়ি সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার বর্তমানে ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীরে। খান বাহাদুর মফিজুর রহমানের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার ছোট ছেলে ওসমানী।

পিতার চাকরির সুবাদে তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে বিভিন্ন জায়গায়। ১৯২৩ সালে জেনারেল ওসমানীর শিক্ষা জীবন শুরু হয় এবং মাত্র ১১ বছর বয়সে ১৯২৯ সালে আসামের কটন স্কুলে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবন শুরু করেন। ১৯৩৪ সালে তিনি প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাস করে অসাধারণ ফলাফলের জন্য প্রিটোরিয়া পুরস্কার লাভ করেন। মেট্রিক পাস করার পর তিনি আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকেই ওসমানী আইএ ও বিএ পাস করে এম এ ১ম পর্ব শেষ করেন। ইতিমধ্যে তিনি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ফেডারেশন পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।

কমিশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে যোগ না দিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। ১৯৩৯ সালে জুলাই মাসে ওসমানী ব্রিটিশ ভারতের সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪০ সালে ৫ অক্টোবর তিনি ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমি দেরাদুন থেকে সামরিক শিক্ষা সমাপ্ত করে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে কমিশন প্রাপ্ত হন।

এরপর দ্রুত পদোন্নতি লাভ করে ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ক্যাপ্টেন এবং ১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ মেজর হন। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ওসমানী ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে লং কোর্স পরীক্ষা দিয়ে উচ্চস্থান লাভ দেশবিভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এসময় তার পদমর্যাদা ছিল লেফটেন্যান্ট কর্নেল। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাস প্রতিষ্ঠা করেন৷

১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ববাংলার আরও কয়েকটি আঞ্চলিক স্টেশনের দায়িত্বও তিনি সফলতার সঙ্গে পালন করেন৷ পরবর্তীকালে তিনি ১৪তম পাঞ্জাব রেজিমেন্ট এর ৯ম ব্যাটেলিয়নের রাইফেলস কোম্পানির পরিচালক, (ই.পি.আর.)-এর অতিরিক্ত কমান্ড্যান্ট, সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ অফিসার প্রভৃতি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি কর্নেল পদমর্যাদা লাভ করেন এবং সেনাবাহিনীর হেডকোয়ার্টারের জেনারেল স্টাফ অ্যান্ড মিলিটারি অপারেশনের ডেপুটি ডিরেক্টরের দায়িত্ব পান। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে তিনি পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধ করেন৷ পাক-ভারত যুদ্ধ যখন শেষ হয় তখন তার বয়স চল্লিশের উপরে৷ ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবসর গ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের জুলাই মাসে তিনি রাজনীতিতে যোগদান করেন এবং ওই বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ থানার সমন্বয়ে গঠিত পাকিস্তানের বৃহত্তম নির্বাচনী এলাকা থেকে তার নিকট চারজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জাতীয় পরিষদে জয়লাভ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জাতির সংকটময় মুহূর্তে তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে মোকাবিলা করার স্বার্থে একটি সেনাবাহিনী, একটি গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলেন। চরম বিপর্যয়ের মোকাবিলায় অসম ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি একটি সুশিক্ষিত ও সুসজ্জিত শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধ বিজয়ের দিকে ধাবিত করেন।

জাতির প্রতি তার চরম ত্যাগ ও মহান সেবার স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার কর্নেল ওসমানী পি.এম.সি.কে জেনারেল পদে উন্নীত করেন। ১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল হতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের পদ বিলুপ্ত হওয়ায় তিনি সামরিক বাহিনী থেকে ছুটি নেন এবং বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য হিসেবে পরিষদের আসন গ্রহণ করেন।

Manual5 Ad Code

জেনারেল ওসমানী ১৯৭২ সালের ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের জাহাজ চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ ও বিমান চলাচল মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের জন্য একটি সুষ্ঠু নৌ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। মুহাম্মদ আতাউল গণী ওসমানী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দু’বার মন্ত্রী হন এবং ১৯৭৪ সালের ১ মে তিনি একযোগে মন্ত্রিসভা ও সংসদ সদস্য পদ থেকে এবং বাকশাল গঠনের বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগ থেকেও পদত্যাগ করেন।

Manual8 Ad Code

১৯৭৫ সালের ২৯ আগস্ট তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের অনুরোধে প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করলে ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে পদত্যাগ করেন এবং ১৯৭৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নিজস্ব রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় জনতা পার্টি’ গঠন করেন। তিনি ১৯৭৮ এবং ১৯৮১ সালে মোট দু’বার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। জেনারেল ওসমানী চিরকুমার ছিলেন।

Manual1 Ad Code

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ওসমানী ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৬৬ বৎসর বয়সে লন্ডন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার ইচ্ছামত তাকে হযরত শাহজালাল (র.) এর দরগায় তার মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

তার সুবিশাল কর্মময়জীবন ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রয়েছে ‘ওসমানী উদ্যান’ ‘ওসমানী মেমোরিয়াল হল’, সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতাল, ‘ওসমানী জাদুঘর এবং ওসমানী বিমানবন্দর।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code