ভৈরবে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ২৪
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় তিনটি বগি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। যাত্রীবাহী ট্রেনে মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বগির নিচ থেকে ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৪০ থেকে ৫০ জন। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (২৩ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার জগন্নাথপুর রেল ক্রসিং এলাকায় আন্তঃনগর এগারসিন্দুর এক্সপ্রেস ট্রেন ও একটি মালবাহী ট্রেনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় এগারসিন্দুর এক্সপ্রেসের কয়েকটি বগি যাত্রীসহ উল্টে যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া র্যাব-৯ এর এএসপি গোলাম মুহাম্মদ সন্ধ্যে পৌনে ৭টার দিকে জানান, এখন পর্যন্ত ২৪ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে আটজনের পরিচয় মিলেছে। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হচ্ছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে নিহতদের মধ্যে আটজনের পরিচয় শনাক্ত করেছেন স্বজনরা। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করছে পুলিশ। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নিহতরা হলেন- ভৈরবের রাধানগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আফজাল হোসেন (২৩), করিমগঞ্জ উপজেলার নজরুল ইসলামের স্ত্রী হোসনা আক্তার, কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে হুমায়ুন কবির, বাজিতপুর উপজেলার ভু্ইয়াগাও গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে আছির উদ্দিন, ভৈরবের উত্তর রানীবাজার গ্রামের প্রধান শীলের ছেলে সবুজ চন্দ্র শীল, শ্রীনগর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে রাব্বী, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চানপুর গ্রামের চান মিয়ার ছেলে সাইমন মিয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বরইছাড়া গ্রামের মৃত সুরত বালীর ছেলে নিজাম উদ্দিন সরকার।
দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট। এ ছাড়া র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্য, রেলওয়ে ও জেলা পুলিশের সদস্যরাও উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার জীবন মিয়া জানান, ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনের নিচে এখনো মানুষ চাপা পড়ে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত কোচগুলোতে অনেকেই আহত অবস্থায় পড়ে আছে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেছে।
জানা যায়, একটি মালবাহী ট্রেন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল, আর আন্তঃনগর এগারসিন্দুর এক্সপ্রেস ট্রেন যাচ্ছিল ভৈরব থেকে ঢাকায়। পরে ভৈরব রেল স্টেশনের আউটার পয়েন্টে ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী ট্রেনের শেষ দুই বগিতে ধাক্কা দেয় মালবাহী ট্রেনটি। এ সময় যাত্রীবাহী ট্রেনের কয়েকটি বগি উল্টে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। পরে ফায়ার সার্ভিস ও র্যাব সদস্যরা উদ্ধারকাজে যোগ দেন।
দূর্ঘটনার পর ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মাসুদ সারওয়ার বলেন, ঢাকা থেকে একটি কনটেইনারবাহী ট্রেন ভৈরব স্টেশনে প্রবেশ করছিল। এর আগ মুহূর্তে ভৈরব থেকে এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকার দিকে রওনা হয়েছিল। জগন্নাথপুর রেলক্রসিং এলাকায় এগারোসিন্দুর ট্রেনের শেষের দু-তিনটি বগিতে কনটেইনারবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন আঘাত করে। মূলত সিগনালিংয়ের কোনো জটিলতার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। উদ্ধার কাজের জন্য ইতোমধ্যে রিলিফ ট্রেন রওনা হয়েছে। উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সিরাজ-উদ-দৌলা খান জানান, ভৈরব রেলস্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে এগারসিন্দুর এক্সপ্রেস গোধূলি ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার পর পরই স্টেশনের আউটারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মালবাহী ট্রেনটি সিগন্যাল না মানায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে রেল কর্তৃপক্ষ বলছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে মালবাহী ট্রেনটি ‘সিগন্যাল না মানায়’ এ সংঘর্ষ হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেননি তিনি।
এদিকে ভৈরবে দুই ট্রেনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় বিভাগীয়ভাবে দুইটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
সোমবার সন্ধ্যায় বিষয়টি জানান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার সিরাজ-উদ-দৌলা খান।
তিনি জানান, ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনায় রেলওয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ আলাদাভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ঢাকা বিভাগীয় তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- ঢাকা বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা, বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার লোকমেটিভ, বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ এবং বিভাগীয় সিগনাল ও টেলিকমিউনিকেশন প্রকৌশলী।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- রেলওয়ের সিওপিস মো. শহিদুল ইসলাম, চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জাকির হোসেন, চিফ ইঞ্জিনিয়ার, আরমান হোসেন, সিএসপি তুষার ও চিফ মেডিকেল অফিসার আহাদ আলী সরকার।
এদিকে রাত ৮টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের এখানে পর্যাপ্ত ডাক্তার আছেন। যাদের উন্নত চিকিৎসা দরকার তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মরদেহ দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ বলেন, ইতোমধ্যে উদ্ধারকারী ট্রেন দুর্ঘটনাকবলিত যাত্রীবাহী ট্রেনটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। খুব তাড়াতাড়ি ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
Related News
ট্রেনের ছাদে ভ্রমণকালে ব্রিজের ধাক্কায় প্রাণ গেলো যুবকের
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদেRead More
কিশোরগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত, আহত ৩
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পণ্যবাহী ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রীRead More



Comments are Closed