Main Menu

৩৭ বছর পর মিললো মহাকাশ ট্র্যাজেডির ধ্বংসাবশেষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে ১৯৮৬ সালের একটি ঘটনা। ওই বছর নাসার শাটল চ্যালেঞ্জার দুর্ঘটনায় পড়ে। উৎক্ষেপণের মাত্র ২ মিনিটের মধ্যেই বিস্ফোরণে ভেঙে পড়ে ভূমিতে।

সেই ধ্বংসাবশেষ পতিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলের কাছে আটলান্টিক মহাসাগরে। যানে থাকা সাতজন যাত্রীর সবাই মারা যান। কিন্তু এরপর খুঁজে পাওয়া যায়নি যানটির ধ্বংসাবশেষ।

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৭ বছর পর সেই ফ্লোরিডা উপকূলেই মিলল ঐতিহাসিক মহাকাশযানটির টুকরো অংশ।

বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এক ঘোষণায় জানায়, ফ্লোরিডার পূর্ব উপকূলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষের সন্ধানে থাকা সিনেমার ক্রুরা ধ্বংসাবশেষগুলো আবিষ্কার করে। এরপর ডুবুরিরা বালিতে ঢেকে থাকা অবস্থায় এগুলো উদ্ধার করে।

১৯৮৬ সালে মিশনটি যে জায়গা থেকে শুরু করা হয় তা ফ্লোরিডার উপকূলের কাছাকাছিই ছিল।

এ সম্পর্কে নাসার প্রশাসক বিল নেলসন বলেন, সাতজন নির্ভীক ও সাহসী অভিযাত্রী প্রাণ হারানোর প্রায় ৩৭ বছর হয়ে গিয়েছে। এ ট্র্যাজেডি আমাদের দেশের সবার স্মৃতিতে চিরকাল থাকবে। বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষের মতো আমার কাছেও মনে হয়, ১৯৮৬ সালের ২৮ জানুয়ারী এই তো মাত্র সেদিনের ঘটনা।

উড্ডয়নের দিন শাটলকর্মীরা যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে উদ্বেগের কথা বললেও টেকঅফের জন্য সবুজ সংকেত দেয় নাসা। পরবর্তীতে এক তদন্তে দেখা যায়, তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকার কারণে বড় একটি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে শাটলের ও-রিং সিলে— যা তরল উপাদানের ছিদ্রগুলো আটকাতে ব্যবহার করা হয়।

তবে বিস্ফোরিত হওয়ার আগে ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৬ সালের মধ্যে ৯টি যাত্রা সম্পন্ন করেছিল শাটলটি।

চ্যালেঞ্জার ছিল মহাকাশে যাওয়ার জন্য দ্বিতীয় শাটল। স্পেস ডটকম অনুসারে এ মহাকাশযানে করে প্রথম মার্কিন নারী ও প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান মহাকাশচারীকে মহাশূন্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনার ওপর ভিত্তি করে ২০২০ সালে নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টারি ‘চ্যালেঞ্জার: দ্য ফাইনাল ফ্লাইট’ নির্মাণ করা হয়। সেদিনের দুর্ঘটনাটি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নাসার মহাকাশ ভ্রমণ চালুর উচ্চাকাঙ্খাকে ম্লান করে দেয় বলে ২০১৬ সালের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে বেসামরিক উদ্যোগে ধনকুবের ইলোন মাস্ক, জেফ বেজোস এবং রিচার্ড ব্রানসন নিজস্ব পরিবহনে মহাকাশে ভ্রমণ করেছেন।

Share





Related News

Comments are Closed