জন্মদিনে গাড়িবহর নিয়ে বেরিয়ে হামলার শিকার নেতানিয়াহু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এবার নিজ দেশেই হামলার শিকার হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নিজের জন্মদিন উপলক্ষে জেরুজালেমের রাস্তায় গাড়িবহর নিয়ে বের হওয়ার পর তাকে লক্ষ্য করে কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে জেরুজালেমের মাহানে ইয়েহুদা বাজারে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দ্য জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ৭৭তম জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে তার গাড়িবহর জেরুজালেমের মাহানে ইয়েহুদা বাজার এলাকা অতিক্রম করে। এ সময় তাকে দেখতে ও শুভেচ্ছা জানাতে সেখানে হাজারো ইসরায়েলি জড়ো হন। গাড়িবহরের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে লাইট রেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িবহর লক্ষ্য করে বোতল ছোড়ার পর নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত জনতার জন্য তৈরি করা ব্যারিকেড টপকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করেন।
বাজার এলাকায় পৌঁছালে নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারাকে জন্মদিনের গান গেয়ে স্বাগত জানান উপস্থিত লোকজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে নেতানিয়াহুর দল লিকুদের পতাকা এবং ইরানের সিংহ ও সূর্যখচিত পতাকা হাতে দেখা যায়। এ সময় নেতানিয়াহুকে ফুলের তোড়া হাতে জনতার দিকে নাড়তে এবং পরে সেটি তাদের দিকে ছুড়ে দিতে দেখা গেছে।
ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
বেন-গভির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে উসকানি এবং তার ওপর পরিচালিত কর্মকাণ্ডের পরিণতি রয়েছে। বামপন্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দায়িত্বশীল আচরণ করুন। কথার আঘাতেও মানুষের মৃত্যু হতে পারে।’
এর আগে, একইদিন তেল আবিবের হাতিকভা বাজার পরিদর্শনে গিয়েও বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়েন নেতানিয়াহু। সেখানে এক ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করেন, আপনি হামাসকে লাখ লাখ টাকা কেন দিয়েছিলেন?
ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে সেখানে উপস্থিত লিকুদ সমর্থকেরা তার হাত থেকে ফোন ফেলে দেন এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই বাজারে নিহত জিম্মি গাই ইলুজের বাবা মিশেল ইলুজ, নিহত জিম্মি কারমেল গাতের চাচাতো ভাই গিল ডিকম্যান এবং সাবেক জিম্মি মাতান জাঙ্গাউকারের মা আইনাভ জাঙ্গাউকারও উপস্থিত ছিলেন। ৭ অক্টোবরের হামলার সময় ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের সরকার থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানাতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন।
জাঙ্গাউকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, নেতানিয়াহুকে সত্য কথাটি জানাতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, ৭ অক্টোবরের সময় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কেউই আর ক্ষমতায় থাকতে পারেন না, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী।
তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ বলা হয়, তাঁদের গায়ে থুতু দেওয়া হয় এবং সবজি ছুড়ে মারা হয়। জিম্মিদের স্বজনদের নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে বাধা দিতেই পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মিশেল ইলুজও অভিযোগ করেন, বন্দিদশায় তার ছেলের মৃত্যুর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন। শোকাহত একজন বাবার ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন। আগামী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে এ ঘটনার জবাব দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
সাবেক জিম্মি রম ব্রাসলাভস্কি এবং ডেমোক্র্যাটস দলের আইনপ্রণেতা গিলাদ কারিভও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
Related News
জন্মদিনে গাড়িবহর নিয়ে বেরিয়ে হামলার শিকার নেতানিয়াহু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এবার নিজ দেশেই হামলার শিকার হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নিজের জন্মদিন উপলক্ষেRead More
চীনের তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন।Read More



Comments are Closed