Main Menu

সেই শিক্ষকের সাথে রাগ করে রাতে বাইরে যান স্বামী মামুন

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নাটোরে কলেজশিক্ষক খায়রুন নাহারের মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী মামুন হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৬টার দিকে জেলা আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোসলেম উদ্দীন জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত রোববার সকাল ৭টার দিকে শহরের বলারিপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে খাইরুন নাহারের মরদেহ উদ্ধারের পর মামুনকে আটক করা হয়।

নিহত শিক্ষিক মোছা. খাইরুন নাহার গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় পৌর এলাকার মো. খয়ের উদ্দিনের মেয়ে এবং উপজেলার খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।

আটককৃত মামুন (২২) নাটোর এন এস সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, রোববার (১৪ আগস্ট) সকালে মরদেহ উদ্ধারের পর মামুনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত চলছে দাবি করে তিনি বলেন, মামুনের ব্যাপারে আদেশ দেবেন আদালত। আর তদন্ত শেষে ওই ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী মামুন তাদের দাম্পত্য কলহের কথা স্বীকার করেছেন। মামুন জানান, ‘শনিবার রাত ২টায় দুজনের ঝগড়া হলে তিনি বাইরে চলে যান’। এরপর শিক্ষক খাইরুন নাহার বেশ কয়েকবার ফোন করলেও মামুন ফোন রিসিভ করেননি। এতে ক্ষোভে খাইরুন নাহার আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান মামুন। সেদিন রাত ২টা থেকে ৬টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে মামুনের ঘোরাঘুরির তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

এদিকে কলেজ শিক্ষিকা খায়রুন নাহারের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধ হওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছেন তিন সদস্য বিশিষ্ট গঠিত মেডিকেল টিম।

গঠিত মেডিকেল টিমের প্রধান নাটোর সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সামিউল ইসলাম শান্ত জানান, মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আমরা ধারণা করছি শ্বাসরোধ হওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তারপরও ভিসেরা রিপোর্ট আসলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

রোববার (১৪ আগস্ট) সকালে পুলিশ নিহত শিক্ষিকার স্বামী মামুনকে আটকের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি জানান, খায়রুন নাহারের বাবা-মাসহ আত্মীয়-স্বজনরা যোগাযোগ রাখতেন না। খায়রুন নাহারের কলেজের কোনো সহকর্মী তার সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলতেন না। এজন্য মানসিক চাপে ছিলেন।

নিহত খায়রুন নাহারের চাচাত ভাই সাবির উদ্দিন বলেন, অসম বয়সের ছাত্রকে বিয়ে করায় খায়রুন নাহারের কলেজের সহকর্মীরা তার সঙ্গে তেমন কথা বলতেন না। বাবা-মাসহ আত্মীয়-স্বজনরা যোগাযোগ রাখতেন না। বিয়ের বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ায় খায়রুন নাহার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামুনের মাদকের মামলায় আসামি হওয়া, বখাটেদের সঙ্গে মারামারি, নতুন মোটরসাইকেল চাওয়া, স্বজন ও প্রতিবেশীদের কটু কথা, সংসার চালানোয় টানাপোড়েন– এসব কারণে মানসিক চাপে ছিলেন শিক্ষিকা।

উল্লেখ্য, গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোছা. খাইরুন নাহার। তার রাজশাহীর বাঘায় প্রথম বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিক কলহে সংসার বেশি দিন টেকেনি তার। তবে ওই ঘরে তার একটি সন্তান রয়েছে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ২০২১ সালের ২৪ জুন পরিচয় হয় মামুন হোসেনের সঙ্গে। এরপর থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বরে বিবাহবন্ধনে আবন্ধ হন তারা।

Share





Related News

Comments are Closed