Main Menu

সিলেটে হকার্স মার্কেটে ভয়াবহ আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর লালদীঘিরপার এলাকার হকার্স মার্কেটে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। রোজার শেষ সেহরী শেষ হতে না হতেই সোমবার (২ মে) ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে মার্কেটে আগুন লেগে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করে। প্রায় ৩ ঘন্টা চেস্টা চালিয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে ফায়ার সার্ভিস।

সিলেট ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার মামুন পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা ধরে চেস্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

Manual8 Ad Code

তিনি জানান, সোমবার (২ মে) রাত সোয়া ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কিছুই জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।

তবে মার্কেটের ভিতরে সরু রাস্তার কারনে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী প্রবেশে ব্যাঘাত ঘটেছে।

Manual1 Ad Code

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা আগুনে মার্কেটের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঈদের আগের দিন মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনায় হতচকিত হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অনেককেই মার্কেটের বাইরে কাঁদতে দেখা গেছে।

Manual4 Ad Code

টিন দিয়ে নির্মিত মার্কেটটিতে অন্তত ৩ হাজারেরও বেশি দোকান রয়েছে। মার্কেটের ৯০ ভাগই শাড়ি-লুঙ্গি ও রেডিমেইড কাপড়ের দোকান। এসব দোকানে পাইকারী ও খুচরা কাপড় বিক্রি হয়।

মার্কেটের সেক্রেটারী আব্দুস ছুবহান জানান, মার্কেটের ৫নং গলির বিসমিল্লাহ স্টোর নামের রেডিমেইড কাপড়ের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এর পরই অন্যান্য দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে একটি সিগারেটের গুদামসহ মার্কেটের ৩, ৪ ও ৫ নং গলিতে ১৫/২০টি কাপড়ের দোকান পুড়ে গেছে। অনেকের দোকানের মালামাল লুটপাটও হয়েছে বলে জানান তিনি।

একাধিক ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বিপণি বিতানের ৫ নম্বর গলির একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত। এরপর মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু মার্কেটের ভেতরে সরু গলি থাকায় ক্রমেই আগুনের পরিধি বাড়তে থাকে। মার্কেটের অসংখ্য দোকান পুড়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মেসার্স সামিয়া ক্লথ স্টোরের পরিচালক খলিলুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘রাতে সেহেরি খেয়ে ফজরের নামাজ আদায়ের পরপরই আগুন লাগার খবর পাই। সঙ্গে সঙ্গে এসে দেখি অন্য ব্যবসায়ীরাও হাজির হয়েছেন। নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দিকে এগিয়ে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি। সব ছাই হয়ে গেছে।’ আগুনে তাঁর প্রায় ১৫ লাখ টাকার মতো মালামাল পুড়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

মাসুম গার্মেন্টস নামের দোকানের ব্যবসায়ী ওলিউর রহমান দাবি করেন, তাঁর সব মিলিয়ে ১৬ থেকে ১৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া দোকানের সব হিসাব-নিকাশের কাগজপত্র পুড়ে গেছে। তবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর নগদ টাকা খুব বেশি ছিল না।

মেসার্স মুহিত গার্মেন্টের স্বত্বাধিকারী আবদুল মুহিত বলেন, ‘সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার কিছুই অবশিষ্ট রইল না। আগুনে দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’ কথা শেষ করেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় আশপাশের ব্যবসায়ীরা তাঁকে সান্ত্বনা দেন। জানান, নারীদের তৈরি পোশাক তিনি পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করতেন। ঈদের জন্য বাড়তি পোশাকও কিনে এনেছিলেন। মালামাল বিক্রি করার পর টাকা দেওয়ার কথা ছিল। এখন টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, সেই চিন্তায় অস্থির তিনি।

ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন, মার্কেটে যখন আগুন লাগে, তখন তিনি দোকান থেকে বাসায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে তাঁর দোকানে আগুন লাগেনি। আগুন লাগার পরপরই তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে তাৎক্ষণিক সিলেট নগরের তালতলা এলাকার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে যান। পরে তাদের খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানালেন, প্রথমে পানির ব্যবস্থা করতে না পারায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। পরে নদী এবং ছড়া থেকে পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু এর আগেই বেশ কিছু দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যেসব দোকান পুড়ে গেছে, এর বেশির ভাগ পোশাকের। এ ছাড়া জুতার দোকানও কিছু আছে।

আলকাছ মিয়া হোসিয়ারি অ্যান্ড গার্মেন্টস স্টোরের মালিক আলকাছ মিয়াকে তাঁর পুড়ে যাওয়া দোকানের সামনের অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, আগুনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দোকানের মালিক তিনি। তাঁর দোকানে পুরুষ ও নারীদের তৈরি পোশাক পাইকারি ও খুচরা দরে বিক্রি করা হতো।

আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকানের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, করোনায় গত দুই বছর ব্যবসা হয়নি। তাই এবারের ঈদকে সামনে রেখে বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকার পণ্য তুলেছেন দোকানে। সাধারণত ঈদের আগের দিন বেচাকেনা ভালো হয়। সেই প্রস্তুতি ব্যবসায়ীরা নিয়েছিলেন। এর মধ্যে আগুনে অনেকে নিঃস্ব হয়ে গেলেন।

Manual8 Ad Code

এদিকে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আল্লাহর সাহায্য চেয়ে ফজরের নামাজের পর নগরীর বিভিন্ন মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code