সিলেট লোক সংস্কৃতি উৎসবের ২য় দিনে নানা পরিবেশনা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের ৪০ বছর উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সিলেট বিভাগের আয়োজনে ৩ দিন ব্যাপি লোক সংস্কৃতি উৎসবের ২য় দিন বুধবার হাজার বছরের লোক ঐতিহ্যের নানা পরিবেশনায় বর্ণিল হয়ে ওঠে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাই কমিশন- ঢাকা এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিলেটের কিন ব্রীজ ও আলী আমজাদের ঘড়ি সংলগ্ন এলাকা জুড়ে শুরু হওয়া এ উৎসবের ২য় দিনও ছিলো লোকে লোকারণ্য।
বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া আয়োজনে কাঠি ও ঝুমুর নৃত্য, ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা, ধামাইল গান ও নাচ, লোক নৃত্য, নজরুলের লোকগান, রবীন্দ্রনাথের লোক গান, সমবেত বাউল পরিবেশনা, পুথিপাঠ, একক পরিবেশনা ও লোক নাটকের মধ্য দিয়ে জমজমাট হয়ে ওঠে পুরো উৎসব প্রাঙ্গন।
এছাড়া উৎসবে আমন্ত্রীত অতিথি হিসেবে লোক সাহিত্য নিয়ে কথামালা উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়য়ের নাটক ও নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড লুৎফর রহমান, বিশিষ্ট লোক গবেষক ও কবি মোস্তাক আহমাদ দ্বীন ও লোক গবেষক ও লেখক সুমঙ্কুমার দাশ।
উৎসবের ২য় দিন সম্মানীত অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এছাড়াও অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন সিলেটের সহকারী হাই কমিশনার নিরাজ কুমার জয়সওয়াল।
এছাড়াও আমন্ত্রীত দলের হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন বাংলাদেশ বেতার সিলেটের আঞ্চলিক পরিচালক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তারিক, সহকারী হাই কমিশনারের সহধর্মীনি মিসেস নীতা জয়সওয়াল বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের দপ্তর সম্পাদক জোবায়ের শিবলী, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক অরিন্দম দত্ত চন্দন, বিশিষ্ট নাট্য সংগঠক আমিরুল ইসলাম বাবু, খোয়াজ রহিম সবুজ ।
বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার সিলেট বিভাগের সমন্বয়কারী রজত কান্তি গুপ্তের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার এম.এ.জি. ওসমানী অঞ্চলের সমন্বয়কারী সৈয়দ সাইমুম আনজুম ইভান ও নাট্যশিল্পী জান্সনাতুল নাজনীন আশার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিক থিয়েটার দেয়ন্দী চা বাগান এর পরিবেশনায় কাঠি ও ঝুমুর নৃত্য, শাহজালাল লাঠিয়াল বাহিনী মোগলাবাজারের পরিবেশনা ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা, ধা্মাইল একাডেমী শ্রীমঙ্গলের পরিবেশনায় ধামিল গান ও নাচ।
অনুষ্ঠানে নজরুলের লোক গান পরিবেশন করে নজরুল সঙ্গীত শিল্পী পরিষদ, রবীন্দ্রনাথের লোক গান পরিবেশন করে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা। লোক নৃত্য পরিবেশন করে ছন্দ নৃত্যালয় সিলেট ও ললিত মঞ্জরী।
উৎসবে সধক আরকুম শাহ’র গানের সমবেত পরিবেশনা করেন আরকুম শা শিল্পী গোষ্টি। সবশেষে পরিবেশিত হয় নাট্যমঞ্চ সিলেটের পরিবেশনায় লোক নাটক রঙ্গমালা। এছাড়াও পুথিপাঠ করেন খোকন ফকির ও একক পরিবেশনা করেন মালতী পাল ও বাউল কালা মিয়া।
প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের সমাপনি দিন বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) থাকছে মণিপুরিনৃত্য, লোকনৃত্য, লোকগীতি, পালানাটক, আইলামবরসহ ভারত থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনা।
উল্লেখ্য “হাতের মুঠোয় হাজার বছর আমরা চলেছি সামনে” এই শ্লোগান নিয়ে গঠিত ৬ মাঘ ১৩৮৮ বঙ্গাব্দ, ২০ জানুয়ারি ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ সেলিম আল দীন, ও নাসির উদ্দীন ইউসুফ প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠন ঢাকা থিয়েটার। বর্তমানে সারা দেশে দুই শতাধিক সংগঠন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের আদর্শ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সারা দেশের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য ৩৬টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এ সকল অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন আঞ্চলিক সমন্বয়কারীগণ। আঞ্চলিক সমন্বয়কারীদের কাজের তত্ত্বাবধান করেন ৮ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮ জন বিভাগীয় সমন্বয়কারী।
Related News
‘দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে নাসির উদ্দীন ছিলেন এক সিংহ পুরুষ’
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: উচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতি বিরোধী গণআন্দোলন ও গণজাগরণ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালেRead More
সুরমা বয়েজ ক্লাবের উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মদনমোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আতাউর রহমান পীর বলেছেন, শিক্ষার্থীদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণRead More



Comments are Closed