শাবিতে শিক্ষার্থীদের মশাল মিছিল
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে মশাল মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২৪ জানুয়ারী) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দিক প্রদক্ষিণ করে একই জায়গায় এসে শেষ হয়। মশাল মিছিলে কয়েকশ শিক্ষার্থী অংশ নেন। এসময় তারা ‘এক দুই তিন চার, ফরিদ তুই গদি ছাড়’ ও ‘যে ভিসি মানুষ মারে, সে ভিসি চাই না’ সহ বিভিন্ন শ্লোগান দেন।
এর আগে গত শনিবার ও রবিবার রাতেও শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল করেন।
এছাড়াও আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবনে মানবপ্রাচীর তৈরি করে এবং বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ ও সাংবাদিক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না।
এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় উপাচার্যের জন্য খাবার নিয়ে শিক্ষকরা তার বাসভবনে ঢুকতে চাইলে তাদের বাধা দেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ফটকের সামনে শুয়ে পড়ে শিক্ষকদের পথ রোধ করেন এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে কিছুক্ষণ তর্কাতর্কি হয়। তাছাড়া এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেছেন, আমরণ অনশনের পরও উপাচার্য পদত্যাগ না করলে তাকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখা হবে।
একইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উল্লেখ্য, শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু ১৩ জানুয়ারি। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। ১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ। এরপর পুলিশ ৩০০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামেন।
বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ। ১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরদিনই বাড়ি চলে যান। বাকি ২৩ অনশনকারীর মধ্যে ১৬ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ২৩ জানুয়ারি আরও চারজন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দেন।
এর মাঝে উপাচার্য ইস্যুতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তবে বৈঠকের পর শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মূল দাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ। এই দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরবেন না। ২৩ জানুয়ারি দুপুরের পর শিক্ষার্থীদের আবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে তা না হওয়ায় তারা উপাচার্যকে অবরুদ্ধের ঘোষণা দেন।
Related News
বিশ্বনাথে হাওরের পানিতে ডুবে কিশোরের মৃত্যু
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় হাওরের পানিতে ডুবে মাহিদ আলী (১৬)Read More
বিশ্বনাথে বজ্রপাতে দিনমজুরের মৃত্যু
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে বজ্রপাতে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮Read More



Comments are Closed