Main Menu

টুইন টাওয়ার হামলার ২০ বছর

Manual8 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারে হামলার ২০ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়দার সদস্যরা এ হামলা চালায়। ওই দিন ১৯ জঙ্গি চারটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে আত্মঘাতী হামলা করে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি জায়গায়। দুটি উড়োজাহাজ আঘাত হানে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা টুইন টাওয়ারে। তৃতীয় উড়োজাহাজটি আক্রমণ করে পেন্টাগনে। আর চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ায়।

গোটা বিশ্ব আঁতকে উঠেছিল ভিডিওগুলো দেখে। উড়োজাহাজগুলো সোজা ধাক্কা মারল মার্কিনীদের গর্বের প্রতীকগুলোতে। ভয়াবহ এ হামলায় তিন হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন আরও ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ। যাদের মধ্যে চারশ’র বেশি ছিলেন পুলিশ এবং অগ্নিনির্বাপণ কর্মী।

‘নাইন-ইলেভেন’ নামে পরিচিত এই সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই সন্ত্রাসবাদ দমনে আরও কঠোর হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কী ঘটেছিল সেদিন? চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সকাল। সেদিনের আবহাওয়া ছিল চমৎকার। মানুষ ধীরে ধীরে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন।

সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৬৭ বিমানটি প্রায় বিশ হাজার গ্যালন জেট ফুয়েল নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র বা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে আঘাত করে। এটি ছিল ১১০ তলা ভবন যার ৮০তম তলায় বিমান আঘাত করে। মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ মানুষ মারা যায়।

Manual1 Ad Code

এর ১৮ মিনিট পরে দ্বিতীয় বিমানটি হামলা চালানো হয়। ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১৭৫-এর আরেকটি বোয়িং-৭৬৭ উড়োজাহাজ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ দিকের টাওয়ারের ৬০তম তলায় আঘাত হানে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টুইন টাওয়ারের উত্তর দিকের ভবনটি ভেঙে পড়ে।

তৃতীয় হামলাটি হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দফতর পেন্টাগনে। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে পেন্টাগনের পশ্চিম দিকে আঘাত করে আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ৭৭-এর বোয়িং-৭৫৭ উড়োজাহাজটি। পেন্টাগনে হামলায় ১২৫ জন সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। জিম্মি করা বিমানটির ভেতরে থাকা ৬৪ জনও নিহত হন।

Manual1 Ad Code

এরপর সকাল ১০টা ১০ মিনিটে চতুর্থ বিমান হামলাটি হয়। নিউজার্সি থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করার ৪০ মিনিট পর ইউনাইটেড ফ্লাইট ৯৩ নামের উড়োজাহাজটি ছিনতাই করা হয়। বিমানে থাকা অবস্থাতেই যাত্রীরা নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে হামলার বিষয়ে জেনে যান। পরে পশ্চিম পেনসিলভানিয়ার শ্যাংকসভিলের কাছে একটি ফাঁকা মাঠে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হলে বিমানে থাকা ৪৪ জনের সবাই নিহত হন।

৯/১১ হামলার জন্য অভিযুক্তদের অনেকেই এখনও জীবিত রয়েছেন। ওই হামলার সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হল, অভিযুক্তদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

সেদিনের সেই হামলাগুলো মার্কিন জাতীয় জীবনে যে শুধু বিপর্যয়ই ডেকে এনেছিল তা নয়। বরং প্রতিরোধেরও এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল। যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে চতুর্থ বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হারায় ছিনতাইকারী আল কায়েদার জঙ্গিরা।

ধারণা করা হয়, হামলাকারীদের আর্থিক মদদ দিয়েছিল ওসামা বিন লাদেনের সংগঠন আল-কায়েদা। এরপর লাদেনকে নির্মূল করতে আফগানিস্তানে হামলা করল যুক্তরাষ্ট্র। জঙ্গি মরল কম, সাধারণ মানুষই হামলার শিকার হল।

অন্যদিকে, নাইন-ইলেভেনের হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। হামলার পর প্রথম দিনেই নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে বড় ধস নামে। এক মাসেই চাকরি হারান ১ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ। ধারণা করা হয়, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলায় আনুমানিক ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ক্ষতি হয়েছিল।

যাইহোক, সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখ হওয়া আল কায়েদার হামলার পর মার্কিন আইনে যেমন পরিবর্তন আসে তেমনি পাল্টে যায় আমলাতন্ত্রও, গঠিত হয় নতুন বাহিনী।

Manual2 Ad Code

প্রসঙ্গত, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২০তম বার্ষিকীর কয়েকদিন আগেই আফগানিস্তান ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে আবারও কাবুলের কুরসি ছিনিয়ে নেয় তালেবান।

Manual2 Ad Code

এমন পরিস্থিতিতেই এবার ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২০তম বার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিন বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় নিহতদের স্মরণ করবে পুরো জাতি। সাজানো হয়েছে নিউ ইয়র্কে ওই ঘটনায় নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ।

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code