Main Menu

গোয়াইনঘাটে ২ সন্তানসহ স্ত্রী হত্যা, স্বামী হিফজুর গ্রেপ্তার

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় স্বামী হিফজুর রহমানকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ জুন) দুপুরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

গত বুধবার (১৬ জুন) সকালে গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের নিজ ঘর থেকে হিফজুরের স্ত্রী আলিমা বেগম (৩০), তার দুই সন্তান মিজান (৮) এবং তানিশা (৩)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘর থেকেই হিফুজরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

Manual4 Ad Code

এরপর থেকে হিফজুর পুলিশ প্রহরায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার আচরণ প্রথম থেকেই সন্দেহজনক বলে জানিয়েছিলো পুলিশ।

Manual7 Ad Code

শনিবার হিফজুরকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, চিকিৎসাধীন হিফজুর রহমান বর্তমানে সুস্থ আছেন। রোববার (২০ জুন) চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেবেন। চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দিলে রোববার আদালতে তোলা হবে। পাশপাশি মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রিমান্ড আবেদন করবে।

তিনি বলেন, ‘ঘটনার রাতে ওই ঘরে কেউ প্রবেশ করেনি। কারণ দরজা ভাঙার কোনো আলামত নেই। এছাড়া তিনি (হিফজুর) ঘটনার দিন সকালে ৩ জনকে ফোন দিয়েছেন। এর মধ্যে দুই জনকে বলেছেন তিনি অসুস্থ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। আর আমাদের কাছে ঘটনাস্থলের যে ছবি আছে তাতে দেখা যাচ্ছে, হিফজুর তার স্ত্রী ও সন্তানদের উপর শুয়ে আছেন। তবে তার পায়ে মাটি লাগানো। ধারণা করা হচ্ছে তিনি বেশ কিচ্ছুক্ষণ ঘরে হাটাহাটি করেছেন। এসব তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে আমরা মনে করছি তিনিই এঘটনায় জড়িত। ‘

তিনি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্তের চিকিৎসকরা আমাদের জানিয়েছেন আলিমা বেগম ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। আঘাতে তার বাচ্চাটিও মারা যায়৷ আমরা আপাতত এটাকে ট্রিপল মার্ডার ধরছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে প্রয়োজনে এটাকেও মামলায় সংযোজন করা যাবে।’

এই ঘটনায় আলিমা বেগমের বাবা আয়ুব আলী বাদী হয়ে গোয়ানঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি।

ঘটনার পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলো সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত এবং বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এখন পুলিশের সন্দেহ আহত হিফজুরের দিকেই।

Manual3 Ad Code

ঘটনার দিন বুধবার (১৬ জুন) সকালে স্থানীয়রা জানান, অনেক বেলা পর্যন্ত হিফজুরের ঘরের কেউ ঘুম থেকে উঠছিলেন না দেখে প্রতিবেশীরা হিফজুরের ঘরের সামনে যান। এসময় ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনে দরজায় ধাক্কা দেন তারা। এসময় দরজার সিটকিনি খোলা দেখতে পান তারা। ভেতরে প্রবেশ করে তারা খাটের মধ্যে তিন জনের জবাই করা মরদেহ ও হিফজুরকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে গোয়াইনঘাট থানায় খবর দিলে একদল পুলিশ গিয়ে লাশ তিনটি উদ্ধার করে ও হিফজুরকে হাসপাতালে পাঠায়। হিফজুরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে দায়ের কোপ রয়েছে।

খবর পেয়ে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পিপিএম ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএমসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন ওইদিন সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ দুটি বিষয়কে সামনে রেখে বড় এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। হিফজুরের সঙ্গে তার মামার জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এর জের থেকে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। আবার স্ত্রীর সঙ্গেও হিফজুরের বিরোধ রয়েছে। সেটা শ্যালিকাকে নিয়ে। তাই হিফজুরকেও সন্দেহের বাইরে রাখা যাচ্ছে না।

সেই সন্দেহের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে হিফজুরকেই গ্রেফতার করলো পুলিশ।

Manual6 Ad Code

এই ঘটনার তদন্তের সাথে সম্পৃক্ত পুলিশের এক উর্ধতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হিফজুর রহমান প্রথম থেকেই সন্দেহজনক আচরণ করছেন। প্রথমে আমরা তা বুঝতে পারিনি। তিনি ঘরের ভেতরে অজ্ঞানের ভান করে পড়েছিলেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর বুঝা যায় তার আঘাত গুরুতর নয়।

হিফজুরকে সন্দেহের কয়েকটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাইরে থেকে কেউ হত্যার জন্য এলে সাথে করে অস্ত্র নিয়ে আসতো। তাদের ঘরের বটি দা দিয়েই খুন করতো না। বিরোধের কারণে খুনের ঘটনা ঘটলে প্রথমেই হিফুজরকে হত্যা করা হতো কিংবা স্ত্রী সন্তানদের প্রথমে হামলা করলেও হিফুজর তা প্রতিরোধের চেষ্টা করতেন। এতে স্বভাবতই তিনি সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হতেন।

অথচ হিফুজরের শরীরের আঘাত একেবারেই সামান্য বলে জানান ওই কর্মকর্তা। হিফুজরের শরীরের কিছু জায়গার চামড়া ছিলে গেছে কেবল। এতে আমাদের ধারণা স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে ঘটনা অন্যখাতে প্রবাহিত করতে নিজেই নিজের হাত-পা ছিলে দেন তিনি।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সাধারণত ঘুমানোর আগে সবাই হাত পা ধুয়ে ঘুমাতে যান। হিফজুরের স্ত্রী সন্তানদের মরদেহের হাত-পাও পরিষ্কার ছিলো। অথচ তার পায়ে বালি ও কাদা লাগানো ছিলো। এতে বুঝা যাচ্ছে তিনি রাতে ঘুমাননি।

উল্লেখ্য, হিফুজর তার মামার বাড়িতে ঘর বানিয়ে থাকেন। তার বাড়ি পাশ্ববর্তী গ্রামে। আহত হিফজুর যে ঘরে থাকতেন ওই ঘরটি তার মায়ের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত। আর পাশের আরও দুটি ঘরে তার মামারা থাকেন। হিফজুর দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code