Main Menu

বিধবা নারীর ইজ্জত-আবরু ও অধিকার

Manual3 Ad Code

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান : ইসলাম বিধবা নারীদের দিয়েছে মর্যাদা, সম্মান ও অধিকার। যদি কোন বিধবা পূনরায় বিবাহ না করে তার ইজ্জত-আবরু রক্ষা করে তার মৃত স্বামীর স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়, ইসলাম তাকেও স্বাগত জানায় এবং তার জন্য বিশেষ মর্যাদা ঘোষনা করে। এ প্রসঙ্গে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আউফ বিন মালিক আশজায়ী রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ স. ইরশাদ করেছেন, আমি এবং কষ্ট মেহনতের কারনে বিবর্ণ হয়ে যাওয়া মহিলা কিয়ামতের দিন দুই আঙ্গুলের মত নিকটবর্তী হব। রাসূলুল্লাহ স. তর্জনী ও মধ্যমা পাশাপাশি করে দেখালেন। বংশীয় ও কৌলিন্য ও সৌন্দর্যের অধিকারিনী যে বিধবা নারী প্রয়োজন থাকা সত্বেও ইয়াতিম সন্তানের লালন পালনের উদ্দেশ্যে দ্বিতীবার স্বামী গ্রহন থেকে বিরত রেখেছে।

এ প্রসঙ্গে আরো বর্ণিত হয়েছে, আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আমিই ঐ ব্যক্তি যার জন্য সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজা খোলা হবে। কিন্তু এক মহিলা এসে আমার আগে জান্নাতে যেতে চাইবে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করবো যে, তোমার কি হল? তুমি কে? তখন সে বলবে আমি ঐ মহিলা যে স্বীয় ইয়াতিম বাচ্চার লালন-পালনের জন্য নিজেকে আটকে রেখেছি (বিবাহ করা থেকে)।

অপর এক হাদীসে বিধবা ও ইয়াতিমদের যারা সাহায্য সহযোগিতা করে, তাদের কে মুজাহিদের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে, আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, নবী সা. বলেছেন: বিধবা ও মিসকিনের জন্য খাদ্য জোগাড় করতে চেষ্টারত ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদের মতো অথবা রাতে সালাতে দন্ডায়মান ও দিনে সিয়াম পালনকারীর মত।

বৈর্ধব্য হচ্ছে জীবনের অনাকাক্সিক্ষত একটি পরিণতি। এই পরিণতি অত্যন্ত দুঃখের। মানব জীবনের এই অবস্থাতে সে অত্যন্ত অসহায় হয়ে পড়ে। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ নারীর জীবন যেখানে পুরুষের উপর নির্ভরশীল, সেখানে বিধবাবস্থা নারীর জীবনে দূর্যোগ নিয়ে আসে। ইসলাম পূর্ব আরবে বিধবাদের সাথে অমানবিক আচরন করা হত। কোন নারী বিধবা হলে তাকে তার স্বামীর সম্পত্তি থেকে অংশ দেয়া হত না; বরং তাকেই সম্পত্তি হিসাবে গণ্য করে তা উত্তরাধিকারীরা তার সম্পত্তি ও তাকে ভোগ করত। “আল-কুরআন, ৪:১৯”। তাকে নির্জন ঘরে এক বছর যাবত আবদ্ধ করে রাখা হত এবং বছর শেষে পশু-পাখির বিষ্ঠা নিক্ষেপের মাধ্যমে বের হয়ে আসতে হত। ইসলাম বিধবাদের এই করুন অবস্থা থেকে মুক্ত করে তাদের দিয়েছে সম্মান ও অধিকার।

ইসলাম বিধবাদের ভরন-পোষনের অধিকার দিয়েছে। বিধবা নারী তার স্বামীর সম্পত্তি থেকে ভরন-পোষণ পাওয়ার অধিকার রাখে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- ‘‘আর যখন তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরন করবে তখন স্ত্রীদের ঘর থেকে বের না করে এক বছর পর্যন্ত তাদের খরচের ব্যাপারে ওসিয়ত করা যাবে। “আল-কুরআন, ২:৪২০”। ‘‘আর যদি বিধবা নারীর নিজের ও সন্তানের ভর-পোষনের কোন অবলম্বন না থাকে, তাহলে রাষ্ট্র তাদের ভরণ-পোষনের ব্যবস্থা করবে। রাষ্ট্র তাদের আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের অভাব অনটন দূর করবে। এ প্রসঙ্গে হাদীসে উল্লেখ রয়েছে, আসলাম র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর সঙ্গে বাজারে বের হলাম। সেখানে একজন যুবতি মহিলা তার সাথে সাক্ষাত করে বলল, হে আমিরুল মু‘মিনীন, আমার স্বামী ছোট একটা বাচ্চা রেখে ইন্তেকাল করেছেন। আল্লাহর কসম, তাদের আহারের জন্য পাকানোর মত কোন বকরীর খুরাও নেই এবং নেই কোন ফসলের ব্যবস্থা ও দুধেল উঠ, বকরী। ভীষন অভাবে তারা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে আমার আশংঙ্কা হচ্ছে। অথচ আমি হলাম খুফাফ ইবনু আয়মা গিফারীর কন্যা। আমার পিতা নবী স. এর সঙ্গে হুদায়বিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলে। এ কথা শুনে উমর রা. তাঁকে অতিক্রম না করে পাশ্বে দাঁড়ালেন। এরপর বললেন, তোমার গোত্রকে ধন্যবাদ। তারা তো আমার খুবই নিকটের মানুষ। এরপর তিনি বাড়ীতে এসে আস্তেবলে বাঁধা উঠের থেকে একটি মোটা তাজা উঠ এনে দুই বস্তা খাদ্য এবং এর মধ্যে কিছু নগদ অর্থ ও বস্ত্র রেখে এ গুলো উক্ত উঠের পিঠে উঠিয়ে দিয়ে মহিলার হাতে এ লাগাম দিয়ে বললেন, তুমি এটি টেনে নিয়ে যাও। এগুলো শেষ হওয়ার পূর্বেই হয়ত আল্লাহ তোমাদের জন্য এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করবেন। তখন এক ব্যক্তি বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি তাকে খুব বেশী দিলেন। উমর রা. বললেন, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক। আল্লাহর কসম, আমি দেখেছি এ মহিলার আব্বা ও ভাই র্দীঘদিন পর্যন্ত একটি দূর্গ অবরোধ করে রেখেছিলেন এবং পরে তাও জয় ও করেছিলেন। এরপর ঐ দূর্গ থেকে অর্জিত তাদেড়র অংশ থেকে আমরাও যুদ্ধলব্ধ সম্পদের দাবি করি (এবং কিছু অংশ আমরা নিজেরা গ্রহন করি এবং কিছু অংশ তাদেরকে দেই।)

Manual5 Ad Code

ইসলাম বিধবা নারীকে ইজ্জত-আবরু নিয়ে বাঁচার অধিকার দিয়েছে। কোন নারীর স্বামী মৃত্যুবরন করলে স্বাভাবিকভাবে সে অসহা বোধ করেও নিরাপত্তাহীন দিন কাটায়। এ সুযোকে অনেকেই তাদেরকে ব্যঙ্গ-বিদ্রæপ করে, তাদেরকে বিয়ের প্রলোবন দেখায় ও অশোভনীয় আচরন করে থাকে। ইসলাম এহেন আচরন করতে নিষেধ করেছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘‘আর যদি তোমরা আকারে-ইঙ্গিতে সে নারীর বিয়ের পয়গাম দাও, কিংবা নিজেদের মনে কোন আকাঙ্খা লুকিয়ে রাখ, তবে তাতে ও কোন পাপ নেই, আল্লাহ জানেন যে, তোমরা অবশ্যই সে নারীর কথা উল্লেখ করবে। কিন্তু তাদের সাথে বিয়ে করার গোপন প্রতিশ্রæতি দিয়ে রেখো না। অবশ্য শরীয়তের নির্ধারিত প্রথা অনুযায়ী কোন কথা সাব্যস্ত করে নেবে। আর নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্তি পর্যায়ে না যাওয়া অবধি বিয়ে করার কোন ইচ্ছে কর না। আর এ কথা জেনে রেখো যে, তোমাদের মনে যে কথা রয়েছে, আল্লাহর তা জানা আছে। কাজেই তাকে ভয় করতে থাক। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ ক্ষমাকারী ও ধৈর্যশীল। “আল-কুরআন, ২:২৩৫”। এ প্রসঙ্গে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস রা. বলেন: যদি কোন ব্যক্তি ইদ্দত পালনকারী কোন মহিলাকে বলে যে, আমার বিবাহ করার ইচ্ছা আছে। আমি কোন সতী মহিলাকে পেতে ইচ্ছা পোষন করি। কাসিম র. বলেন, এই আয়াতের ব্যাখ্যা হচ্ছে, যেন কোন ব্যক্তি বলল, তুমি আমার কাছে খুবই সম্মানিত এবং আমি তোমাকে পছন্দ করি। আল্লাহ তোমার জন্য কল্যাণ বর্ষণ করুন। অথবা এই ধরনের উক্তি। আতা র. বলেন, বিবাহের ইচ্ছা ইশারায় ব্যক্ত করা উচিত, খোলাখুলি এই ধরনের কোন কথা বলা ঠিক নয়। কেউ এ ধরনের কথা বলতে পারে যে, আমার এ সকল গুনের প্রয়েজন আছে। আর আপনার জন্য সুখবর, সমস্ত প্রসংসা আল্লাহর জন্য আপনি পুনঃবিবাহর উপযুক্ত। সে মহিলা ও বলতে পারে, আপনি যা বলেছেন, তা আমি শুনেছি কিন্তু এর বেশি ওয়াদা করা ঠিক নয়। তার অভিভাবকদের ও অজ্ঞাতে কোন প্রকার ওয়াদা দেওয়া ঠিক নয়। কিন্তু যদি কেউ ইদ্দতের মাঝে কাউকে বিবাহের কোন প্রকার ওয়াদা করে এবং ইদ্দত শেষে সে ব্যক্তি যদি তাকে বিবাহ করে তবে সেই বিবাহ বিচ্ছেদ করতে হবে না।

Manual8 Ad Code

ইসলাম বিধবাদের সম্ভ্রমের নিরাপত্তা প্রদান করেছে। জাহিলী যুগের ন্যায় পিতার মৃত্যুর পর তার পুত্র কর্তৃক বিধবা স্ত্রীদের বিবাহ নিষেধ করেছে। এ প্রসঙ্গে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, ‘‘বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত. তিনি বলেন, আমার মামা আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। (রাবী হুশাইম তার বর্ণিত রিওয়ায়েতে বারা ইবনু আযিব রা.- এর মামার নাম হারিছ ইবনু আমর উল্লেখ করেছেন।) রাসূলুল্লাহ স. তার জন্য একটি ঝাগুা তৈরি করে দিয়েছিলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেন রাসূলুল্লাহ স. আমাকে এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছেন, যে তার পিতার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে বিবাহ করেছে। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমি যেন তাকে হত্যা করি।

ইসলামী আইন বিধবা নারীদের যে সকল অধিকার দিয়েছে, তার মধ্যে অর্থনৈতিক অধিকার অন্যতম। ইসলাম প্রত্যেক বিবাহিতা নারীর মোহরের অধিকার দিয়েছে। ইসলামী আইনে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে বিবাহের সময়ই সন্তষ্টচিত্তে মোহর পরিশোধের নির্দেশনা প্রদান করেছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আর তেমরা স্ত্রীদের কে তাদের মোহর খুশিমনে দিয়ে দাও।

এ প্রসঙ্গে ইমাম বুখারি রহ. উল্লেখ করেন, ‘‘আর অধিক মোহর এবং সর্বনিম্ন মোহর কত?- এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, “এবং তোমাদের যদি তাদের একজনকে অগাধ অর্থ দিয়ে থাক, তবুও তা থেকে কিছু গ্রহন করো না ” (আল-কুরআন,০৪ : ২০) এবং আল্লাহ তাআলা আরো বলেন “অথবা তোমরা তাদের মোহরের পরিমান নিদিষ্ট করে দাও”। (আল-কুরআন,০২ : ২৩৬)” সাহল রা. বলেছেন নবী সা এক ব্যক্তিকে বললেন, যদি একটি লোহার আংটিও হয় তবে মোহর হিসাবে যোগাড় করে দাও। আল্লাহর বাণী:- আর যদি বিবাহে মোহর নির্ধারন না হয়ে থাকে এবং স্বামী মৃত্যুবরন করে, তাহলে ঐ বিধবাকে মহরের মিছল “মোহরে মিছিল হচ্ছে যে বিয়েতে মোহরের পরিমাণ যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হয় না; বরং স্ত্রী আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক মর্যাদা, স্ত্রী বোন অথবা পিতার পরিবারের অন্যান্য কন্যা যথা: ফুফুর মোহরের অনুপাত এবং গুণাগুণ অনুসারে যে মোহর প্রদান করা হয়। যে সব ক্ষেত্রে বিয়েতে লেনদেন নির্দিষ্ট করা হয় না, সে সব ক্ষেত্রে এই মোহর মিছলই নির্ধারণ হবে। প্রদান করতে হবে।

Manual4 Ad Code

মোহর পরিশোধ সম্পর্কে হাফিয ইবনে কাসীর রা. উল্লেখ করেছেন, “স্ত্রীর সম্মতি সাপেক্ষে স্বামীগণ মোহর বিবাহের পরও পরিশোধ করতে পারে। কিন্তু মোহর পরিশোধের পূর্বেই যদি স্বামী মৃত্যুবরন করে, তবে স্ত্রীর স্বামীর নিকট মোহর বাবদ ঋনী হয়ে থাকবে। তাই স্ত্রী তার ঋন আদায়ের জন্য স্বামীর সম্পত্তি আটক করার অধিকার রাখে। “আল-কুরআন, ২:২৩৬-২৩৭”। এ প্রসঙ্গে মুসলিম আইন গ্রন্তে উল্লেখ রয়েছে, “কোন মৃত মুসলমানের উত্তরাধিকারীরা দেনমোহরের ঋণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী নয়। মৃতের কাছে প্রাপ্য অন্যান্য ঋনের মত দেন মোহর ঋণেও উত্তরাধিকারীর মৃতের সম্পত্তিতে প্রাপ্য অংশের আনুপাতিক হারে প্রত্যেক উত্তরাধিকারী দায়ী হবে। কোন মহিলার স্বামীর সম্পতি তার দখলে থাকলে স্বামীর অন্যান্য উত্তরাধিকারীরা তাদের নিজ নিজ অংশের দখল উদ্ধার করতে পারবে। একজন মুসলমান এক বিধবা এক পুুুত্র ও দু কন্যা রেখে মারা যায়। বিধবা ৩২০০ টাকার দেনমোহর ঋন পাবার অধিকারী। পুত্রের প্রাপ্য অংশ হল ৭/১৬ এবং সে ৭/১৬ এর ৩২০০ = ১৪০০ টাকা দিতে বাধ্য, এবং বিধবার দখলে স্বামীর সম্পত্তি থাকলে পুত্র ১৪০০ টাকা পরিশোধ করে বিধবার থেকে নিজ অংশ নিবে। প্রত্যেক কন্যার প্রাপ্য অংশ হল ৭/৩২ এবং সে বিধবাকে ৭/৩২ এর ৩২০০ = ৭০০ টাকা প্রদান করার পর নিজ অংশ পাবে।

ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়কে মিরাস প্রাপ্তির অধিকার দিয়েছে এবং তাদের জন্য আল্লাহ কর্তৃক নির্ধরিত অংশ রয়েছে। “আল-কুরআন,৪:৩২”। আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেন,- পিতার সম্পত্তিতে কন্যার অংশ রয়েছে , ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের অংশ রয়েছে , সন্তানের সম্পত্তিতে মায়ের অংশ রয়েছে, তদ্রুপ মৃত স্বামীর সম্পত্তিতে ও স্ত্রীর নির্ধারিত অংশ রয়েছে। পিতার সম্পত্তিতে কন্যার অংশ- “আল-কুরআন, ৪:১১”। সন্তানের সম্পত্তিতে মাতার অংশ- “আল-কুরআন, ৪:১১”। স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রীর অংশ- “আল-কুরআন, ৪:১২”। ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের অংশ- “আল-কুরআন, ৪:১২”। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, স্ত্রীদের জন্য এক-চতুর্থাংশ হবে ঐ সম্পত্তির, যা তোমরা ছেড়ে যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্য হবে ঐ সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ। “আল-কুরআন, ৪:১২”। আলোচ্য আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একবার রুসূলুল্লাহ স.- এর সাথে বেরিয়ে আল-আসওয়াফ নামক স্থানে এক আনসারী মহিলার নিকট উপস্থিত হই। তখন ঐ মহিলা তার দুটি মেয়েকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ স.-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এরা সাবিত ইবনু কায়িস রা.-এ কন্যা। এদের বাবা আপনার সাথে ওহুদের যৃদ্ধে গিয়ে শাহাদত বরন করেছেন। এদের চাচা এদের সমস্ত সম্পদ আত্য্রসাৎ করে নিয়ে গেছে। এদের জন্য কোন কিছু রাখেনি। সম্পদ ছাড়া তো এদের বিয়ে দেওয়া যাবে না। (অর্থ্যাৎ সহায়- সম্পত্তিহীন এ মেয়েদেরকে কেউ বিয়ে করবে না।) রাসূলুল্লাহ স.বললেন: আল্লাহ এ ব্যাপারে ফয়সালা করবেন। তখন মিরাসের আয়াত নাযিল হয়। মিরাসের আয়াত নাযিল হলে রাসূলুল্লাহ স. মেয়েদের চাচার কাছে লোক পাঠিয়ে বলেন : সাবিতের মেয়েদের তার সম্পদের তিন ভাগের দু‘ভাগ দিয়ে দাও এবং তাদের মাকে আট ভাগের এক ভাগ দাও। আর বাকী অংশ তোমার। ইমাম আবূ দাউদ রহ. বলেন, বর্ণনাকারী বিশর ভুল করেছেন। আসলে মেয়ে দু’টি সা’দ ইবনু রবী রা. এর কন্যা। কারন সাবিত ইবনু কায়িস রা. শহীদ হন ইয়ামামার যুদ্ধে।

Manual7 Ad Code

ইসলাম একটি সহজাত ধর্ম। কোন নারীর স্বামী মৃত্যুবরন করলে স্বভাবতই সে মানসিকভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়ে এবং নিজের মতামত প্রকাশের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এই সুযোগে অনেকেই তাদেরকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। তাই ইসলাম বিধবাদের অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য তাদেরত্তামতের উপর গুরুত্ব দিয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা নারী ইদ্দত পালনের মাধ্যমে তার গর্ভে সন্তানের অস্থিত্ব নিশ্চিত করে থাকে। কিন্তু বিধবা নারীর ঐ সময়ের মনসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে ইসলাম ইদ্দত পালনের স্থান নির্বাচনে তার মতামতের উপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। এপ্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, অতঃপর যদি সে স্ত্রী নিজ থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে সে নারী নিজের ব্যাপারে কোন উত্তম ব্যবস্থা করে, তবে তাতে তোমাদের উপর কোন পাপ নেই। “আল-কুরআন, ২:২৪০”।

বিধবা নারীর পুনরায় বিবাহের প্রস্তাব আসলে তার মতামত ব্যতীত বিবাহ শুদ্ধ হবে না। ইসলামী আইনে বিবাহের প্রস্তাবে নারী যদি চুপ থাকে, তাহলে তার সম্মতি রয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু বিধবা নারীর পুনরায় বিবাহের প্রস্তাব আসলে তার মৌখিক সম্মতি প্রয়োজন। কেননা অনেক ক্ষেত্রে তাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে ও তার সম্পত্তি গ্রাস করার জন্য ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহ দেওয়া হয়ে থাকে। তাই বিধবা নারীর অধিকার রয়েছে মৌখিকভাবে তার মতামত প্রকাশ করার। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করা রয়েছে, ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী স. বলেছেন : পূর্ব বিবাহিতা তার (নিজের বিবাহের ব্যাপারে সিধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে) নিজের ব্যাপারে অভিভাবকের তুলনায় অধিক হক্বদার। কুমারীকে তার থেকে তার সম্মতি নিতে হবে, তার নিরবতাই তা সম্মতি। বিধবা নারীকে জোর জবরদস্তি করে বিবাহ দিলে, সে বিবাহ ভঙ্গ করার অধিকার তার রয়েছে। এ প্রসঙ্গে একটি হাদীসে বর্ণিত রয়েছে, খানসা বিনতে খিযাম রা. থেকে বর্নিত। তার পিতা তাকে বিবাহ দিলেন তিনি ছিলেন সায়্যিব (বিবাহিত নারী), তিনি তা অপছন্দ করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ স. এ নিকট গেলেন তিনি এ বিবাহ ভেঙ্গে দিলেন।

লেখক : পাঠান পাড়া, (খান বাড়ী) কদমতলী, সদর, সিলেট-৩১১১

 

 

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code