Main Menu
শিরোনাম
সিলেটে কলহের জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী আটক         সিলেটে ঘন ঘন দুর্ঘটনার প্রতিবাদে তিন উপজেলাবাসীর অবস্থান         ভারতে কারাভোগের পর দেশে ফিরলেন ৬ বাংলাদেশি         সিলেটে আরো ১৩ জনের করোনা শনাক্ত, সুস্থ ২০         সুনামগঞ্জে উদ্বোধনের আগেই ভেঙে পড়লো সেতু!         হবিগঞ্জে আ.লীগ প্রার্থী সেলিম বিজয়ী         সিলেটে দুর্ঘটনাস্থলে কাফনের কাপড় পড়ে অবরোধ, ৫ দাবি         সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮         সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৭         মাধবপুরে গার্মেন্টসকর্মীকে ধর্ষণ         শপথ নিলেন গোলাপগঞ্জ পৌর মেয়রসহ নির্বাচিত কাউন্সিলররা         রাজনগরে ৪০০ আ.লীগ নেতাকর্মীর নামে মামলা        

এমসি ছাত্রাবাসে গৃহবধু ধর্ষণ মামলার বিচার শুরু

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানসহ আট আসামির বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সাথে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৪ জানুয়ারি দিন ঠিক করে দেন।

রোববার (১৭ জানুয়ারি) সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক আসামিদের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য্য করেন।

সিলেট বিভাগীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি রাশিদা সাঈদা খানম এ তথ্য নিশ্চিত করেন বলেন, মোট ৫২ জনকে সাক্ষি করা হয়েছে। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী শুনানিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো পড়ে শোনানো হয় বলেও যোগ করেন তিনি।

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আসামি হলেন- সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়া, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম।

এর আগে রোববার সকাল ১১ টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত মামলার ৮ আসামিকে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। সকল আসামির উপস্থিতেই সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার চার্জ গঠন করেন আদালত।

এদিকে গত ১২ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করে আজ ১৭ জানুয়ারি (রোববার) চার্জ গঠনের তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। সেদিন পুলিশের প্রদান করা সংঘবদ্ধ ধর্ষণর মামলার এ চার্জশিটে কোনো ধরনের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছিলেন বাদী পক্ষের আইনজীবীরা।

এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকালে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আবুল কাশেমের আদালতে ছাত্রলীগের ৮ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে আলোড়ন তোলা এই মামলার অভিযোগপত্র প্রদান করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়াকে সরাসরি ধর্ষণে সম্পৃক্ত এবং রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুমকে ধর্ষণের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই আটজনই বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।

পরে ৩ জানুয়ারি (রোববার) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর এই মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ ছিলো। এদিন বাদীর পক্ষে আদালতের কাছে সময় প্রার্থণা করা হয়। বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযোগপত্র নিয়ে আপত্তি থাকলে তা জানাতে এক সপ্তাহের সময় প্রদান করেন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মোহিতুল হক। আগামী ১০ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারত করেন আদালত।

পরবর্তীতে ১০ জানুয়ারি (রোববার) সকালে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মো. মোহিতুল হকের আদালতে বাদীপক্ষ ফের দুদিন সময় বাড়ানোর আবেদন করলে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার তারিখ ১২ জানুয়ারি চার্জ গঠনের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এদিকে নির্ধারিত তারিখে এই মামলার অভিযোগপত্রভূক্ত ৮ আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করে পুলিশ। আসামিদের উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে।

এরআগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রবাসে স্বামীকে আটকে রেখে নববধুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্বামীকে নিয়ে শাহপরান মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন নির্যাতনের শিকার তরুণী (২৫)। ফেরার সময় তারা গাড়ি থামিয়েছিলেন নগরের টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে। স্ত্রীকে প্রাইভেটকারে রেখে স্বামী পার্শ্ববর্তী দোকানে গিয়েছিলেন। ওইসময় প্রাইভেটকারটি ঘিরে ধরে কয়েকজন তরুণ। প্রাইভেটকারসহ ওই দম্পতিকে তারা নিয়ে যায় বালুচর এলাকার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ভেতরে। সেখানে স্বামীর সামনেই গাড়ির ভেতর সংঘবদ্ধভাবে তরুণীকে ধর্ষণ করে ৬ তরুণ। পরে তাদের মারধর করে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয় ধর্ষকরা। আটকে রাখে তাদের গাড়িও।

ঘটনার রাতেই নির্যাতিতার স্বামী বাদী হয়ে নগরের শাহপরান থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও ৩ দিনের মধ্যে ৬ আসামিসহ সন্দেহভাজন আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব ও পুলিশ। সন্দেহভাজন দুই গ্রেপ্তারকৃত হলেন- আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়া। গ্রেপ্তারের পর তাদের প্রত্যেককে ৫ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে সকলেই দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

0Shares





Related News

Comments are Closed