Main Menu

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তরুণীকে বাস থেকে ফেলে দেয় চালক

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে চলন্ত বাসে তরুণীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তাকে ‘হত্যা করতে’ রাস্তায় ফেলে দিয়েছিলেন চালক শহিদ মিয়া। গুরুতর আহত ওই তরুণীকে পথচারীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

ওই ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি শহিদকে গ্রেপ্তারের পর আজ রবিবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানিয়েছেন সিআইডির চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত উপ মহাপরিদর্শক হাসিব আজিজ।

যদিও এরআগে জানা গিয়েছিলো, ধর্ষণ ঠেকাতে ওই তরুণীই লাফ দিয়ে চলন্ত বাস থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। নির্যাতিত তরুণী দিরাইয়ের একটি কলেজের শিক্ষার্থী।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুক্তা ধরের নেতৃত্বে একটি দল ২ জানুয়ারী শনিবার সুনামগঞ্জের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে শহিদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। শহিদ সিলেটের মোল্লারগাঁও এলাকার বাসিন্দা।

হাসিব আজিজ বলেন, এ ঘটনার প্রধান আসামি বাসচালক শহীদ মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর ভুক্তভোগীর কাছে নেওয়া হলে, তিনি প্রধান আসামিকে শনাক্ত করেন। সে সময় ওই নারী জানিয়েছিলেন, শহীদ মিয়াই ধর্ষণচেষ্টা শুরু করে।

সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, এর আগে বাসচালকের সহকারী রশীদকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রশীদের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে তার দোষ স্বীকার করে নিয়েছে। বাসচালককে গ্রেপ্তারের পর সে প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে যে তথ্য দিয়েছে, তার সঙ্গে রশীদের জবানবন্দির মিল রয়েছে। একই সঙ্গে ভিক্টিমের (ভুক্তভোগী) দেওয়া তথ্যও এক।

অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক বলেন, বাসটি সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে যাচ্ছিল। সুনামগঞ্জের ১৬ কিলোমিটার আগে একটি বাইপাস রয়েছে, সেই বাইপাস হয়ে দিরাইয়ে ওই নারীকে নামিয়ে দিয়ে সুনামগঞ্জে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাত্রীরা সব নেমে যাওয়ার পর বাসচালক স্টিয়ারিং হুইল হেলপার (চালকের সহকারী) বক্করের কাছে দিয়ে নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাসটি চলার সময় নারীকে চুলের মুঠি ধরে চালক পেছনে নিয়ে যায়। এরপর তার ব্যাগ ধরে টানাটানি করে। ব্যাগ সামনে রেখে ওই নারী নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। চালক ব্যাগ টেনে ছিড়ে ফেলে। ব্যাগের জিনিসপত্র সব বাসের ভেতরে পড়ে যায়।

উল্লেখ্য, গত ২৬ ডিসেম্বর ওই কলেজছাত্রী সিলেট থেকে বাসে করে দিরাই আসছিলেন। সুজানগর এলাকায় অন্য যাত্রীরা নেমে গেলে চালক ও তার সহকারী ওই তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

এ ঘটনায় ওই তরুণীর বাবা বাদী হয়ে ২৬ ডিসেম্বর রাতে একটি মামলা করেন। মামলায় বাসচালক, চালকের সহকারীসহ অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করা হয়।

Share





Related News

Comments are Closed