সেবার নামে প্রতারণা রিজেন্টের!
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সরকার নির্ধারিত কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের একটি বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতাল। শুরু থেকেই অবশ্য হাসপাতালটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। করোনা পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট প্রদান, রোগীদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আসে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে। এমনকি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসকরাও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আনেন।
এসব অভিযোগে গতকাল সোমবার হাসপাতালটিতে অভিযান চালিয়েছে র্যাব। অভিযানে এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির দু’টি শাখা থেকে চারজনকে আটক করা হয়। হাসপাতালটি বাসাবাড়ির মতো একটি ভবনে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছিল।
এই করোনা মহামারির সময়ে প্রভাব খাটিয়ে করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছিলো হাসপাতালটি। জানা যায়, পাবলিক-প্রাইভেট কো-অপারেশনের আওতায় সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় শুরু থেকেই কার্যক্রম চালাচ্ছিলো তারা। এই চুক্তিতে রোগীদের কাছ থেকে সরকারি হাসপাতালের মতো চিকিৎসা দেয়ার কথা থাকলেও, রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, একই বিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছিলো হাসপাতালটি।
এদিকে ছয় বছর আগে হাসপাতালটির নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নতুন করে নিবন্ধনের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। অথচ অনুমোদনহীন এই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, এটিকে করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। র্যাব অভিযান চালানোর পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয়, অনুমোদনহীন একটি হাসপাতালকে কীভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোভিডের জন্য অনুমতি দিলো? সর্বশেষ ২০১৪ সাল পর্যন্ত হাসপাতালটির অনুমোদন ছিল।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী র্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, প্রতিষ্ঠানটি গত তিন মাসে কমপক্ষে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে। তিনি সেখান থেকে সংগ্রহ করা করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ দেখিয়ে বলেন, এই সনদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ইস্যু করা হয়নি।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১লা জুন রিজেন্ট হাসপাতাল চেয়ারম্যান মো. সাহেদের সই করা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দেয়া এক চিঠিতে হাসপাতালের উত্তরা শাখায় ৯০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও মিরপুর শাখায় এক কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে অনুরোধ করেন।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, করোনার টেস্ট না করেই রিপোর্ট দিতো রিজেন্ট হাসপাতাল। অভিযানে অসংখ্য ভুয়া রিপোর্টের কাগজ, বিলসহ নানা অনুষঙ্গ জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালের মিরপুর শাখায়ও অভিযান চালায় র্যাব।
Related News
নরসিংদীতে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নরসিংদীর রায়পুরায় পানিতে ডুবে দুই শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।Read More
রায়পুরায় পানিতে ডুবে ৪ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে ৪Read More



Comments are Closed