Main Menu

বোরোর বাম্পার ফলন, ধান কাটা শুরু হাওরে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। ফলন বাম্পার হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে রয়েছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা। করোনাভাইরাসজনিত কারণে সৃষ্ট শ্রমিক সংকট ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা না দিলে এক মাসের মধ্যে হাওরের সব ঘরে তোলা সম্ভব।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পয়লা বৈশাখের রৌদ্রজ্জ্বল দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা দেখার হাওরে গিয়ে কৃষকের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। তারা কৃষক ও শ্রমিককে হাওরে নেমে পাকা ধান কাটতে আহ্বান জানিয়ে ধান কাটায় নামলে শ্রমিকদের ত্রাণ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ১৭-২১ এপ্রিল ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের পূর্বাভাস দিয়েছে। এই ঘোষণায় কৃষকদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে দ্রুত ধান কাটার জন্য জেলায় কম্বাইন হার্ভেস্টর ও রিপার মিলিয়ে ৪৬৬টি যন্ত্র রয়েছে। তবে এগুলো হাওরের নিচু অংশের জমির ধান কাটতে অক্ষম।

দুপুরে দেখার হাওরের কান্দায় ধানকাটারত কৃষক ও শ্রমিকদের সঙ্গে শরিক হন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সফর উদ্দিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার রুমা প্রমুখ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর ২ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ হেক্টর বোরো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর। বিআর ২৮, ২৯ সহ হ্ইাব্রীড, উফশীসহ কিছু স্থানীয় জাতের ধানও আবাদ হয়েছে। হাওরের ফসল রক্ষায় সরকার এবছর পানি উন্নয়ন বোর্ড এর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি করে ১৩২ কোটি টাকায় ৬৪০ কি.মি ফসল রক্ষা বাধ নির্মাণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি একাধিকবার বক্তব্যে হাওরের ফসল যাতে ক্ষতির মুখে না পড়ে সেজন্য প্রশাসনকে দ্রুত ধান কেটে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সফর উদ্দিন বলেন, হাওরের ধান কাটতে শ্রমিক ও কৃষককে প্রতিদিনই উৎসাহিত করছি। মাইকিং করা হচ্ছে। ত্রাণের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তাছাড়া এরই মধ্যে বাইরের জেলা থেকে অন্তত ২ হাজার শ্রমিক জেলায় প্রবেশ করেছে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, করোনাভাইরাস আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাপনে ছন্দপতন ঘটিয়েছে। জীবন পরিচালনা আরো কঠিন হয়েছে। আমাদের খাদ্য উদ্ধুত্ত জেলার হাওরে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু শ্রমিক সংকট কৃষকদের চিন্তায়ঢ ফেলে দিয়েছে। এই অবস্থায় কৃষকদের সাহস ও শ্রমিকদের উৎসাহ দিতে হাওরে নেমে সংহতি প্রকাশ করেছি। হাওরের ধান তোলতে পারলে আমাদের কোন অভাব থাকবেনা।

এদিকে করোনার ভয়াল থাবার কারণে জনজীবন স্থবির হওয়া, বিভিন্ন জেলায় লকডাউন ও সব গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বাইরের শ্রমিকদের বিশেষভাবে নিয়ে আসতে নির্দেশনা দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। হাওরের ধান কাটতে আসা শ্রমিকদের লকডাউনের আওতার বাইরে রেখে তাদেরকে হাওরে আসতে প্রচারণাও চালনো হয়েছে।

উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকদের হাওরে নিয়ে আসতে সেসব এলাকার প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, পাবনা, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ১ হাজার ৮৭০ জন শ্রমিক সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটতে প্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে। এ বছর বাইরের জেলা থেকে অন্তত ৮ হাজার শ্রমিক আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

0Shares





Related News

Comments are Closed