Main Menu

মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক আর নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কায়রোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৯১ বছর।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রয়ারী) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সূত্রে এ তথ্য জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

এর আগে ২০১১ সালে মিশরজুড়ে বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা ছাড়েন দেশটির সাবেক এ একনায়ক। এর আগে ১৯৮১ সাল থেকে দীর্ঘ ৩০ বছর মিশর শাসন করেন তিনি।

ক্ষমতা ছাড়ার পরপরই বিভিন্ন অভিযোগে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত। কিন্তু ২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সব অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

হোসনি মোবারক ১৯২৮ সালের ৪ই মে জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম মুহাম্মদ হোসনি সাইদ মুবারাক। তার বাবা ছিলেন বিচার মন্ত্রণালয়ের একজন ইন্সপেক্টর।

৯১ বছর বয়সী হোসনি মোবারক ১৯৮১ সালে আনোয়ার সাদাত নিহত হওয়ার পর মিসরের প্রেসিডেন্ট হন। টানা তিন দশকের বেশি সময় তিনি মিসর শাসন করেন।

২০১১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া ১৮ দিনের গণবিপ্লবে ওই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাচ্যুত হন মোবারক। বিপ্লবের দিনগুলোতে তার নির্দেশে ২৩৯ বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন।

বিক্ষোভকারী হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে ২০১২ সালে নিম্ন আদালত হোসনি মোবারককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। কিন্তু ওই রায়ের বিরুদ্ধে দুইবার উচ্চ আদালতে আপিল করেন মোবারক।

বিপ্লবের দিনগুলোতে নিহতদের স্বজনরা আপিল আদালতের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা ওই গণহত্যার জন্য মোবারকের পাশাপাশি বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আস-সিসিরও বিচার দাবি করেছেন।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট সিসি ওই সময় (হোসনি মোবারক শাসনামলে) সেনা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ছিলেন। পরবর্তীতে দেশটির প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মুরসি জেনারেল সিসিকে সেনাপ্রধান পদে নিয়োগ দেন এবং ২০১৩ সালের আগস্টে সিসির হাতেই ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি।

সরকারি তহবিল তসরুফের অভিযোগে এরই মধ্যে তিন বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন হোসনি মোবারক। সাবেক এই একনায়কের বিরুদ্ধে বিপ্লব-পরবর্তী দিনগুলোতে আরও বহু অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেসব অভিযোগের প্রায় সবগুলোতে তিনি নিজের শাসনামলে স্থাপিত বিচার বিভাগের কাছ থেকে বেকসুর খালাস পান।

Share





Related News

Comments are Closed