Main Menu

কোম্পানীগঞ্জে শামীম বাহিনীর ত্রাস, প্রতিকার দাবি

Manual1 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ‘সন্ত্রাসী শামীম বাহিনী’র খপ্পর থেকে জানমাল ও সহায়-সম্পদ রক্ষার দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। উপজেলার পশ্চিম বর্ণি গ্রামের আজির উদ্দিন এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

Manual6 Ad Code

সম্মেলনে দেয়া লিখিত বক্তব্যে তাজ উদ্দিন অভিযোগ করেন- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ তার লালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে উপজেলায় ব্যাপক হারে দখলবাজি ও চাঁদাবাজি করে আসছে। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে উপজেলা পাথুরে ভূমির মালিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা সম্পূর্ণ জিম্মি হয়ে পড়েছেন। উপজেলার পাড়ুয়া গ্রামের আব্দুল বাছিরের পুত্র শামীম আহমদ ও তার পরিবারকে খুনী, চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী ও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী উল্লেখ করে আজির উদ্দিন বলেন, শামীমের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ডজন ডজন মামলা রেকর্ড হলেও টাকা এবং শাসকদলীয় রাজনীতির খুটির জোরে সে পার পেয়ে যায়। এখনো তার বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জের আলোচিত যুবলীগ নেতা আব্দুল আলী হত্যাসহ, চাঁদাবাজি, পরিবেশ বিধ্বংসী, নাশকতা ও সরকারী কাজে বাঁধা দানের ঘটনায় এক ডজনেরও বেশি মামলা চলমান রয়েছে। অধিকাংশ মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিটও হয়েছে এবং কয়েকটি মামলা তদন্তাধীন আছে। খুন রাহাজানী ও চাঁদাবাজির পাশপাশি শামীমের জৈবিক লালসারও শিকার হয়েছে অনেক কিশোরী তরুণী ও নারী। একটি কাজের মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যা করে মাটিচাপা দেয়ারও অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

সেই ‘কুখ্যাত সন্ত্রাসী’ শামীমের নেতৃত্বে দেশের সর্ববৃহৎ পাথর কোয়ারী কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ ও শারপিন টিলায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে খুন-রাহাজানী, জবরদখল, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মহোৎসব। এ পাথর কোয়ারীর দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ে গত কয়েক বছরে অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণহানীও ঘটেছে। মামলা ও হামলা হয়েছে শত শত। কিন্তু আজোবধি কোনভাবেই চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও প্রাণহানী বন্ধ হয়নি শামীম বাহিনীর। ফলে উপজেলা জুড়ে চলছে নিরীহ-নিপীড়িত মানুষের আর্তনাদ, নিরবে কাঁদছে বিচারের বাণী। উপজেলাজুড়ে শাসকদলীয় ওই নেতার ও তার সন্ত্রাসীদের রামরাজত্ব আজো বহাল রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উপজেলার এই শারপিন টিলার অন্তর্গত মটিয়া টিলায় দুই দাগে আজির উদ্দিন ও তার স্বজনদের রয়েছে স্বত্বদখলীয় ০১.৪৩ একর আমন রকম পাথুরে ভূমি । যা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চিকাডহর মৌজার জেএল এসএস ৫৫, বিএস-০৩, এস এ খতিয়ান-৩১, নামজারী খতিয়ান-৯০, বিএস ছাপা খতিয়ান-২০, এসএ-১/১২৫ ও বিএস-১৮০ এতে ০.০৮ একর এবং দাগ নং ১/১২৫,বিএস-১৭৮ দাগের ভূমি। ওই ভূমির মালিক স্বত্ববান হয়ে তামাদি মুদ্দত থেকে তারা ভোগদখল ও ভোগব্যবহার করে আসছেন। সম্প্রতি মটিয়া টিলাস্থ তাদের ওই ভূমির উপর শ্যানদৃষ্টি পড়ে উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদ ও তার লালিত সন্ত্রাসী বাহিনীর। তারা তাদের এই ভূমি আত্মসাত করার চেষ্টা করলে সিলেটের সহকারী জজ (কোম্পানীগঞ্জ) আদালত-এর ৬৫/২০১৬ নং স্বত্ব মোকদ্দমায় শামীম ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপক্ষো করে শামীম ও তার দলভুক্ত সন্ত্রাসীরা গত ২৪ নভেম্বর মটিয়াটিলাস্থ আজির উদ্দিনের ভূমিতে সশস্ত্র হানা দেয়। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান শামীমের বড়ভাই বিলাল হোসেন, ভাতিজা কেফায়েত উল্লাহ, নারাইনপুর গ্রামের আঞ্জব আলী আঞ্জু, আঞ্জব আলী আঞ্জু’র পুত্র রাজু ও শাহরিয়ার এবং দক্ষিণ সুরমার গোপশহরের এমদাদুল হক-সহ ১৫/২০ জন লোক আজির উদ্দিনের কাছে ৫ লাখ চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় তারা তাদেরকে ওই ভূমি ভোগদখল করতে দেবে না এবং তাকে ও তার স্বজনদের হত্যা ও গুম করে ফেলবে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় শামীমের লোকজন অস্ত্রের মুখে আজির উদ্দিনের মটিয়াটিলার ভূমি হতে পাথর লুটপাট শুরু করে। ওইদিন থেকে এ পর্যন্ত অস্ত্রের মুখে শামীম ও তার লোকজন আজির উদ্দিনের মটিয়াটিলার ভূমি থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার পাথর লুট করে নেয় এবং আমন রকম কৃষিভূমি খোদাই করে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে শামীম ও তার বাহিনী আজিরকে হত্যা ও গুম করায় ভয় দেখায়। ভীত-সন্ত্রস্থ হয়ে আজির উদ্দিন গত ১২ ডিসেম্বর সিলেটের পুলিশ সুপার বরাবরে শামীম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট, প্রাণনাশের হুমকি ও ক্ষতিসাধনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে আজির উদ্দিন এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দেয়ার পাশাপাশি গত ১৫ ডিসেম্বর থানায় আরেকটি এজাহার দাখিল করেন। কিন্তু শামীমের রাজনৈতিক প্রভাব ও কালো টাকার কারণে আজির উদ্দিনের অভিযোগ আমলে নিতে পারছে না থানা পুলিশ। ফলে বেপরোয়া শামীম বাহিনী আজির উদ্দিনের মালিকানাধীন মটিয়াটিলাস্থ ভূমি সাবাড় করে চলেছে। পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি লুটে নিচ্ছে তার ভূমির লাখ লাখ টাকার পাথর সম্পদ।

১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাস্থ তার গ্রাম পাড়ুয়া ভোটকেন্দ্রে জামায়াত মনোনীত দাড়িপাল্লার প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান-এর পক্ষে কাজ করে শামীমের পরিবার। ফলে ওই আসনে একমাত্র ওই ভোট কেন্দ্রে জামায়াত বিজয়ী হয়েছিল। জামায়াতের বর্তমান আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সাথে তার পিতাসহ পরিবারের গভীর সখ্যতা রয়েছে। ১৯৯৬ সালে শামীমের পরিবার রাজনীতির খোলস পাল্টিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মরহুম স্পীকার হুমায়ন রশীদ চৌধুরীর পক্ষ নিয়ে কাজ করে এবং এরপর থেকে শামীম ও তার পরিবার আওয়ামী লীগ বলে নিজেদের পরিচয় দিতে শুরু করে। এরপর থেকে তাদের আর পিছনে তাকাতে হয়নি। শাসকদলের নাম ভাঙ্গিয়ে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির দখল নেয় এবং চাঁদাবাজি শুরু করে। ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারীর তৎকালীন ইজাদার ছাতকের সুনু মিয়া চৌধুরীর লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে শামীম পরিবারের লোকজন। দেশ স্বাধীনের পূর্বে তার পিতা আব্দুল বাছির খুন করে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাধারন ক্ষমায় তার পিতা আব্দুল বাছির জেল থেকে মুক্তি পান। জেল থেকে বের হয়েই আবার নানা অপরাধ-অপকর্ম শুরু করেন।

Manual3 Ad Code

২০০৮ সালের ২৮ নভেম্বর কোম্পানীগঞ্জের শীর্ষসন্ত্রাসী হিসেবে র‌্যাবের হাতে আটক হয় শামীম। ২০০৭ সালের ৭ ফেব্রয়ারি যৌথবাহিনী তার বাড়ি ঘেরাও করে তাকে আটকের চেষ্টা করলে সে পালিয়ে যায়। ২০১০ সালের ২৬ এপ্রিল ছাতকের কাষ্টমস ইন্সপেক্টর আব্দুল হালিম, সিপাহী সাইফুল ইসলাম ও হবিল মিয়া শামীমের হাতে গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ছাতক এলসি ষ্টেশনের সুপারিনটেন্ডেন্ট লোকমান হাকিম ও তাহির এন্ড সন্স’র কর্মচারী হবিল মিয়া কোম্পানীগঞ্জ থানায় পৃথক এজাহার দাখিল করেন।

শামীম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফুটবল টুর্নামেন্ট এর নামে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেছে। সরকারী দলের মুখোশ পরে এমন কোন অপকর্ম নেই যা শামীম করেনি।

শামীম বাহিনীর এহেন লুটতরাজ ও রাহাজানী প্রতিরোধে তিনি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেয়ায় তারা এখন আজির উদ্দিন ও তার স্বজনদের হত্যা ও গুম করে ফেলার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রাণভয়ে আজির উদ্দিন ও তার স্বজনরা বাড়ি ছেড়ে ভবঘুরে দিন যাপন করছেন।

Manual1 Ad Code

আজির উদ্দিন তার ও এলাকাবাসীর জানমাল এবং সহায় সম্পদ রক্ষায় ‘সন্ত্রাসী শামীম বাহিনী’র বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আজির উদ্দিন ছাড়াও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Manual1 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code