ব্যবস্থাপত্রে অস্পষ্ট লেখায় ডাক্তারকে নোটিশ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: স্পষ্ট অক্ষর ‘পড়ার উপযোগী করে’ চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) লেখার হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও মানছেন না আল হারামাইন হাসপাতাল প্রা: লি: এর কনসালটেন্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এ টি রেজা আহমদ। তার এমন একটি অস্পষ্ট ব্যবস্থাপত্র চোখে পড়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কর্মী সৈয়দ আকরাম আল শাহানের।
মানবাধিকার কর্মী সৈয়দ আকরাম আল শাহান রোগী ও জনস্বার্থে সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী সুব্রত দাশ এর মাধ্যমে ডা. এ টি রেজা আহমদকে একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। তিনি গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ডাক বিভাগ সিলেট অফিসে রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
লিগ্যাল নোটিশে মানবাধিকার কর্মী সৈয়দ আকরাম আল শাহান উল্লেখ্য করেন, চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসকের দুর্বোধ্য হাতের লেখার কারণে একদিকে যেমন রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে লেখা পড়তে না পেরে ফার্মেসী প্রায়ই ভুল ঔষধ ধরিয়ে দিচ্ছে। এতে রোগীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছেন। এ সংক্রান্ত ‘দুর্বোধ্য ব্যবস্থাপত্র; ভুল ঔষধ গ্রহণের ঝুঁকিতে রোগীরা’ শীর্ষক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন যুক্ত করে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করা হয়। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ ‘পড়ার উপযোগী করে স্পষ্ট অক্ষরে চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র লেখার নির্দেশনা দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পরিপত্র জারির নির্দেশ দেন। বিএমডিসি (বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। বিএমডিসির প্রেসক্রিপশন সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয় “রোগীর জন্য ব্যবস্থাপত্রের লেখা সহজবোধ্য করতে তা স্পষ্টভাবে এবং বড় হরফে লেখার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এর প্রতি মহামান্য হাইকোর্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) সকল নিবন্ধিত চিকিৎগণের প্রতি এ নির্দেশনা প্রদান করেছেন যে, এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর হতে তারা যেন সব সময় তাদের ব্যবস্থাপত্রে ঔষধের নাম স্পষ্টাকারে (ইংরেজী বড় অক্ষরে) লিখেন এবং ঔষধের ব্যবহার বিধি স্পষ্ট ও বোধগম্যভাবে লিপিবদ্ধ করেন”। রোগী ও জনস্বার্থে দেশের চিকিৎসকগণ উল্লেখিত নির্দেশনা মেনে চলছেন। এমনকি তারা প্রেসক্রিপশন লিখায় আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুগান্তকারি পরিবর্তন এনেছেন।
ডা. এ টি রেজা আহমদ মহামান্য হাইকোর্ট এবং বিএমডিসির নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে প্রেসক্রিপশন লেখায় সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা প্রদর্শন করে আসছেন। এমনতর অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য প্রেসক্রিপশন সংশ্লিষ্ট রোগীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এমতাবস্থায় রোগী ও জনস্বার্থে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক প্রেসক্রিপশন লেখায় মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলছেন কি না তা আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশকারীকে অবহিত করা- অন্যথায় জনস্বার্থে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নোটিশকারী বাধ্য হবেন বলে নোটিশে উল্লেখ করেন।
Related News
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে বুক বেঁধেছেন সাত্তার- সুরাইয়া দম্পতির শোকাহত সন্তানরা
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয়বার সংবাদ সম্মেলন করে মা-বাবা ও গৃহকর্মী খুনের সুষ্ঠুRead More
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী’র জাতীয় পদক গ্লোবাল পিস অ্যাওয়াড লাভ
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয় সুন্নী ওলামা মাশায়েখ পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগেRead More



Comments are Closed