Main Menu

শ্রীমঙ্গলে গ্রীন টি চায়ের কারখানা উদ্বোধন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আল মুস্তাহিদুর রহমান পিএসসি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানের চায়ের প্রয়োজন ৯০ মিলিয়ন কেজি। গত বছর আমাদের উৎপাদন ছিল ৮২ মিলিয়ন কেজি। গত বছর আমাদের চাহিদার চেয়ে কিছু ঘাটতি ছিল, কিন্তু এ বছর চেষ্টা করছি যতটুকু আমাদের প্রয়োজন যেন সেটুকুই আমরা উৎপাদন করতে পারি। ভবিষ্যতে আমাদের চিন্তা ভাবনা হলো এই বিটিআরআই গবেষনার মাধ্যমে অল্প জমিতে যেন বেশি চা এবং ভাল কোয়ালিটির চা উৎপাদন করতে পারি। এটি যদি আমরা সফল হতে পারি তাহলে অচিরেই দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরা বিদেশে চা রপ্তানি করতে পারবো। আগামি দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই শুধু ব্ল্যাক টি না আমরা গ্রীন টি বিদেশে রপ্তানী করতে পারবো।

গ্রীন টি বছরে ৪০ হাজার কেজি উৎপাদন করা সম্ভব। তবে এটি অনেক ব্যয়বহুল থাকায় প্রথম দিকে কিছুটা কম হতে পারে। এটি কোয়ালিটি ঠিক রাখতে হলে শুধু তিনটি পাতা দিয়েই উৎপন্ন করতে হবে। তবে ভাল পাতা পেলে ভবিষ্যতে আরো বেশি উৎপন্ন করতে পারবো।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ চা গবেষনা কেন্দ্রে গ্রীন টি চায়ের কারখানা উদ্বোধন করতে এসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চা বোর্ডের সচিব কুল প্রদীপ, চা গবেষনা কেন্দ্রের পরিচালক মোহাম্মদ আলী, প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক একেএম রফিকুল হকসহ চা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশে বর্তমানে গ্রীন টি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গ্রীন টি পানীয় হিসেবে ব্ল্যাক টি’র সাথে সাথে। এখন অনেক লোকজন আছেন যারা গ্রীন টি পানীয় হিসেবে পান করেন। গ্রীন টি’র উপকারটাও ব্ল্যাক টি’র চেয়ে অনেক বেশি।

বাংলাদেশ টি রিসার্চ ইনষ্টিটিউট একটা অত্যন্ত সুনামধন্য প্রতিষ্টান। যেটা শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত, সেখানে আগে একটা ব্ল্যাক টি’র ফ্যাক্টরী ছিল, চায়ের গবেষনা এবং চা সমন্ধে জানান জন্য এবং বিভিন্ন ধরনের চা প্রস্তুত করার জন্য আর বিটিআরআই’কে সম্মৃদ্ধ করার জন্য আজ আমরা এই গ্রীন টি ফ্যাক্টরী সংযোজন করেছি। এটির মাধ্যমে আমাদের বাংলাদেশ টি রিসার্চ ইনষ্টিটিউট আরো আধুনিকায়ন হলো।

এছাড়া এতো বড় গ্রীন টি’র ফ্যাক্টরী বাংলাদেশের আর কোথার নেই, এটিই বাংলাদেশের সর্বাধুনিক গ্রীন টি’র ফ্যাক্টরী। এটির মেশিনারী সব চায়না থেকে নিয়ে আসা হয়েছে এবং চায়নিজরাই এটি স্থাপন করেছেন। এবং এটি চালানোর জন্য দুই সপ্তাহ ধরে আমাদের লোকজনকে প্রশিক্ষন দিয়েছেন।

আর আমাদের বিটিআরআইয়ের মূল লক্ষ্যটা হলো গুনগত মান ঠিক রেখে কোয়ালিটি চা উৎপাদন করা। আর বেশি চা উৎপন্ন করা। এই দুটার জন্যই আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। গ্রীন টি’র উপকারীতা সম্পর্কে আমরা সবাই জানি এটি ক্যান্সারের ঝুকি অনেক কমে উচ্চ রক্তচাপ অনেক কমে এছাড়াও অনেক উপকার এই গ্রীন টি পানীয় পানে।

আমাদের যে জলবায়ু আছে তাতে সিলেটেই সবচাইতে ভাল চা উৎপন্ন হয়। এজন্যই আমরা এখানেই গ্রীন টি’র ফ্যাক্টরী স্থাপন করেছি। যাতে ভাল পাতা দিয়ে ভাল চা উৎপন্ন করতে পারি। পরবর্তিতে হয়তো আমরা অন্য জায়গাতেও এই গ্রীন টি’র ফ্যাক্টরী করবো।

শ্রীমঙ্গলে এই গ্রীন টি ফ্যাক্টরীর সব খরচ বাংলাদেশ টি বোর্ড থেকে দেওয়া হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। বিল্ডিং ও মেশিনারীজ বাবত। এটি নির্মান করতে প্রায় এক বছর সময় লেগেছে বলে তিনি জানান।

Share





Related News

Comments are Closed