Main Menu

বিশ্বনাথে তালাবদ্ধ ঘর থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সিংগেরকাছ বাজারের প্রবাসি মতলিব আলীর কলোনীর তালাবদ্ধ একটি রুম থেকে খাদিজা বেগম নামে সাড়ে ৪ বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে ওই কলোনীর ভাড়াটিয়া ভ্যান চালক শাহিনুর রহমানের মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বীর কলস গ্রামে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে থানা পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। পুলিশের ধারণা শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর খালি একটি রুমের রান্নাঘরের দেওয়ালে দুটি পিনের সাথে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে সিলেটের ওসমানীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জানা গেছে, তিন সন্তানের জনক ভ্যান চালক শাহিনুর তার স্ত্রী সুমনা বেগমকে নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে ওই কলোনীতে এক রুমের একটি ঘরে বসবাস করে আসছেন। তার ঠিক এক পাশে অপর ভাড়াটিয়া আর অন্য পাশের রুমটিতে থাকতেন আলমগীর ও জামিল নামের দুই যুবক। সম্প্রতি ওই দুই যুবককে মালিক পক্ষ কলোনী থেকে বের করে দিলে সেই রুমটি খালি হয়ে যায়। সেই খালি রুমের রান্না ঘরের দেওয়ালের সঙ্গে ঝুলে থাকা ওই শিশুটির লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

নিহত খাদিজার মা সুমনা বেগম জানান- প্রতিদিনের ন্যায় তার স্বামী (খাদিজার পিতা) মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টায় ভ্যান নিয়ে বাসা থেকে বের হন। তখন তিনি (সুমনা) তার ৮ বছর বয়সী বড় মেয়ে, ২য় মেয়ে খাদিজা ও ১৪ মাস বয়সী পুত্রকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান তার পাশে মেয়ে খাদিজা নেই। তখন তিনি বাসার অন্যান্য বাসিন্দাদের ঘরে গিয়ে মেয়েকে না পেয়ে সিঙ্গেকাছ বাজারের আশপাশে খোঁজাখুজি করেন এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার স্বামীকে এই সংবাদটি দেন। স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে নিখোঁজ মেয়েটির সন্ধান চেয়ে এলাকায় মাইকিং করানো হয়। এরপর বেলা ১টায় খাদিজার ভাড়াটিয়া বাসায় তার পরিবারের বসবাসের পার্শ্ববর্তী একটি পরিত্যক্ত কক্ষ তালাবদ্ধ দেখে স্থানীয় লোকজনদের সন্দেহ হয়। তখন ২য় তলায় বসবাসরত বাসার মালিক যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুস সালাম ও কেয়ারকেটার চান্দসীরকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা ওই কক্ষে তালা ঝুলানোর বিষয়টি অবগত নন বলে জানান। একপর্যায়ে ওই কক্ষের দরজার তালাটি ভেঙ্গে কক্ষের ভিতরের রান্না ঘরের দেয়ালের সাথে দুটি লোহার আলপিনে ঝুলন্ত বাধা অবস্থায় খাদিজার লাশ দেখতে পান লোকজন। বিষয়টি থানা পুলিশকে খবর দিলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) সাইফুল ইসলাম ও বিশ্বনাথ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. দুলাল আকন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিশুটি লাশ উদ্ধার করেন। এরপর সুরতহাল রিপোর্ট শেষে রাত ১০টায় ময়না তদন্তের জন্য লাশ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করা হয়। তবে কেন কে বা কারা এই শিশুটিকে হত্যা করেছে তা জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে জানতে ওসমানীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিসন্দেহে এটি একটি হত্যাকান্ড। শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর পরিকল্পিতভাবে গলায় রশি দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা রাখা হয়েছে। তবে কেন শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে এবং কারা করেছে এই রহস্য উদঘাটনে চেষ্টা চলছে। এজন্য শিশুটির পরিবার, বাসার অন্যান্যা বাসিন্দা, কেয়ারকেটা ও মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শিগগিরই এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে।

Share





Related News

Comments are Closed