Main Menu

শিক্ষাঙ্গনে অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

শাবি প্রতিনিধি: শিক্ষাঙ্গনে অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপু মনি বলেছেন, মাদক, সন্ত্রাস প্রতিরোধ করে জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চার সুযোগ বাড়াতে সকলকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ, আশ্রয় ও অস্ত্র দিয়ে ভারত সহযোগিতা করেছে। আমাদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামে এভাবে সহযোগিতা করার জন্য ভারতের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই। ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, প্রকৃতি সব কিছুই এই দু’দেশের মানুষের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্কের ভিত্তি রচনা করেছে। দুটি দেশের এই অঞ্চলগুলো এক ও অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ। আমরা ভবিষ্যতেও একই সঙ্গে থাকবো। আমাদের যে সমস্যাগুলো সেগুলোও প্রায় এক। বিশেষ করে দু’দেশের এই উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আমাদের মূল সমস্যা হল দারিদ্রতা। আর দারিদ্রতাকে জয় করতে হলে আমাদেরকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের মানুষের যে আশা-আকাঙ্খা, যে স্বপ্ন, সেগুলোও এক। সেই স্বপ্নগুলো পূরণেও আমাদেরকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে, চিন্তা-চেতনায় এক সঙ্গে চলতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে। তার জন্য আজকের এই আন্তর্জাতিক উপাচার্য সম্মেলনকে একটি অসাধারণ উদ্যোগ বলা যায়।

শনিবার (৬ এপ্রিল) সকালে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অব ভাইস চ্যান্সেলর’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সুসম্পর্কের ইতিহাসকে ধারণ করে। আগামী দিনগুলোতে দ্বিপাক্ষিক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার দ্বার আরও প্রসারিত হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের দুইটি অঞ্চলের যেখানে গবেষণা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা হয়, সেসব জায়গার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যারা পরিচালিত করেন তাদের নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলন একটি মহৎ উদ্যোগ। এই পুরো অঞ্চলের চিন্তার জগৎ আজ এক সঙ্গে হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী দুই অঞ্চলের মানুষ এক সঙ্গে এগিয়ে যাবো। যাতে নতুন নতুন জ্ঞানের পথ তৈরি হয়। আজকের এই সম্মেলনকে বলা যেতে পারে ‘ইন্টেলেকচুয়াল পাওয়ার হাউজ’। এই দু’দেশের মধ্যে আইডিয়ার সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের মাধ্যমে দুই অঞ্চল বিভিন্ন দিক দিয়ে এগিয়ে যাবে, আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবে। আর এক্ষেত্রে আইসিভিসি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, যদি রক্ত হয় স্বাধীনতার দাম, তাহলে বাংলাদেশ সবচেয়ে দাম দিয়ে স্বাধীনতা কিনেছে। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে হলে আমাদের সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের সমাজে জ্ঞান-বিজ্ঞানের একটি বিশাল ভান্ডার তৈরি করে সকলকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের বিদ্যাপিঠগুলোকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ নামক সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখতে চাই। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরকে শুধু ডিগ্রিধারী নয়, আলোকিত মানুষ হতে হবে।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, আসামের গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মৃদুল হাজারিকা ও মেঘালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মাহবুবুল হক। এছাড়াও বক্তব্য দেন সম্মেলনের কনভেনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিদ মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ ও স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম। অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান, শাবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ, ভারতের গৌহাটি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মৃদুল হাজারিকা, মেঘালয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মাহবুবুল হক।

ইন্টারনেশনাল কনভেনশন অব ভাইস চ্যান্সেলর’স (আইসিভিসি-২০১৯) শিরোনামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে প্রথম এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল প্রদেশগুলোর ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চ্যান্সেলর ও ১৫ জন ভাইস চ্যান্সেলর অংশগ্রহণ করেছেন।

সম্মেলনে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের এই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষদেরকে দেখলে ভিন্ন মনে হয় না। আমাদের সংস্কৃতি, ভাষা ও মনমানসিকতা একই ধরনের। রাজনৈতিক কারণে আমরা আলাদা দেশে ভাগ হয়ে বাস করতে পারি, কিন্তু চিন্তাগতভাবে আমরা একই। আমি চাই এই সম্মেলনের মাধ্যমে এই দুই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার একটি দ্বার উন্মোচিত হউক।

অধ্যাপক ড. মৃদুল হাজারীকা বলেন, শাবিপ্রবি এটি শুরু করেছে। আমরা চাই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে এমন আরও সম্মেলন হোক। এ ধরনের সম্মেলনের ফলে জ্ঞান, মতামত, উদ্ভাবন নিজেদের মধ্যে বিনিময় করা যাবে।

শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের এ অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের নিয়ে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও সাংস্কৃতিকসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে একটি সংযোগ তৈরি হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে একটি সেতুবন্ধুন তৈরি করা হবে, যাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার অন্যতম একটি পথ তৈরি হয়। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যদি বিশেষ কোনো বিষয়ে এগিয়ে থাকে, তাহলে আমাদের মাঝে তা শেয়ার করা যেতে পারে।

এদিন বেলা ১১টায় শাবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আমন্ত্রিত উপাচার্যদের নিয়ে ‘দ্য কনভেশন’ নামে একটি উন্মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় এবং এই অঞ্চলগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে দুপুর আড়াইটায় শাবিপ্রবির উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে উপাচার্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মেলনে শাবিপ্রবির শিক্ষক-কর্মকর্তা, পিএইচডি ও এমফিলের শিক্ষার্থীরা এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ অংশগ্রহণ করেছেন। আগামীকাল রোববার (৭ এপ্রিল) আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে সিলেট শহর ও দশর্নীয় স্থানসমূহ ভ্রমণ করা হবে।

Share





Related News

Comments are Closed