Main Menu

জনপ্রিয় অভিনেতা টেলি সামাদ আর নেই

বিনোদন ডেস্ক: বাংলা চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা টেলি সামাদ আর নেই। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আজ দুপুর ২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

টেলি সামাদ স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন।

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার জামে মসজিদে শনিবার বাদ মাগরিব অথবা এশার নামাজের পর টেলি সামাদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ মুন্সিগঞ্জের নয়াগাওয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এই কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদের জন্ম ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারী মুন্সীগঞ্জ শহরের নয়াগাঁও গ্রামে। তার আসল নাম আবদুস সামাদ হলেও সিনেমায় এসে হয়ে যান টেলি সামাদ। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা টেলি সামাদের বড়ভাই বিখ্যাত চারুশিল্পী আব্দুল হাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটে।

টেলি সামাদের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।

তার পরিবার জানায়, টেলি সামাদের শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শুক্রবার রাত ২টার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়ে। শনিবার বেলা ২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কতৃব্যরত চিকিৎসক। তিনি ডা. প্রতীক দেওয়ানের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

টেলি সামাদের কন্যা সোহেলা সামাদ কাকলী বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের শক্তিমান এই কৌতুক অভিনেতা। গত বছরের শেষের দিকে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ায় তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সে সময় তার অবস্থার অবনতি হলে বিএসএমএমইউ এর আইসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়। এর আগে টেলি সামাদ ঢাকার পান্থপথে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সে সময় চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, টেলি সামাদের বুকে ইনফেকশন রয়েছে, তার ডায়াবেটিস রয়েছে। আর রক্তের প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা।

প্রসঙ্গত, ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা টেলি সামাদকে এর আগে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়। গত বছরের ২০ অক্টোবর তার বাঁ পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।

সংগীতেও ছিলো এই গুণী অভিনেতার পারদর্শিতা। প্রায় ৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন তিনি। ‘মনা পাগলা’ ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি।

নজরুল ইসলামের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালের দিকে ‘কার বৌ’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে এই অঙ্গনে পা রাখেন তিনি। তবে দর্শকদের কাছে যে ছবিটির মাধ্যমে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন সেটি হলো ‘পায়ে চলার পথ’। সবশেষ ২০১৫ সালে ‘জিরো ডিগ্রী’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ৬০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed