Main Menu

মণিপুরীদের ভাষা শহীদ দিবস পালিত

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষা শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ক্ষুদ্র নৃতাত্তি¡ক জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষাগুলো একের পর এক এখন বিলুপ্তির হুমকিতে। বিলুপ্তির এই হুমকি রোধ করে নৃতাত্তি¡ক জনগোষ্ঠীর ভাষা রক্ষা ও বিকাশে এখনই উদ্যোগ নেয়া জরুরী। এজন্য রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুবা আরোও অনেক ভাষা বিলুপ্তির হুমকিতে পড়বে।

শনিবার সকালে বাংলাদেশ মণিপুরী ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা এমন সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন।

আলোচনা সভার আগে আয়োজক ও অতিথিরা নগরীতে শোক র‌্যালী বের করা ছাড়াও শহীদ স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

বাংলাদেশ মণিপুরী ছাত্র পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সহ সভানেত্রী রুমা সিনহার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আলোচক ছিলেন, গ্রেটার সিলেট ইনডিজিনাস পিপলস ফোরামের কো-চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনন্দ মোহন সিংহ, বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক কমিশনের সভাপতি ফয়সল আহমদ বাবলু, বাংলাদেশ ফটো জার্ণালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় সভাপতি মামুন হাসান, মণিপুরী সমাজকল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমলা বাবু সিংহ, সিলেট জেলা শাখার সভাপতি নির্মল কুমার সিংহ, মণিপুরী থিয়েটারের সভাপতি, কবিও নাট্যকার শুভাশিস সিনহা, নাট্যমঞ্চ সিলেট’র সভাপতি রজত কান্তি গুপ্ত, জীবনমান উন্নয়ণ সংস্থা ইনোভেটরের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক প্রণব কান্তি দেব, প্রখ্যাত নাট্য অভিনেত্রী জ্যোতি সিনহা।

অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন মণিপুরী ভাষার মুখপত্র ইথাক’র সম্পাদক সংগ্রাম সিংহ, বামছাপ সিলেট মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সজল কান্তি সিংহ ও মহিলা সম্পাদিকা শিউরী সিনহা।

এদিকে নাট্যমঞ্চ ও মণিপুরী থিয়েটারের যৌথ প্রযোজনায় সিলেট নজরুল একাডেমীতে অনুষ্ঠিত দু’দিনের প্রদর্শনীর শেষদিনের পরিবেশনা বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষা শহীদ সুদেষ্ণার নামে উৎসর্গ করা হয়।

উল্লেখ্য, গোটা পৃথিবীতে ভাষার জন্য প্রথম নারী কমলা ভট্টাচার্য্য শহীদ হন ১৯৬১ সালের ১৯ মে। বাংলাভাষার আন্দোলনে আসামের শিলচড়ে তিনি শহীদ হন। এরপর ভাষার জন্য পৃথিবীতে দ্বিতীয় নারী হিসাবে শহীদ হন সুদেষ্ণা সিংহ। ১৯৯৬ সালের ১৬ মার্চ মণিপুরী (বিষ্ণুপ্রিয়া) ভাষার দাবিতে ভারতের আসামে ৫০১ ঘন্টার রেল অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে সত্যাগ্রহীদের উপর পুলিশ ব্রাশফায়ার করলে সুদেষ্ণা সিংহ শহীদ হন। এছাড়াও আহত হন সহস্রাধিক সত্যাগ্রহী। এরপর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মণিপুরী(বিষ্ণুপ্রিয়া) জাতিগোষ্ঠী দিনটিকে শহীদ সুদেষ্ণা ও ভাষা শহীদ দিবস হিসাবে পালন করে আসছেন।

Share





Related News

Comments are Closed