Main Menu

সিলেটে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে কিডনী ফাউন্ডেশন

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে স্বল্পমূল্যে সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে কিডনী ফাউন্ডেশন। গত বছর জুলাই থেকে তারা কার্যক্রম শুরু করেছে। কম খরচে তারা এ সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ফাউন্ডেশনের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, এখানে ল্যাবের খরচ অন্যান্য জায়গার তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। বাইরে যে টেস্টের খরচ ১শ’ টাকা, কিডনী ফাউন্ডেশন তা ৭০ টাকায় করে দেওয়া হচ্ছে।

তাছাড়া ফাউন্ডেশনের ল্যাবে বিভিন্ন ট্রাস্টের সহযোগীতাও আছে। গরীব অসহায় মানুষদের সাহায্য করতে তারা প্রতিনিয়তই সক্রিয় বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যেসব গরিব দুঃখী মানুষ পর্যাপ্ত টাকা জোগাড় করতে পারবেন না, তাদের সাহায্য করা হচ্ছে ট্রাস্ট থেকে। কিডনী সংক্রান্ত রোগে যাতে কেউ মারা না যায়, সেজন্যই এ উদ্যোগ।

ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা নাসরীন জানিয়েছেন, বর্তমানে তারা ডায়ালাইসিস ল্যাবসহ ডায়াগনোসিসের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের ২০ জুলাই এবং বর্তমানেও তা ভালোভাবেই অগ্রসর হচ্ছে।

ফাউন্ডেশনের মূল উদ্যোক্তা যুক্তরাষ্ট্র প্রাবাসী কিডনী বিশেষজ্ঞ ড্রেকসেল ইউনিভার্সিটির নেফ্রোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ সাদেক।

সম্প্রতি সিলেটে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, সিলেটে লিভার ও হার্টের জন্য আলাদা চিকিৎসাকেন্দ্র থাকলেও কিডনীর জন্য আলাদা কিছু নেই। আর কিডনী সংক্রান্ত রোগের সংখ্যাও বাড়ছে আশংকাজনক হারে। তাছাড়া এধরণের রোগের চিকিৎসা খরচও বেশি।

মূলতঃ রোগীদের স্বল্প খরচে সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি স্বপ্ন দেখছেন, দেশের বাইরে থেকেও যেন রোগীরা সিলেটে এসে এই ফাইন্ডেশন থেকে সেবা নিতে পারেন। প্রতি মাসে বিদেশ থেকে ডাক্তাররা এখানে চিকিৎসাসেবা দিতে আসবেন।

বর্তমানে এই ফাউন্ডেশনে রোগীদের ভর্তি করে সেবা দেওয়া যাচ্ছেনা। নেফ্রোলজি বিভাগের কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমুস সাকিব (এমবিবিএস, বিসিএস, এমডি ) প্রতি সপ্তাহে বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত রোগী দেখছেন। তাছাডাও আছেন ডা. সোয়েব চৌধুরী (এমবিবিএস, এফআরসিএস)। তিনিও সপ্তাহজুড়ে সেবা প্রদান করছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতালে গেলে মোহাম্মদ রনি মিয়া (২৮) নামক একজনের সাথে আলাপ হয়। তিনি এখানে এসেছেন তার মাকে নিয়ে। ডায়ালাইসিস করাবেন। তিনি শুনেছেন, এখানে খরচ অনেক কম।

তার বক্তব্য, ভাইরে টাকা-পয়সা নেই। আমরা কোথায় যাবো। খরচ যতই হোক, মায়ের চিকিৎসাতো করাতেই হবে। অন্য হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করাতে খরচ হয় সাড়ে ৩ হাজার টাকা। এখানে ১৫শ’ টাকায় করাতে পারছি।

ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কর্নেল এম এ সালাম বীর প্রতিক, একসিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. মুশফিক আহমেদ ডা. নাজমুস সাকিবের সাথে মতবিনিময়ে তারা বলেন, অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ সাদেক অনেক বড় মনের একজন মানুষ। কিডনী রোগীদের সেবা ও স্বার্থ রক্ষার্থে নিবেদিত প্রাণ দেশপ্রেমিকই এমনটা করতে পারে।

ফাউন্ডেশনের জন্য ১শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮তলা নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ চলতি বছরেই শুরু হচ্ছে। সেখানে কিডনী ট্র্যান্সফার, ইউরোলোজিসহ থাকবে কিডনী বিষয়ক ডাক্তারদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থাও। কিডনী গবেষণা কেন্দ্র এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে থাকবে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পও।

Share





Related News

Comments are Closed