Main Menu

পঞ্চগড়ে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১০

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পঞ্চগড়ে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন।

গতকাল শুক্রবার রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের দশমাইল এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন শিশু ও নারীসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

এতে ঘটনাস্থলেই ৫জন নিহত হন, এদের মধ্যে তিন জনের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এবং পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর এক শিশু ও এক নারীসহ ৩ জন এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ২ জন মারা যান। নিহতদের লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের জোতহাসনা গ্রামের সাইদুল ইসলামের স্ত্রী লাভলী বেগম (২৯), সাইদুল ইসলামের ছেলে ইয়াছিন আলী (৭), বোদা উপজেলার কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের উৎকুড়া গ্রামের পুতিনের ছেলে অনিত্য (২০), তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের উত্তর কাসেমপুর এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (৩০), পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের শিতলীহাসনা গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে রেজাউল (২২), তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়ি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে রাসেল (২০), তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের গরিয়াগাছ গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে ইউনুস আলী (২৮), তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের মোমিনপাড়া গ্রামের আজিজুল ইসলামের ছেলে মোজাম্মেল (৩৮), তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের গরিয়াগছ গ্রামের ইউসুফ আলীর পুত্র মনির হোসেন (৬) এবং ডাঙ্গাপাড়া এলাকার ওমর আলীর মেয়ে রাহেলা (২৫)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৮টার দিকে পঞ্চগড় শহর থেকে একটি যাত্রীবাহী বাস বাংলাবান্ধার দিকে যাচ্ছিল এবং তেঁতুলিয়া থেকে একটি বিদ্যুতের পলবাহী ট্রাক পঞ্চগড় শহরের দিকে আসছিল। এ সময় পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের দশমাইল বাজারে ট্রাকটির বাম পাশে একটি বিয়ের গাড়ি (বাস) দাঁড় করানো ছিল। পলবাহী ট্রাকটি বিয়ের দাঁড় করানো বাসটিকে পাশ কাটতে গিয়ে সামনে থেকে আসা যাত্রীবাহী বাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় পুলিশ। এ ছাড়া ঘটনার কারণ উদঘাটনে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহেতেশাম রেজাকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন রায় জানান, দুর্ঘটনায় পলবাহী ট্রাকটি আটক করা গেলেও চালক পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ গোলাম আজম জানান, ঘটনার কারণ উদঘাটনে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় নিহত ১০ জনের পরিবারকে তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আহতদেরও তালিকা করে অর্থ সহায়তা দেয়া হবে।

Share





Related News

Comments are Closed