Main Menu

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের নবম মৃৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আবদুল করিমের জন্মস্থান দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে পালন করা হবে বিশেষ কর্মসূচি।

এর মধ্যে বুধবার সকালে উজানধল গ্রামে বাউল সম্রাটের সমাধিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে শাহ আবদুল করিম পরিষদ। এরপর দুপুরে যোহরের নামাজের পর তাঁর বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে মিলাদ মাহফিল। বিকেলে একই স্থানে অনুষ্ঠিত হবে বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় অংশ নেবেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ। আর সন্ধ্যার পর থেকে রাতব্যাপী চলবে বাউল গানের আসর।

এছাড়াও সিলেটে শাহ আবদুল করিমের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে দিরাই ছাত্রকল্যাণ পরিষদ। নগরের জিন্দাবাজারের একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিতব্য ওই আলোচনা সভায় অংশ নেবেন সিলেটে বসবাসরত দিরাই উপজেলার শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী ও পেশাজীবীরা।

শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘আগেকি সুন্দর দিন কাটাইতাম…’, ‘গাড়ি চলেনা চলেনা চলেনা রে…’, ‘ বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে…’, ‘বন্ধে মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে দিওয়ানা বানাইছে…’ সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান লিখেছেন। তাঁর জীবন দর্শন ও গান নিয়ে বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে প্রামাণ্যচিত্র ও মঞ্চনাটক। তাঁর নিজের রচিত গ্রন্থগুলো হলো- আফতাব সংগীত, গণসংগীত, কালনীর ঢেউ, ধলমেলা, ভাটির চিঠি ও কালনীর কূল।

তিনি ছিলেন শোষণ, বৈষম্যের বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনায় সমৃদ্ধ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ মানুষের অধিকার আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে তাঁর গান মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছে। ১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারি সম্মেলনে উপমহাদেশের বিখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে গান পরিবেশন করেন অবদুল করিম। তিনি সান্নিধ্য পেয়েছেন মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের।

শাহ আবদুল করিম ২০০১ সালে একুশে পদক পান। এছাড়াও তিনি মেরিল-প্রথমআলো আজীবন সম্মাননাসহ আরও অনেক সম্মাননা পেয়েছেন। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম।

Share





Related News

Comments are Closed