বুরুঙ্গা গণহত্যা দিবস আজ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : ১৯৭১ সালের এই দিনে সিলেটের ওসমানীনগরের বুরুঙ্গায় স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগীতায় ৭৮জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে পাকবাহিনী। দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য চললেও বুরুঙ্গা গণহত্যার সাথে সম্পৃক্তদের আজও বিচারের আওতায় আনা হয়নি। যার কারণে একজন স্ত্রী তার স্বামী, একজন সন্তান তার পিতা এবং একজন পিতা তার সন্তান হত্যার বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছে। একই সাথে অনেক শহীদ পরিবার অভাবের সাথে যুদ্ধ করে অনাহার অর্ধাহারে জীবন-যাপন করলেও তাদের ভাগ্য উন্নয়নে সরকারি কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী ও মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে জানা যায়, ৭১এর ২৬ মে রাজাকার আব্দুল আহাদ চৌধুরী (ছাদ মিয়া), ডাঃ আব্দুল খালিকসহ স্থানীয় কিছু রাজাকারের সহযোগীতায় শান্তি কমিটি গঠন ও শান্তি কার্ড প্রদানের কথা বলে বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এলাকার নিরীহ লোকদের ঢেকে এনে ৭৮জন নিরীহ লোককে গুলি করে হত্যা করে। কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং বুরুঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে গর্ত করে গণকবর দেয়। শহীদদের সকলেই ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী। তবে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই এই গণহত্যার সাথে সম্পৃক্ত রাজাকারদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে শহীদ পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও বুরুঙ্গা গণহত্যায় সম্পৃক্তদের বিচারের ব্যাপারে আজও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। যার কারণে স্ত্রী পাচ্ছেনা তার স্বামী হত্যার বিচার এবং সন্তান পাচ্ছে না তার পিতা হত্যার বিচার।
২০১১ সালের ২২ মে এই গণকবর পরিদর্শন করে সাক্ষি-প্রমাণ সংগ্রহ কালে গণহত্যায় স্থানীয় রাজাকারের সম্পৃক্ততার সত্যতা পায় আবদুল হান্নান খানের নেতৃতাধীন মানবতা বিরোধী আন্তজার্তিক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল। তবে রাজাকারদের কেউ আর বেঁচে নেই বলে জানা যায়।
স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক গুলো বছর পেরুলেও অভাবগ্রস্থ শহীদ পরিবারের ভাগ্য উন্নয়নের কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। অভাব অনটনের সাথে যুদ্ধ করে চলছে অনেক শহীদ পরিবার। কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ‘আর কত বয়স হলে ভাতার কার্ড পাবেন শহীদ পত্নী প্রমিলা’ শিরোনামে সমকালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তবুও শত বছর বয়সের এই শহীদ পত্নীর ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড। অর্ধাহার অনাদরে থেকে গত প্রায় ৩-৪ মাস পূর্বে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন এই শহীদ পত্নী।
গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক নিবাস চক্রবর্ত্তী বলেন, বর্বর গণহত্যার মঞ্চে দাঁড়িয়ে চোখের সামনে পিতা এবং আপন ভাইসহ ৭৮জন নিরীহ মানুষকে গুলি করে এবং পুড়িয়ে হত্যা করতে দেখেছি। হত্যা মঞ্চে একাধিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও বিধাতা আমাকে অলৌকিক ভাবে বাঁচিয়ে রাখেন। সেই দিনের ভয়ার্ত স্মৃতি আজও আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। আজও গাঁ শিহরতি হয়ে উঠে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আপ্তাব আহমদ বলেন, গণহত্যার সাথে সম্পৃক্ত অনেক রাজাকাররা বেঁচে নেই। অনেক শহীদ পরিবার অভাবের সাথে যুদ্ধ করে জীবন যাপন করলেও তাদের ভাগ্য উন্নয়নে কোন পদক্ষেপও নেয়া হয়নি।
এদিকে গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে আজ শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
Related News
ওসমানীনগর ট্রাজেডি: এক শিশুসহ ৬ জনের পরিচয় মিলেছে
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের ভয়াবহRead More
গোলাপগঞ্জে মাদক ও ইভটিজিং বিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোলাপগঞ্জে মাদক ও ইভটিজিং বিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।Read More



Comments are Closed